
Teesta River Hill Landslide: উত্তরবঙ্গে টানা বর্ষণের জেরে নদীনালা ফুঁসছে এবং পাহাড়জুড়ে বাড়ছে ধসের আতঙ্ক। গত রাত থেকে কালিম্পং ও সিকিমে প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে তিস্তা নদীর জলস্তর দ্রুত হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে তিস্তা বাজার সংলগ্ন এলাকায় নদীর জল বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় একাধিক নিচু এলাকা ইতিমধ্যে জলমগ্ন। এর জেরে দার্জিলিং ও কালিম্পংকে সংযুক্তকারী গুরুত্বপূর্ণ সড়কের একাংশ প্লাবিত হয়েছে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে এই রুটে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি আরও জটিল করে সোমবার সকালে সেবকের বাঘপুলের কাছে ১০ নম্বর জাতীয় সড়কে ধস নামে। ফলে ওই রাস্তায় দীর্ঘক্ষণ যানচলাচল স্তব্ধ থাকে এবং বাধ্য হয়ে ডুয়ার্স দিয়ে গাড়িগুলিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ভারী বৃষ্টির কারণে তিস্তা অববাহিকায় জলস্তর আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং পাহাড়ি এলাকায় নতুন করে ধস নামতে পারে বলে প্রশাসনিক কর্তারা মনে করছেন। রাস্তা থেকে জল নামার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ফের যান চলাচল শুরু করা হবে এবং আপাতত সবাইকে বিকল্প রুট ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। রথযাত্রার আগে বড় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং এবার ৫ লক্ষ টাকার অনুদান পাবেন এঁরা। এদিকে দক্ষিণবঙ্গেও অপরাধের খবর মিলেছে এবং দমদমে খুন হয়েছে এক কুখ্যাত দুষ্কৃতী যাকে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলিতে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয়েছে।
আরও ধসের আশঙ্কা
আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানা গেছে যে টানা কয়েক দিনের বর্ষণে পাহাড়ের মাটি এখন অনেকটাই নরম হয়ে গেছে। গভীর রাতে বৃষ্টির তীব্রতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে এবং এই সময়েই ধস নামার ঝুঁকি সবথেকে বেশি থাকে। পাহাড়ি রাস্তায় দৃশ্যমানতা কমে যাওয়া এবং ঝোড়ো হাওয়ার জেরে ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে রাত ১২টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত সর্বস্তরের মানুষকে বিশেষ সচেতন থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজ ভারী বৃষ্টির সতর্কতার পাশাপাশি দার্জিলিং থেকে মালদা সব জেলাতেই ঝড় বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা জারি থাকবে। বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টি ওপরের দিকের পাঁচ জেলাতে বেশি হবে এবং বজ্রবিদ্যুৎসহ হালকা মাঝারি বৃষ্টির সাথে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার গতিবেগে দমকা ঝোড়ো বাতাস বইতে পারে।
একাধিক জেলায় হলুদ সতর্কতা
মঙ্গলবার দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার জেলাতে ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা থাকবে। বুধবার ও বৃহস্পতিবার ভারী বৃষ্টির কোনও সতর্কতা নেই কিন্তু শুক্রবার ফের কালিম্পং এলাকায় ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পার্বত্য এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কার পাশাপাশি নদীর জলস্তর বেড়ে কোথাও কোথাও বিপদ সীমার ওপর দিয়ে বইতে পারে এবং নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মৌসম ভবনের তরফে বলা হয়েছে যে দক্ষিণ বাংলাদেশে এবং উত্তর পূর্ব বিহারে জোড়া ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছে যার ফলেই উত্তরবঙ্গে এই ভারী বৃষ্টির সতর্কতা। তবে বুধবার ও বৃহস্পতিবার বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমবে এবং শুক্রবার থেকে ফের ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা জারি হবে। আগামী ২৪ ঘণ্টাতেও উত্তরবঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় নদী সংলগ্ন এলাকা ও পাহাড়ি রাস্তায় অতিরিক্ত সতর্ক থাকার আবেদন জানিয়েছে প্রশাসন।
প্রশাসনের সতর্কবার্তা
এই পরিস্থিতিতে দার্জিলিং জেলা প্রশাসন পরিস্থিতির দিকে সার্বক্ষণিক নজর রাখছে এবং কোনও প্রকার গুজব না ছড়িয়ে শুধুমাত্র সরকারি তথ্যের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়েছে। দার্জিলিংয়ের পাহাড়ি পথে যাতায়াতকারী এবং নিচু এলাকার বাসিন্দাদের উদ্দেশে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কয়েকটি জরুরি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। আজ রাত ১২টার পর থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত পাহাড়ি রাস্তায় গাড়ি চালানো থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাড়ির আশেপাশে মাটির কম্পন বা অস্বাভাবিক ফাটল নজরে এলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে। নদীর তীরবর্তী বা খাড়া ঢালু এলাকায় বসবাসকারীরা যেন প্রশাসনের স্থানীয় শিবিরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন সেই পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দার্জিলিংয়ে আগত পর্যটকদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে তারা যেন এই মুহূর্তে হোটেল বা নিরাপদ স্থানে অবস্থান করেন এবং স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিটি নির্দেশ মেনে চলেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের প্রয়োজন ছাড়া যাতায়াত এড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।