
দক্ষিণ কোরিয়ায় মডেলিংয়ের সুযোগ দেওয়া হবে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এমনই প্রলোভনের ফাঁদে পা দিয়ে বাড়ি থেকে পালায় দুই নাবালিকা। তবে বিপদের আগেই নিউ জলপাইগুড়ি থানার পুলিশের তৎপরতায় শিলিগুড়ি থেকে তাদের নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। তারপর পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয় তাদের।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া দুই নাবালিকাই মালদা জেলার বাসিন্দা। তারা ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। অভিযোগ, সোশ্যাল মিডিয়ায় কয়েকজনের সঙ্গে পরিচয় হয় তাদের। ওই নতুন পরিচিতরা দক্ষিণ কোরিয়ায় মডেলিংয়ের সুযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দুই নাবালিকাকে শিলিগুড়িতে ডেকেছিল।
আর দুই নাবালিকা নিখোঁজ হওয়ার পর তাদের পরিবার প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়। তদন্তে জানা যায়, তারা বাসে করে শিলিগুড়ির উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। তাদের তেনজিং নোরগে বাস টার্মিনাসে কয়েকজনের সঙ্গে দেখা করার কথা ছিল।
এরপর এনজেপি থানার পুলিশ নজরদারি বাড়িয়ে নওকাঘাট এলাকায় বাসে তল্লাশি চালায়। পরে জলপাইমোড় এলাকায় একটি বাসে তাদের খোঁজ মেলে। সেখান থেকে দুই নাবালিকাকে নিরাপদে নামিয়ে আনা হয়। তারপর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
এরপর দ্রুত তাদের পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিবারের সদস্যেরা সেখানে পৌঁছে যান।
ঘটনার খবর পেয়ে বিজেপি নেত্রী ও ইংরেজবাজারের প্রাক্তন বিধায়ক শ্রীরূপা মিত্র চৌধুরী থানায় পৌঁছে যান। সেখানে গিয়ে দুই নাবালিকার সঙ্গে কথা বলেন। তারপর পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করেন।
এরপর সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হন শ্রীরূপা। তিনি জানান, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে একটি বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে। কিন্তু তদন্ত চলার কারণে তিনি এর বেশি মন্তব্য করতে চাননি।
পুলিশ জানিয়েছে, গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় কারা ওই নাবালিকাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল? বিদেশে মডেলিংয়ের প্রলোভন দেখানোর পিছনে কোনও অপরাধচক্র রয়েছে কি? এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে তারা।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, প্রায় এক বছর আগে পিন্টারেস্ট এবং একটি নির্দিষ্ট অ্যাপের মাধ্যমে ‘দিঘি সরকার’ নামে একজনের সঙ্গে দুই নাবালিকার পরিচয় হয়।
অভিযুক্ত তাদের দক্ষিণ কোরিয়ায় কে-পপ আইডল হওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। ধীরে ধীরে তাদের বিশ্বাস অর্জন করে। নাবালিকাদের দাবি, তাদের কোরিয়ান ভাষা ও সংস্কৃতি শেখার জন্য উৎসাহ দেওয়া হয়। পাশাপাশি ডেমনস নামে একটি অনলাইন গ্রুপে যুক্ত করা হয়। সেখানে নাকি বিভিন্ন নির্দেশ, যাতায়াত সংক্রান্ত তথ্য এবং লোকেশন শেয়ার করা হতো।
তদন্তের মুখে দুই নাবালিকা আরও জানিয়েছে, তাদের পরিবারকে কিছু না জানিয়ে বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে আসতে রাজি করানো হয়। বলা হয়, প্রথমে তাদের ভুটান নিয়ে যাওয়া হবে। তারপর সেখান থেকে দক্ষিণ কোরিয়ায় পাঠিয়ে বিনোদন জগতে প্রশিক্ষণ ও কেরিয়ারের সুযোগ করে দেওয়া হবে।
যদিও এত কিছু হওয়ার আগেই একটি এনজিও এবং পুলিশের তৎপরতায় বড় বিপদ হয়নি। ভারতীয় সীমান্ত পার হওয়ার আগেই দুই নাবালিকাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।