
Mathabhanga Cooch Behar corruption: তৃণমূলের জমানায় একসময় থানার ভেতরে ঢুকে খোদ শাসক দলের নেতাদের তাণ্ডব চালানোর নজির দেখেছিল রাজ্যবাসী। সে সময় তৃণমূলী হামলার হাত থেকে নিজের চামড়া বাঁচাতে থানার টেবিলের তলায় লুকিয়ে পড়তে হয়েছিল এক পুলিশ কর্মীকে। তা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে কম জলঘোলা হয়নি। কিন্তু রাজ্যে ক্ষমতা ও পালাবদল ঘটতেই এবার উলটপুরাণ! এবার পুলিশের ভয়ে এবং বিক্ষুব্ধ জনতার তাড়া খেয়ে ঘরের খাটের নিচে সেঁধিয়ে গেলেন এক দাপুটে তৃণমূল নেতা। আর এই বেনজির দৃশ্যের সাক্ষী থাকল গোটা রাজ্য।
চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে কোচবিহারের মাথাভাঙা-১ ব্লকের জোরপাটকি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। ধৃত নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে গরিব মানুষের কাছ থেকে ৫ হাজার থেকে শুরু করে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত কাটমানি পকেটে পুরেছেন ওই নেতা। এতদিন মুখ বুজে সব সহ্য করলেও, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল হতেই আর তর সয়নি এলাকার ক্ষুব্ধ বাসিন্দাদের। কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ঘেরাও করা হয় নেতার বাড়ি। বেগতিক দেখে এবং গণধোলাইয়ের ভয়ে ঘরের খাটের নিচে আশ্রয় নেন ওই তৃণমূল নেতা। শেষমেশ মাথাভাঙা থানার পুলিশ গিয়ে খাটের তলা থেকে তাঁকে টেনেহিঁচড়ে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার জোরপাটকির ১৩১ নম্বর বুথের পঞ্চায়েত সদস্য বিউটি বিবির স্বামী শহিদুল মিঞা জনরোষ থেকে বাঁচতেই ঘরের খাটের নিচে সেঁধিয়ে গিয়েছিলেন। আপাতত পুলিশ তাঁকে আটক করেছে। এলাকা সূত্রে খবর, শহিদুল মিঞা একসময় পেশায় সিভিক ভলান্টিয়ার ছিলেন। যদিও পরে কোনও কারণে তাঁকে সেই কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। কাজ হারালেও এলাকায় নিজের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পুরোদস্তুর তৃণমূল নেতা বনে যান তিনি।
অভিযোগ, নিজের ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে আবাস যোজনা-সহ সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার টোপ দিয়ে দেদার টাকা তুলতেন শহিদুল। এর আগে যদি কেউ এই কাটমানি রাজের প্রতিবাদ করার চেষ্টা করত, তবে নিজের দলবল ও ক্ষমতার চাবুক খাটিয়ে তাঁদের মুখ বন্ধ করে দিতেন এই নেতা। সে সময় ভয়ে কেউ টু শব্দটি করার সাহস পাননি। কিন্তু দিন তো সবার সমান যায় না! রাজ্যে হাওয়া বদল হতেই রুখে দাঁড়ান গ্রামের শোষিত মানুষ।
বুধবার শহিদুলের বাড়ি ঘেরাও করে শুরু হয় তুমুল বিক্ষোভ। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে ক্ষুব্ধ জনতা ‘চোর চোর’ স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি নেতার বাড়ি লক্ষ্য করে মুহুর্মুহু ইটবৃষ্টি এবং ডিম ছুড়তে শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যে এলাকা যেন এক রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। গণরোষের এই চরম রূপ দেখেই বীরপুঙ্গব নেতার সমস্ত দাপট উবে যায় এবং নিজের প্রাণ বাঁচাতে তিনি সোজা খাটের নিচে গিয়ে আশ্রয় নেন। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং খাটের তলা থেকে শহিদুলকে বের করে নিজেদের হেফাজতে নেয়। ক্ষমতার হাতবদল হতেই যেভাবে একসময়ের ত্রাস খাটের নিচে গিয়ে মুখ লুকোলেন, তা নিয়ে এখন জোর চর্চা চলছে জেলার অলিতে-গলিতে।