Advertisement

TMC নেতার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারে রহস্য, ছিলেন শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী মহম্মদ আইনুল হক একসময় প্রদেশ কংগ্রেসের হাত ধরে নিজের কেরিয়ার শুরু করেছিলেন। কংগ্রেসে থাকাকালীন তিনি একাধিকবার গ্রাম পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতির নির্বাচনে জয়লাভ করেন। রাজনৈতিক জীবনের শুরুর দিকে তিনি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান এবং পরবর্তীকালে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পদের দায়িত্ব অত্যন্ত সফলভাবে সামলান।

TMC নেতার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার, শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ ছিলেনTMC নেতার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার, শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ ছিলেন
Aajtak Bangla
  • শিলিগুড়ি,
  • 13 Jun 2026,
  • अपडेटेड 8:15 PM IST

শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ তথা তৃণমূল নেতা মহম্মদ আইনুল হকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল ফাঁসিদেওয়ায়। শনিবার সকালে ফাঁসিদেওয়া ব্লক এলাকার নিজস্ব বাসভবন থেকেই বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদের দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় খুন নাকি আত্মহত্যা তা নিয়ে রহস্য দানা বেঁধেছে। পুলিশ ইতিধ্যেই মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠিয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

খবর পেয়েই ফাঁসিদেওয়া থানার পুলিশ হাসপাতালে ও ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্তে নামে। মৃতের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে যে তিনি দীর্ঘদিন ধরে একাধিক জটিল শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে মানসিক অবসাদ থেকে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন নাকি এর পেছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তাঁর এই আকস্মিক মৃত্যুতে গোটা উত্তরবঙ্গ তথা তৃণমূল রাজনৈতিক মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এই প্রসঙ্গে শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের সভাধিপতি অরুণ ঘোষ গভীর শোক প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে আইনুল সাহেব কেন এমন চরম পদক্ষেপ করলেন তা তিনি কিছুতেই বুঝতে পারছেন না এবং তিনি দ্রুত নিহতের পরিবারের সাথে দেখা করতে তাঁর বাড়িতে যাবেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী মহম্মদ আইনুল হক একসময় প্রদেশ কংগ্রেসের হাত ধরে নিজের কেরিয়ার শুরু করেছিলেন। প্রবল বাম জমানাতেও কংগ্রেসের পতাকা ধরেই তিনি একাধিকবার গ্রাম পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতির নির্বাচনে জয়লাভ করেন। রাজনৈতিক জীবনের শুরুর দিকে তিনি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান এবং পরবর্তীকালে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পদের দায়িত্ব অত্যন্ত সফলভাবে সামলান। এরপরেই তিনি কংগ্রেস ছেড়ে ঘাসফুল শিবিরে যোগদান করেন এবং দ্রুত শিলিগুড়ি মহকুমায় তৃণমূলের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও প্রধান মুখ হয়ে ওঠেন। তৃণমূলের আমলে তিনি মহকুমা পরিষদের বিরোধী দলনেতা এবং সহকারী সভাধিপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদেও আসীন ছিলেন। বর্তমানে তিনি দার্জিলিং জেলা সমতল তৃণমূলের কোর কমিটির একজন সক্রিয় সদস্য থাকার পাশাপাশি শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছিলেন।

Advertisement

সম্প্রতি অতিক্রান্ত হওয়া বিধানসভা নির্বাচনেও তিনি দলের হয়ে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছিলেন। যদিও এবারের নির্বাচনে রাজ্যে শাসক দলের রাজনৈতিক পালাবদল ঘটেছে এবং শিলিগুড়ি ও ফাঁসিদেওয়া এলাকায় তৃণমূলকে বিজেপির কাছে পরাজয় স্বীকার করতে হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে যে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই এলাকায় আইনুল সাহেবের উপস্থিতি তেমন একটা চোখে পড়ছিল না। এর মাঝেই শনিবার সকালে পরিবারের সদস্যরা বাড়ির ভেতর তাঁর গলায় ফাঁস লাগানো ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান। তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে ফাঁসিদেওয়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

 

 

Read more!
Advertisement
Advertisement