
Gorkhaland Jila Parishad: অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে পাহাড়ের উন্নয়নে পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের বরাদ্দের অর্থ ঘোষণা করল কেন্দ্রীয় সরকার। পাহাড়ে জেলা পরিষদ না থাকায় এই বরাদ্দ এত বছর পাওয়া যায়নি। রাজ্যের তরফে পাঠানো আবেদনের ভিত্তিতে গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (GTA)-কে জেলা পরিষদের মর্যাদা দিয়েছে কেন্দ্র। অন্যান্য জেলা পরিষদের কমিশনের বরাদ্দ জিটিএ সদর দফতরে লালকুঠি পাঠাবে কেন্দ্র। বরাদ্দ নির্ধারিত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন জিটিএ চিএফ অনিত থাপা। তিনি বলেন, এর ফলে পাহাড়ের উন্নয়নে আরও বেশি উন্নয়নে করা যাবে।
বিভিন্ন জেলা পরিষদ যেভাবে অর্থ পায়, জিটিএ এখন থেকে এভাবেই অর্থ বরাদ্দ পাবে। পাহাড়ে ১৯৮৬ সাল থেকে পঞ্চায়েত সমিতি এবং গ্রাম পঞ্চায়েত এবং এই দ্বিস্তরীয় পঞ্চায়েত ব্যবস্থা রয়েছে। এই পঞ্চায়েতগুলি ও ২০০৫ সাল থেকে কোনও নির্বাচন না হওয়ায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ফলে সমস্ত উন্নয়ন বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল।
দার্জিলিং এবং কালিম্পং এর পার্বত্য এলাকা ২০১১ সালে জিটিএ চুক্তিতে পাহাড়ে ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত ব্যবস্থার কথা বলা থাকলেও, তা এতদিন পর্যন্ত সংবিধান স্বীকৃত হয়নি। এই জটিলতায় ২০১১ সালের পরেও এতদিন পাহাড়ে কোনও পঞ্চায়েত ভোটও করা যায়নি। অবশেষে ২০২৩ সালে রাজ্য পঞ্চায়েত ভোট করিয়েছে। কিন্তু কেন্দ্রের পরিকাঠামো জেলা পরিষদের মাধ্যমেই বরাদ্দ আসে। কিন্তু পাহাড়ে জেলা পরিষদ না থাকায় সেটিতেও বাদ সাধছিল। এরপরেই জিটিএ তরফে অনিত থাপা রাজ্যকে চিঠি দিয়ে জিটিএকে জেলা পরিষদের মর্যাদা দেওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন। পরেই এই মর্যাদা স্বীকার করা হয় কেন্দ্রের তরফে আর তারপরেই বরাদ্দ নিয়ে সমস্ত জটিলতা কেটে যায়।
এর আগে জানা গিয়েছে, পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের প্রায় ২৫০ কোটি টাকা পেতে চলেছে পাহাড়ের ১১২টি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং ৯ টি পঞ্চায়েত সমিতি। পাহাড়বাসীর দীর্ঘদিনের দাবি মেনে ২৩ বছর পর দার্জিলিং (পার্বত্য অঞ্চল) এবং কালিম্পং জেলায় দ্বিস্তরীয় পঞ্চায়েত ভোট হয়েছে এ বছর ৮ জুলাই। ফলে দু’দশক পর জিটিএ এলাকায় গ্রাম পঞ্চায়েত এবং পঞ্চায়েত সমিতি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি পেয়েছে। নির্বাচন না হওয়ার কারণে এতদিন এই এলাকার জন্য গ্রামোন্নয়ন প্রকল্পের টাকা বরাদ্দ করত না কেন্দ্রীয় সরকার। অবশেষে নির্বাচন হওয়ায় রাজ্যের বাকি অংশের মতো পাহাড়ের জন্যও গ্রামোন্নয়ন খাতে টাকা দিতে রাজি হয়েছে কেন্দ্র।