
North Bengal And Sikkim Weather Update: উত্তরবঙ্গে প্রাক-বর্ষার শুরুতেই প্রকৃতির রুদ্ররূপ দেখা যাচ্ছে। পঞ্জাব থেকে বিহার পর্যন্ত বিস্তৃত মরশুমি অক্ষরেখার জেরে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প ঢুকছে হিমালয় সংলগ্ন এলাকায়। এর ফলেই উত্তরবঙ্গ ও সিকিমে অবিরাম ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি চলছে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে আগামী সোমবার পর্যন্ত এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বজায় থাকবে এবং জারি করা হয়েছে লাল সতর্কতা। তবে মঙ্গলবার থেকে আবহাওয়ার কিছুটা উন্নতি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই লাগাতার বৃষ্টির জেরে পাহাড় থেকে সমতলে তৈরি হয়েছে ভয়াবহ পরিস্থিতি।
ধসের আশঙ্কায় দার্জিলিং কালিম্পং ও সিকিম প্রশাসন বাড়তি নজরদারি শুরু করেছে। নদীপাড়ের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ চলছে। বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে তিস্তা ও জলঢাকার মতো নদীগুলির ওপর। পাহাড়ি রাস্তায় ধস নামায় এবং নদীগুলির জলস্তর বাড়ায় বহু এলাকা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। প্রশাসনের তরফ থেকে পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া পাহাড়ি রাস্তায় যাতায়াত করতে নিষেধ করা হয়েছে কারণ মাটি আলগা হয়ে যেকোনো মুহূর্তে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
পাহাড়ের পাশাপাশি ডুয়ার্স এবং সমতলের জেলাগুলিতেও পরিস্থিতি অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। আলিপুরদুয়ার জলপাইগুড়ি ও কালিম্পং জেলায় জারি রয়েছে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস। ক্রমাগত বৃষ্টির ফলে পাহাড়ি নদীগুলির জলস্তর বিপদসীমার কাছাকাছি চলে এসেছে। ডায়না জলঢাকা ও গাঠিয়া নদীর জল বাড়ায় বিস্তীর্ণ এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। নদীগুলির পাড় ভাঙন এবং দুর্বল বাঁধের কারণে আতঙ্কিত নদীপাড়ের বাসিন্দারা। বিশেষ করে নাগরাকাটার আপার কলাবাড়ি বস্তি দেবপাড়া বস্তি ও পূর্ব হৃদয়পুরের বাসিন্দারা শনিবার রাতে চরম আতঙ্কে দিন কাটিয়েছেন কারণ গত বছরের ৫ অক্টোবরের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধের একাংশ ডায়না নদীর গর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে ময়নাগুড়ি ও ক্রান্তি ব্লকের নদী সংলগ্ন বহু পরিবার ইতিমধ্যেই জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। সেচ দপ্তরের আধিকারিকরা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছেন। এর মধ্যেই ডুয়ার্স ও উত্তর-পূর্ব ভারতের সংযোগকারী ১৭ নম্বর জাতীয় সড়কের কুজি ডায়না সেতুর সামনের রাস্তায় বড়সড়ো ফাটল দেখা দেওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। লুকসান লাগোয়া এই সেতুর ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পুলিশ ব্যারিকেড করে দিয়েছে এবং ধীরগতিতে গাড়ি চালানো হচ্ছে।
যোগাযোগ ব্যবস্থার দিক থেকে উত্তরবঙ্গ ও সিকিমের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। প্রবল জলের তোড়ে উত্তর সিকিমের ফিডংয়ের ফি খোলায় সদ্য নির্মিত বেইলি ব্রিজটি ভেসে যাওয়ায় জংগু এলাকাটি পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ২৪ ঘণ্টায় মংগনে বৃষ্টি হয়েছে ১৪৭.৩ মিলিমিটার। ধসের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে রাকডুং-তিনতাক হয়ে গ্যাংটক ও মংগনের সড়ক যোগাযোগ। সমতলেও পরিস্থিতি তথৈবচ। চরতোর্ষা নদীর জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় ফালাকাটা-আলিপুরদুয়ার সড়ক যোগাযোগ সোমবারও স্বাভাবিক হয়নি। চরতোর্ষা ডাইভারশনের ওপর দিয়ে প্রবল বেগে জল বইছে এবং মাটির রাস্তাটি ভেঙে যাওয়ায় হেঁটে পার হওয়াও অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এর আগে দুধিয়ায় হিউমপাইপের অস্থায়ী সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় শিলিগুড়ি-মিরিক সরাসরি যান চলাচল বন্ধ ছিল এবং রবিবার ১২ নম্বর রাজ্য সড়কের গয়াবাড়িতে ধস নামায় স্থানীয়রা ব্যাপক সমস্যায় পড়েন। প্রশাসন নতুন ধসপ্রবণ এলাকাগুলি চিহ্নিত করে নজরদারি চালাচ্ছে এবং বাসিন্দাদের সতর্ক করছে।