
তুষারপাত শুরু হয়ে গিয়েছে সিকিমে। আবার ধসেও বিধ্বস্ত রাজ্যটির একাংশ। দার্জিলিঙেও একাধিক জায়গায় ধস নেমেছে বলে জানা যাচ্ছে। বৃষ্টির জেরে এমনিতেই তিস্তা চোখ রাঙাচ্ছে। তার উপর ধস। ফলে দার্জিলিং ও সিকিমে একাধিক রাস্তা বিপর্যস্ত।
দার্জিলিঙের সিংতাম এলাকায় বৃষ্টির জেরে পাহাড়ের মাটি আলগা হয়ে ধস নেমেছে। ফলে সিংতাম গ্রামের সঙ্গে যোগাযোগকারী রাস্তাটি বন্ধ হয়ে যায়। সুখিয়াপোখরিতেও গ্রামে ধস নেমেছে। এদিকে বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপের জেরে বৃষ্টিও দার্জিলিঙে।
সিকিমের কী অবস্থা এখন?
পশ্চিম সিকিমের রিম্বি গ্রামে নতুন করে ধস নামার খবর পাওয়া যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ওই গ্রামে ধসে বেশ কয়েকটি বাড়ি ভেঙে গিয়েছে বলে খবর। তবে হতাহতের কোনও খবর নেই। রিম্বির পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং গোলে। তিনি জানিয়েছেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা ও সুস্থতাই সরকারের অগ্রাধিকার। প্রশাসনিক তত্পরতা তুঙ্গে। তবে বৃষ্টি না থামলে দুশ্চিন্তা থেকেই যাচ্ছে।
রিম্বি নদীর গতিপথ বদলে গিয়েছে
এর আগে নিক খোলসা নদীর কাছে বিপুল পরিমাণ ধসের ধ্বংসাবশেষ জমেছিল। বৃষ্টির জলে সেই মাটি-পাথর নীচের দিকে রিম্বি গ্রামের দিকে নেমে আসে। প্রবল বৃষ্টি এবং জল ও ধ্বংসাবশেষের স্রোতে রিম্বিতে একটি RCC সেতুও ভেসে যায় বলে জানা যাচ্ছে। ধসের জেরে রিম্বি নদীর গতিপথও বদলে যায়। নদীর স্রোতে রাস্তার পাশের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ফেরাতে তুলনামূলক উঁচু জায়গায় একটি সেতু তৈরির কথাও ভাবছে প্রশাসন।
১০ নম্বর জাতীয় সড়কও বিপর্যস্ত
সিকিমের সঙ্গে শিলিগুড়ির প্রধান যোগাযোগপথ ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক ফের বিপর্যস্ত ধসে। বরদাং এবং ২০ মাইল এলাকায় মাত্র ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে আবার ধস নামে। এর ফলে দিনের অধিকাংশ সময় বরদাং ও ২০ মাইল দিয়ে যান চলাচল বন্ধ রাখতে হচ্ছে। যাত্রী ও পণ্যবাহী গাড়ির জন্য দুগাখোলা হয়ে বিকল্প পথ খোলা রাখা হয়েছে। টানা বৃষ্টিতে তিস্তার জলস্তরও অনেকটা বেড়েছে। নদীর সংলগ্ন নিচু এলাকা এবং পাহাড়ি রাস্তার ঝুঁকিপূর্ণ অংশে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। প্রশাসনের আশঙ্কা, বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে নতুন করে ধস নামতে পারে।