Advertisement

সময়ের আগেই পুলিশের কাছে হাজিরা হুমায়ুনের, প্রাণহানির আশঙ্কা AJUP নেতার

অডিও ক্লিপ কাণ্ডে বহরমপুর থানায় হাজিরা দিলেন হুমায়ুন কবীর। এদিন সকাল ১১টায় নির্ধারিত সময়ের আগেই থানায় হাজির হন তিনি। প্রসঙ্গত, সাম্প্রদায়িক হিংসা উস্কে দেওয়ার ষড়যন্ত্র সংক্রান্ত একটি ভাইরাল অডিওর জেরে আজ ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’র প্রধান হুমায়ুন কবীরকে তলব করা হয়েছে।

নিজের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কায় হুমায়ুন কবীরনিজের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কায় হুমায়ুন কবীর
Aajtak Bangla
  • বহরমপুর ,
  • 21 Sep 2026,
  • अपडेटेड 1:38 PM IST

অডিও ক্লিপ কাণ্ডে বহরমপুর থানায় হাজিরা দিলেন হুমায়ুন কবীর। এদিন সকাল ১১টায় নির্ধারিত সময়ের আগেই থানায় হাজির হন তিনি। প্রসঙ্গত, সাম্প্রদায়িক হিংসা উস্কে দেওয়ার ষড়যন্ত্র সংক্রান্ত একটি ভাইরাল অডিওর জেরে আজ ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’র প্রধান হুমায়ুন কবীরকে তলব করা হয়েছে।

বহরমপুর পুলিশ এদিন বেলা ১১টায় তাঁকে তলব করে। এর আগে একটি অডিও প্রকাশ্যে আসার পর এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছিল, যেখানে তাঁকে হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে কথা বলতে শোনা যায়। ওই অডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, মুসলিম ভোট টানার লক্ষ্যে মুর্শিদাবাদের বাবরি মসজিদে বিজেপির পতাকা লাগানো উচিত।

এদিন পুলিশের কাছে হাজিরা দেওয়ার আগে সংবাদ মাধ্যমের সামনে হুমায়ুন বলেন, হয়রানি করার জন্য চলছে এইসব। শনিবার হুমায়ুনের বাড়িতে নোটিস পাঠায় পুলিশ।  প্রসঙ্গত, ৬ অক্টোবর উপনির্বাচন হবে হুমায়ুনের ছেড়ে দেওয়া বিধানসভা কেন্দ্র রেজিনগরে। এই কেন্দ্রে AJUP প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন হুমায়ুন কবীরের ছেলে। 

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি একটি অডিও ক্লিপ প্রকাশ্যে আসে যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে যায়। ওই অডিও ক্লিপে একটি কথোপকথন শোনা যায় যেখানে সিসিটিভি বন্ধ রাখা এবং গ্যাং তৈরি করে বিভিন্ন এলাকায় মুভমেন্ট করানোর মতো পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলতে শোনা যায়। এই মামলায় ইতিমধ্যেই পুলিশ একজনকে গ্রেফতার করেছে। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে যে ওই অডিও ক্লিপে থাকা কণ্ঠস্বরটি হুমায়ুন কবীরের। যদিও হুমায়ুন কবীর নিজেও স্বীকার করেছেন যে তাঁর কাছে ফোন এসেছিল। এই কথোপকথনের সত্যতা ও পেছনের ষড়যন্ত্র খতিয়ে দেখতেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ।

এদিন অডিয়ো ক্লিপ বিতর্কে বহরমপুর থানায় হাজিরা দিতে যাওয়ার আগে নিজের নিরাপত্তা নিয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করেন নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। বহরমপুরের ফ্ল্যাটে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, উপনির্বাচনের দিন তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। কেন এমন আশঙ্কা করছেন AJUP নেতা? হুমায়ুন কবীরের দাবি, ৬ অক্টোবর রেজিনগরে উপনির্বাচনের দিন ভোট লুঠ হতে পারে, সেই কারণেই তাঁর উপর হামলা হতে পারে।

Advertisement

হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘আমার শেষ দিন হতে পারে ৬ অক্টোবর। কিন্তু একটা মুসলমান বুথে ভোট লুঠ করতে দেব না। আমার উপর গুলি চললে চলবে, আমি নিহত হব। কিন্তু আমি রুখব। মুসলমান সমাজকে বলব, তাঁদের ভোট দিতে যদি পুলিশ বাধা দেয়, কোনও গুন্ডা বাধা দেয়, আমি হুমায়ুন কবীর ময়দানে থাকব।’ প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন? এই প্রশ্নে হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘হতে পারে, কোচবিহারে তো কেন্দ্রীয় বাহিনী গুলি চালিয়েছিল।’ তাঁর পাল্টা তোপ, ‘যদি কেউ গুলি চালায়, আমিও মোকাবিলা করব।’

এদিকে আগেই রেজিনগর উপনির্বাচন নিয়ে হুমায়ুন কবীর বলেছেন, 'আমরা প্রচার করব না। ভোটে যা হবে, হবে। লুঠ করবে পুলিশ। লুঠেরও মোকাবিলা ভোটের দিন করব। তাতে ১০টা খুন হবে। আমার হলে হবে।'তাঁর দাবি, তিনি প্রচারে বেরোলেই দলের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে । পুলিশের ভূমিকা নিয়েও সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন হুমায়ুন । একই সঙ্গে ভোটের দিন রক্তক্ষয়ের আশঙ্কার কথাও বলেছেন নওদার বিধায়ক।

রবিবার রেজিনগরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে হুমায়ুন কবীর জানান, এবার তিনি সরাসরি প্রচারে যাবেন না । তাঁর বক্তব্য, 'যেখানেই যাচ্ছি, আমার লোকেদের গ্রেফতার করা হচ্ছে । পুলিশ দলদাসের ভূমিকা পালন করছে ।' তাঁর অভিযোগ, দলের নেতা-কর্মীদের একের পর এক গ্রেফতার করা হচ্ছে । সেই পরিস্থিতিতে কর্মীদের নিয়ে পথে নেমে প্রচার চালানো সম্ভব নয় বলেই তাঁর দাবি । তবে ভোটের ময়দান পুরোপুরি ছেড়ে দিচ্ছেন না । হুমায়ুনের ঘোষণা, প্রচার হবে তাঁর ফেসবুক পেজে । সেখান থেকেই প্রতিদিন প্রার্থীর হয়ে প্রচার চালাবেন তিনি।

হুমায়ুন কবীর বলেন, ৬ অক্টোবর তিনি মাঠে থাকবেন । তাঁর কথায়, নির্বাচনের দিন কী হয়, তা সে দিনই দেখা যাবে । 'রক্তক্ষয়ে'র আশঙ্কা প্রকাশ করে হুমায়ুন জানান, তাঁর দলের ১০ জন কর্মী খুন হতে পারেন, আবার বিজেপিরও ১০ জন কর্মী খুন হতে পারেন । এই বক্তব্য ঘিরেই নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর তৈরি হয়েছে ।     

Read more!
Advertisement
Advertisement