
Sevoke Landslide Update: বর্ষার শুরুতেই পাহাড়ে যাতায়াতের অন্যতম প্রধান ধমনী ১০ নম্বর জাতীয় সড়কে ধসের খাঁড়া ঝুলছে, বিশেষ করে সেবকের শিব মন্দির সংলগ্ন এলাকা এখন কার্যত মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে, প্রতিনিয়ত উপর থেকে আলগা পাথর ও বোল্ডার খসে পড়ায় এই রাস্তাটিকে চরম বিপজ্জনক বলে ঘোষণা করেছে দার্জিলিং জেলা পুলিশ, বৃহস্পতিবার এই এলাকায় একটি বড়সড় ধস নামে, যার জেরে প্রায় ১৭ ঘণ্টা সিকিম ও কালিম্পংগামী এই লাইফলাইন সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে পড়েছিল, রাস্তা সাময়িকভাবে পরিষ্কার করা সম্ভব হলেও পাহাড়ের প্রায় ১০০ ফুট উঁচুতে এখনও বেশ কিছু বিশালাকার বোল্ডার অত্যন্ত বিপজ্জনকভাবে ঝুলে রয়েছে।
সামান্য বৃষ্টি হলেই মাটি সরে সেই পাথর যে কোনও সময় নীচে যাতায়াতকারী যানবাহনের ওপর ভেঙে পড়তে পারে, এই চরম আশঙ্কা থেকে শুক্রবার সেবকের ধসপ্রবণ এলাকায় ঝুলন্ত বোল্ডার নীচে নামানোর জন্য দমকলকে ডেকে আনা হয়, নীচ থেকে পাইপের মাধ্যমে তীব্র গতিতে জল স্প্রে করে দিনভর সেই বোল্ডার নামানোর চেষ্টা চালানো হয়। যার জেরে পুলিশকে দিনভর দফায় দফায় যান চলাচল বন্ধ রাখতে বাধ্য হতে হয়, যার জেরে সেবক থেকে শিলিগুড়ি আসার পথে আট মাইল এলাকা পর্যন্ত ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়, পাহাড়ি রাস্তায় সার দিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে শয়ে শয়ে গাড়ি, এর আগে পুলিশ প্রথমে বন দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল, কিন্তু বনকর্মীরা এসে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে এই বিশালাকার পাথর নীচে নামানো তাঁদের পক্ষে সম্ভব নয় বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এমন পরিস্থিতিতে শিলিগুড়ি থেকে দমকলের ইঞ্জিন তলব করা হয়, কিন্তু রাস্তার তীব্র যানজট পেরিয়ে সেবকে পৌঁছাতে দমকলের গাড়িগুলির অনেকটা সময় লেগে যায়, শেষপর্যন্ত দুই দফায় দুটি ইঞ্জিন সেবকে পৌঁছায় এবং সেবক পুলিশের উপস্থিতিতে জল স্প্রে করে পাথরগুলি নামানোর চেষ্টা করা হলেও তাতে তেমন একটা লাভ হয়নি।
দার্জিলিং জেলা পুলিশের জারি করা এক সরকারি নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, ধসের বিপদ পুরোপুরি না কাটা পর্যন্ত এই রাস্তায় স্বাভাবিক যান চলাচল শুরু করা সম্ভব নয়, জনস্বার্থ ও নিরাপত্তার খাতিরে সিকিম থেকে শিলিগুড়িগামী যানবাহনগুলিকে মুনসং ও গরুবথান হয়ে যাতায়াত করতে বলা হয়েছে, অন্যদিকে কালিম্পং থেকে আসা গাড়িগুলিকে করোনেশন সেতু, মংপং ও গজলডোবা হয়ে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, পরিস্থিতি বুঝে কালিম্পংয়ের পুলিশ সুপারকেও এই ডাইভারশন বা রুট পরিবর্তনের নিয়মগুলি কড়াভাবে রূপায়ণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এদিকে ভারী মালবাহী গাড়ি যাতে শিলিগুড়ি থেকে সেবকের দিকে যেতে না পারে, তার জন্য শালুগাড়া চেকপোস্টেই সেগুলির মুখ ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, ওই গাড়িগুলি মূলত গজলডোবা ও ডুয়ার্স হয়ে সিকিম ও কালিম্পংয়ের দিকে রওনা দিচ্ছে,
একটানা এই অচলাবস্থার জেরে সাধারণ যাত্রী থেকে শুরু করে নিত্যযাত্রীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে, প্রধাননগরের বাসিন্দা পেশায় মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ সুমন রায় শিলিগুড়ি থেকে গ্যাংটক যাওয়ার পথে সেবকের কাছে এসে শেয়ার গাড়িতে আটকে পড়েন, তিনি জানান যে সেবকের ধস অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং তিস্তা বাজার পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গাই ধসপ্রবণ, দমকলের জল ছিটিয়ে কতটা পাথর নামানো সম্ভব তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন প্রবল বৃষ্টি হলে মাটি সরে এই পাথর নেমে আসবেই, একই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন কালিম্পংয়ের আলগারার ব্যবসায়ী দীনেশ সাহু, যিনি শিলিগুড়ি থেকে বিদ্যুতের সামগ্রী কিনে ফিরছিলেন, বর্ষার শুরুতেই ধসের এই যন্ত্রণা এবং আবহাওয়া দপ্তরের ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস আগামী দিনগুলিতে পাহাড়ের বাসিন্দাদের আরও ভোগাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, তবে দমকলের জল ছেটানো বন্ধ হলে ফের সেবক হয়ে ছোট গাড়ির যান চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক হয়।