
Marriage Fraud Case North Bengal: প্রেমের ফাঁদ পেতে সর্বস্ব লুটে নেওয়ার আরও এক নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী হলো শিলিগুড়ি। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক মহিলার সঙ্গে সহবাস এবং দফায় দফায় প্রায় ১০ লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করল ভক্তিনগর থানার পুলিশ। ধৃত যুবকের নাম আজমতউল্লাহ। পুলিশ জানিয়েছে, তার আসল বাড়ি উত্তর দিনাজপুরের ডালখোলায়। বুধবার মাটিগাড়া এলাকার একটি নামী শপিং মলের সামনে থেকে পুলিশ তাকে পাকড়াও করে। বৃহস্পতিবারই ধৃতকে জলপাইগুড়ি আদালতে পেশ করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত গত বছর। সেবক রোডের একটি নামী পাবে (Pub) আলাপ হয়েছিল উত্তর দিনাজপুরের ডালখোলার বাসিন্দা আজমতউল্লাহর সঙ্গে রানিডাঙার বাসিন্দা এক মহিলার। সেই আলাপ গড়াতে বেশি সময় নেয়নি। দ্রুত তাঁদের মধ্যে বন্ধুত্ব এবং পরে তা গভীর প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়।
অভিযোগকারিণী জানিয়েছেন, একদিন গভীর রাতে বাড়ি ফেরার পথে আজমতউল্লাহ তাঁর জন্য একটি হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করে। সেখানেই বিয়ের টোপ দিয়ে প্রথমবার ওই মহিলার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে সে। এরপর থেকেই তাঁদের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হতে থাকে। আর এই ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়েই শুরু হয় আসল খেলা। বিয়ের আশ্বাস ও নানা ব্যক্তিগত অজুহাত দেখিয়ে ওই মহিলার কাছ থেকে ধাপে ধাপে মোট ৯ লক্ষ ৭০ হাজার ৩০০ টাকা হাতিয়ে নেয় অভিযুক্ত যুবক।
কিন্তু বেশিদিন এই প্রতারণার ছক ঢাকা থাকেনি। কিছুদিন আগে অভিযুক্ত আজমতউল্লাহকে অন্য এক যুবতীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলেন ওই মহিলা। তখনই তাঁর মনে খটকা লাগে। এরপর তিনি বিয়ের জন্য চাপ দিতেই আসল রূপ প্রকাশ পায় যুবকের। বিয়ের প্রসঙ্গ উঠলেই সে বারবার এড়িয়ে যেতে শুরু করে। নিজের ভুল বুঝতে পেরে এবং প্রতারিত হয়েছেন নিশ্চিত হয়েই গত ১১ মে ভক্তিনগর থানার দ্বারস্থ হন রানিডাঙার ওই বাসিন্দা।
লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে বুধবার ওত পাতে পুলিশ। মাটিগাড়ার একটি নামী শপিং মলের সামনে থেকে পাকড়াও করা হয় আজমতউল্লাহকে। ধৃতের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। এই চক্রের পিছনে আর কেউ রয়েছে কি না, কিংবা এর আগেও আজমতউল্লাহ এভাবে কোনও মহিলাকে প্রেমের জালে ফাঁসিয় টাকা লুটেছে কি না, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছেন ভক্তিনগর থানার তদন্তকারী আধিকারিকরা।