Advertisement

TMC Leaders Return Cutmoney Coochbehar: মাথাভাঙায় ঢাকঢোল পিটিয়ে 'কাটমানি' ফেরত দিলেন TMC নেতারা, জনরোষের ভয়?

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই ফকিরেরকুঠি এলাকায় একপ্রকার সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল ঘাসফুল শিবিরের কিছু নেতা ও পঞ্চায়েত সদস্য। গরিব মানুষের আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে জমি কেনাবেচা, সবেতেই চলত অবাধ তোলাবাজি।

TMC Leaders Return Cutmoney Coochbehar: মাথাভাঙায় ঢাকঢোল পিটিয়ে 'কাটমানি' ফেরত দিলেন TMC নেতারা, জনরোষের ভয়?TMC Leaders Return Cutmoney Coochbehar: মাথাভাঙায় ঢাকঢোল পিটিয়ে 'কাটমানি' ফেরত দিলেন TMC নেতারা, জনরোষের ভয়?
Aajtak Bangla
  • মাথাভাঙা (কোচবিহার),
  • 31 May 2026,
  • अपडेटेड 7:49 PM IST

TMC Leaders Return Cutmoney Coochbehar: কোচবিহারে নজিরবিহীন ও চরম লজ্জাজনক ঘটনা। বেগতিক বুঝে এবার প্রকাশ্য দিবালোকে, ভরা স্কুলমাঠে গ্রামবাসীদের ডেকে ‘কাটমানি’র টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হলেন তৃণমূলের স্থানীয় নেতারা! লোকসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই এলাকার এক দাপুটে নেতা ঘরছাড়া। কিন্তু জনরোষ থেকে বাঁচতে শেষমেশ তাঁর বৃদ্ধ বাবাকেই ময়দানে নেমে ছেলের হয়ে পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে হলো, গুনতে হলো টাকা। রবিবার চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে কোচবিহারের মাথাভাঙা-১ ব্লকের পচাগড় গ্রাম পঞ্চায়েতের ফকিরেরকুঠি এলাকায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই ফকিরেরকুঠি এলাকায় একপ্রকার সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল ঘাসফুল শিবিরের কিছু নেতা ও পঞ্চায়েত সদস্য। গরিব মানুষের আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে জমি কেনাবেচা, সবেতেই চলত অবাধ তোলাবাজি। এমনকি কারণ-অকারণে ভয় দেখিয়ে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে সাধারণ মানুষের পকেট কাটা হতো। কিন্তু সদ্য সমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে রাজনৈতিক হাওয়া বদল হতেই এলাকাছাড়া হন ওই অভিযুক্ত নেতারা। গণরোষের ভয়ে এখনও পর্যন্ত হন্যে হয়ে খুঁজেও দেখা মিলছে না অভিযুক্ত স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যের।

পলাতক ছেলের হয়ে টাকা ফেরালেন বাবা
চাপ যে কতটা মারাত্মক, তা বোঝা গেল রবিবারের ফকিরেরকুঠি এলাকার স্কুলমাঠের দৃশ্যে। রীতিমতো সভা ডেকে গ্রামবাসীদের পাওনা গণ্ডা বুঝিয়ে দিলেন তৃণমূলের বুথ সভাপতি তপন দে। তিনি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগীর টাকা ফেরত দেন। তবে সবচেয়ে নজরকাড়া দৃশ্য ছিল এলাকার ‘প্রভাবশালী’ তৃণমূল নেতা বাবাই বর্মণের বাবার উপস্থিতি। ছেলে ভয়ে এলাকাছাড়া হলেও, পিঠ বাঁচাতে বাবা নিজেই হাজির হয়ে ছেলের তোলাবাজির টাকা গ্রামবাসীদের হাতে তুলে দেন।

টাকা ফেরত পেয়ে সুদীপ দাস নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, "জমির একটা বিবাদের মীমাংসা করার নামে আমার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা কামিয়েছিলেন স্থানীয় এক তৃণমূল নেতা। কিন্তু কাজ কিছুই হয়নি। লোকমুখে শুনলাম নেতারা নাকি টাকা ফেরাচ্ছেন, তাই এসে নাম লিখিয়ে টাকা ফেরত নিলাম।" অন্যদিকে, মিঠুন বর্মণ এবং নিখিল বর্মণ নামে দুই যুবকের বিস্ফোরক দাবি, তাঁরা বিজেপিকে সমর্থন করতেন বলেই তাঁদের ওপর এই আর্থিক জুলুম চালানো হয়েছিল এবং ভয় দেখিয়ে টাকা তোলা হয়েছিল। রবিবার তাঁরাও নিজেদের টাকা ফেরত পেয়েছেন।

Advertisement

হিসাব প্রায় ৮০ লক্ষের, মুখে কুলুপ নেতাদের
এই ‘মহতী’ উদ্যোগ নিয়ে গেরুয়া শিবির অবশ্য তীব্র কটাক্ষ করতে ছাড়েনি। বিজেপির মাথাভাঙা-৪ মণ্ডলের সভাপতি সুরেন্দ্র বর্মণ সাফ জানান, "আমাদের কাছে যা হিসাব আছে, তাতে এলাকার পঞ্চায়েত সদস্যসহ বেশ কয়েকজন তৃণমূল নেতা মিলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা কাটমানি তুলেছিলেন। প্রধান অভিযুক্ত পঞ্চায়েত সদস্য ভয়ে মুখ লুকিয়ে থাকলেও, দু-একজন তৃণমূল নেতা বেগতিক বুঝে এখন টাকা ফেরাতে বাধ্য হচ্ছেন।" তবে এই চরম কেলেঙ্কারি এবং ঢাকঢোল পিটিয়ে টাকা ফেরানোর বিষয়ে ক্যামেরার সামনে মুখ খুলতে চাননি উপস্থিত কোনও তৃণমূল নেতাই। সবার মুখেই এখন কুলুপ। রাজনৈতিক মহলের মতে, আইন ও আমজনতার মারের হাত থেকে বাঁচতেই এখন বাধ্য হয়ে ‘সৎ’ সাজার নাটক করছেন এই নেতারা।

 

Read more!
Advertisement
Advertisement