Advertisement

Siliguri Town Station Rennovation: আগের রূপে ফিরছে শিলিগুড়ি টাউন স্টেশন, কী প্ল্যান রেলের?

১৮৮১ সালে কলকাতার সঙ্গে পাহাড়ের রানি দার্জিলিংয়ের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর থেকেই শিলিগুড়ি টাউন স্টেশনটি উত্তরবঙ্গের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে ওঠে। বর্তমান সময়ে নিউ জলপাইগুড়ি বা এনজেপি থেকে শিলিগুড়ি জংশন পর্যন্ত ডবল লাইনের প্রস্তাব অনুমোদন পাওয়ার পর এই টাউন স্টেশনের গুরুত্ব ও উপযোগিতা বাণিজ্যিক ও কৌশলগতভাবে আরও অনেকখানি বৃদ্ধি পেয়েছে।

শতাব্দী প্রাচীন হেরিটেজ শিলিগুড়ি টাউন স্টেশনকে নতুনভাবে পুরনো রূপে ফিরিয়ে দিতে উদ্যোগ রেলেরশতাব্দী প্রাচীন হেরিটেজ শিলিগুড়ি টাউন স্টেশনকে নতুনভাবে পুরনো রূপে ফিরিয়ে দিতে উদ্যোগ রেলের
Aajtak Bangla
  • শিলিগুড়ি,
  • 26 Jun 2026,
  • अपडेटेड 7:31 PM IST

উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত শতাব্দী প্রাচীন শিলিগুড়ি টাউন স্টেশনের দিন বদলের পালা অবশেষে শুরু হতে চলেছে। মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, মহাত্মা গান্ধী, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, স্বামী বিবেকানন্দ, ভগিনী নিবেদিতা, চিত্তরঞ্জন দাশ, বাঘাযতীন এমনকি বিশ্বখ্যাত সাহিত্যিক মার্ক টোয়েনের মতো বরেণ্য ব্যক্তিত্বদের পদধূলিতে ধন্য এই ঐতিহাসিক স্টেশনটি দীর্ঘদিন ধরে চরম অবহেলার শিকার হচ্ছিল।

ঐতিহাসিক এই হেরিটেজ ভবনটি কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল, যেখানে রাত বাড়লেই বসত ভবঘুরেদের আড্ডা, মাদকাসক্তদের আনাগোনা এবং নানাবিধ অসামাজিক কার্যকলাপ। স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে এই অমূল্য ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ করে একটি সংগ্রহশালা গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসলেও তা এতদিন বাস্তবায়িত হয়নি। স্টেশনের ছাদের উপর জঙ্গল গজিয়ে উঠেছিল এবং ভবনের বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়ছিল।

এই পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়ে এবার কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছে রেল কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের কাটিহার ডিভিশনের ডিআরএম বীরেন্দ্রকুমার নাড়া স্বয়ং এই স্টেশনটি পরিদর্শনে আসেন। ভবনের জীর্ণ দশা দেখে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানান যে বিশেষজ্ঞদের সুনির্দিষ্ট পরামর্শ নিয়ে ভবনটিকে তার আদি ও আসল রূপে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

পুরনো শিলিগুড়ি টাউন স্টেশনের ছবি

যেহেতু এটি একটি হেরিটেজ বিল্ডিং, তাই এর নিজস্বতা ও প্রাচীন স্থাপত্যশৈলী সম্পূর্ণ বজায় রেখেই সংস্কারের কাজ করা হবে। একই ছাদের তলায় স্টেশনের এই সমৃদ্ধ এবং গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসকে ধরে রাখতে একটি আধুনিক সংগ্রহশালা বা মিউজিয়াম গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ডিআরএম স্পষ্ট জানিয়েছেন যে আগামী এক বছরের মধ্যে এই সমস্ত সংস্কার কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং এই কাজের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দও মঞ্জুর হয়ে গিয়েছে।

১৮৮১ সালে কলকাতার সঙ্গে পাহাড়ের রানি দার্জিলিংয়ের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর থেকেই শিলিগুড়ি টাউন স্টেশনটি উত্তরবঙ্গের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে ওঠে। বর্তমান সময়ে নিউ জলপাইগুড়ি বা এনজেপি থেকে শিলিগুড়ি জংশন পর্যন্ত ডবল লাইনের প্রস্তাব অনুমোদন পাওয়ার পর এই টাউন স্টেশনের গুরুত্ব ও উপযোগিতা বাণিজ্যিক ও কৌশলগতভাবে আরও অনেকখানি বৃদ্ধি পেয়েছে। রেলের এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত এবং হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারের আন্তরিক উদ্যোগে স্থানীয় বাসিন্দা, রেলপ্রেমী ও ইতিহাস অনুরাগী মানুষের মধ্যে খুশির হাওয়া বয়ে গিয়েছে। এলাকাবাসীর জোরালো আশা যে সংস্কারের পর ঐতিহাসিক এই টাউন স্টেশনটি আবার নতুন করে প্রাণ ফিরে পাবে, বহু গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনের স্টপেজ এখানে দেওয়া হবে এবং সামগ্রিকভাবে এই গোটা অঞ্চলের আর্থসামাজিক চেহারাই পুরোপুরি বদলে যাবে।

Advertisement

 

Read more!
Advertisement
Advertisement