
Amul ice cream factory North Bengal: হাওড়ার পর উত্তরবঙ্গেও কারখানা খুলবে আমূল। তার জমি বাছাইয়ের কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার এমনটাই জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন প্রশাসনিক কর্মসূচিতে উত্তরবঙ্গে যান। জানান, রাজ্য সরকার এই কারখানার জন্য ১৫ একর জমি চিহ্নিত করেছে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি সাঁকরাইলে বিশ্বের বৃহত্তম দই উৎপাদন কেন্দ্র চালু হয়। তার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকেই আরও ২টি কারখানার আর্জি করেছিলেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গে আমূল আইসক্রিম কারখানা গড়লে গবাদি পশু পালনের প্রবণতা বাড়বে। এতে গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হবে। পাশাপাশি, অত্যাধুনিক আইসক্রিম কারখানায় কর্মী ছাড়াও ভেন্ডর, সাপ্লায়ারদের কর্মসংস্থান হবে। দুধ পরিবহন, প্যাকেজিং, কোল্ড স্টোরেজ, হকার, ডিস্ট্রিবিউটর এবং বিক্রেতাদেরও বড় বাজার তৈরি হবে।
উল্লেখ্য, উত্তরবঙ্গের মতোই, দক্ষিণবঙ্গেও এমনই এক আইসক্রিম কারখানার প্রস্তাব দিয়েছেন শুভেন্দু। উত্তরবঙ্গের এই কারখানায় মূলত আইসক্রিম তৈরি হবে। পরবর্তীকালে মাখন (Butter) সহ অন্যান্য দুগ্ধজাত পণ্যও তৈরি হতে পারে।
উত্তরবঙ্গকেই কেন বেছে নেওয়া হল?
উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি, শিলিগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং সংলগ্ন অঞ্চলগুলিতে দুগ্ধজাত পণ্যের চাহিদা আছে। তবে প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র এবং বড় ব্র্যান্ডের নিজস্ব উৎপাদন ইউনিট নেই। ফলে এখানকার গোয়ালারা দুধের ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হন।
আমূলের নতুন আইসক্রিম কারখানা চালু হলে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সরাসরি কাঁচা দুধ সংগ্রহ বা প্রকিউরমেন্ট করা হবে। এর ফলে দুধের সুনির্দিষ্ট ও ন্যায্য বাজারমূল্য নিশ্চিত হবে। অনেকেই গরু কিনে ব্যবসায় নামারও আগ্রহ পাবেন।
গত ১৯ জুলাই হাওড়ার সাঁকরাইলে বিশ্বের বৃহত্তম দই প্ল্যান্টের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন কেন্দ্রীয় সমবায় মন্ত্রী অমিত শাহ। প্রায় ৭০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ। সেই মঞ্চ থেকেই উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গে আমূলের দু'টি নতুন আইসক্রিম কারখানা তৈরির প্রস্তাব দেন শুভেন্দু। সেই প্রস্তাবের সপ্তাহ পার হতে না হতেই তড়িঘড়ি জমি চিহ্নিতকরণের কাজ শেষ করে ফেলল রাজ্য সরকার। এবার এই প্রকল্প কতদিনে বাস্তবায়িত হয়, সেদিকেই তাকিয়ে উত্তরবঙ্গবাসী।