
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভোটে ভরাডুবি হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের। তারপর থেকেই ভেঙে খান খান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। উল্টো দিকে বাংলায় বাড়তে শুরু করেছে ভারতের জাতীয় কংগ্রেস। নিয়মিত এই দলে যোগদান করছেন তৃণমূলের নেতা ও কর্মীরা। আর সেই ট্রেন্ড বজায় রেখে শনিবারও একটি তৃণমূল থেকে কংগ্রেসে যোগদান কর্মসূচি হল। সেখানে হাওড়া জেলার সাঁকরাইল ব্লক থেকে বর্তমান কর্মাধ্যক্ষ শেখ মহম্মদ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে প্রাক্তন গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য, প্রাক্তন কর্মাধ্যক্ষ সহ প্রচুর নেতা-কর্মী আজ কংগ্রেসে যোগদান করেছেন বলে জানান হয়েছে।
এ দিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার, হাওড়া জেলার পর্যবেক্ষক সুমন রায়চৌধুরী, জেলা কংগ্রেস সভাপতি পার্থ সারথী ভৌমিক, প্রদেশ কংগ্রেসের সম্পাদক অলোক কোলে, অজিতেশ পান্ডে, ওমপ্রকাশ জয়সওয়াল সহ অনেকে। এই অনুষ্ঠান থেকে জানান হয়, এই যোগদান ছাড়াও হাওড়া জেলা কংগ্রেস দফতরে প্রায় ৫০০ তৃণমুলের নেতা ও কর্মী যোগ দিতে চলেছেন আগামী ২ থেকে ১ দিনের মধ্যে।
এই বিষয়টা সম্পর্কে সুমন রায়চৌধুরী বলেন, 'এটা তো হওয়ারই ছিল। কংগ্রেস ছাড়া যাঁরা জাতীয়তাবাদী মানসিকতার লোক, তাঁরা তো এমন কোনও শক্তির সঙ্গে কাজ করবে না আগামিদিনে যারা সমাজকে জাতির নামে, ভাষার নামে, ধর্মের নামে বিভাজিত করে। তাহলে বিকল্প কে থাকছে? বিকল্প হচ্ছে জাতীয় কংগ্রেস।'
তিনি জানালেন, আজ প্রায় পুরো সাঁকরাইল পঞ্চায়েত সমিতিই যোগদান করল কংগ্রেসে। কর্মাধ্যক্ষের নেতৃত্বেই এই যোগদান।
সুমনের আরও দাবি, 'আজ আরও ৫০০-৬০০ তৃণমূল নেতাকর্মীর যোগদান করার কথা ছিল। কিন্তু যেহেতু সভাপতি জেলা সফরে রয়েছেন, তাই ওদের মধ্যে যাঁরা নেতৃত্ব দেবেন, তাঁরা এসে যোগদান করলেন। পরবর্তী যোগদান অনুষ্ঠানটা সাঁকরাইলেই হবে। সেখানে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি যাবেন।
পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস মনে করছে, বিজেপির সঙ্গে লড়াই করার ক্ষেত্রে কংগ্রেস ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। বিগত দিনেও ছিল না। কিন্তু অনেকেই হয়তো পারেননি ক্ষমতার থেকে দূরে থাকতে। তাই তারা তৃণমূলের সঙ্গে ঘর বেঁধেছিলেন। এখন তাঁরা ভুল বুঝতে পারছেন। সেই কারণেই এই চারিদিকেই যোগদান।
তৃণমূল থেকে যেই আসবেন, তাঁকেই কি নেওয়া হবে? এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন সুমন। তাঁর মন্তব্য, 'যাঁদের দেখলে মানুষ অসম্মান করছেন না, যাঁরা মানুষের জন্যে কাজ করেছেন, মানুষের পাশে থেকেছেন এবং যাঁদের গায়ে দুর্নীতির কালো দাগ নেই, তাঁরা জাতীয় কংগ্রেসে যোগ দিতে পারেন।' পাশাপাশি তিনি জানালেন, দুর্নীতি ও অত্যাচারের অভিযোগ থাকলে শত চেষ্টা করলেও জাতীয় কংগ্রেসে যোগ দেওয়া যাবে না।