
পুরুলিয়া জেলার আদ্রা রেলস্টেশনে লিফট আটকে বিপত্তি। বন্ধ লিফটের ভিতরেই আটকে থাকতে হল এক শিশু-সহ একাধিক মহিলাকে। প্রায় তিন ঘণ্টা পর তাঁদের উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘক্ষণ লিফটের দরজা না খোলায় ভিতরে থাকা যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়।
আদ্রা স্টেশনের ৩ ও ৪ নম্বর প্ল্যাটফর্মের সংযোগকারী লিফটটি আচমকাই মাঝপথে বিকল হয়ে যায়। লিফটের দরজাও খুলছিল না। ফলে ভিতরে থাকা শিশু-সহ একাধিক মহিলা যাত্রী দীর্ঘক্ষণ সেখানেই আটকে পড়েন।
লিফটের ভিতরে আটকে পড়ার পর স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন যাত্রীরা। পরিস্থিতির খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন আদ্রা আরপিএফের কর্মীরা। রেলের আধিকারিকদেরও খবর দেওয়া হয়। এরপর রেল ইঞ্জিনিয়ার এবং আরপিএফ কর্মীরা লিফটের দরজা খোলার জন্য উদ্ধারকাজ শুরু করেন।
উদ্ধার অভিযান তদারক করতে ঘটনাস্থলে পৌঁছন আদ্রা ডিভিশনের সিনিয়র ডিআরএম/ডিসিএম বিকাশ কুমার-সহ অন্যান্য রেল আধিকারিকরা। দীর্ঘক্ষণ ধরে লিফটের দরজা খোলার চেষ্টা চালাতে থাকেন রেলের ইঞ্জিনিয়াররা।
ভিতরে আটকে থাকা যাত্রীদের যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, তার জন্য রেল কর্তৃপক্ষ ও আরপিএফের তরফে তাঁদের কাছে পানীয় জল ও বিস্কুট পৌঁছে দেওয়া হয়। তবে দীর্ঘ সময় ধরে লিফটের ভিতরে আটকে থাকার কারণে পরিস্থিতি ক্রমশ উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে।
প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলা উদ্ধার অভিযানের পর অবশেষে লিফটের দরজা খোলা সম্ভব হয়। ভিতরে আটকে থাকা সকল যাত্রীকেই নিরাপদে বাইরে বের করে আনা হয়। লিফট থেকে বেরিয়ে আসার পর কয়েকজন মহিলা যাত্রী কান্নায় ভেঙে পড়েন। এতটা সময় ভিতরে আটকে তাকায় তাঁদের চোখে-মুখে আতঙ্কের ছাপ ছিল স্পষ্ট।
এদিকে এই ঘটনার পর রেলস্টেশনে যাত্রীদের জন্য ব্যবহৃত লিফটগুলির রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। যাত্রীদের প্রশ্ন, একটি লিফট বিকল হয়ে যাওয়ার পর তাঁদের উদ্ধার করতে কেন এতটা সময় লাগল? জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত লিফটের দরজা খুলে যাত্রীদের বের করে আনার মতো পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে কি না, সেই প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে, ঠিক কী কারণে লিফটটি মাঝপথে গিয়ে বিকল হয়ে পড়েছিল, সেই কারণও এখনও সরকারিভাবে স্পষ্ট করা হয়নি। ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে কি না বা লিফটটির রক্ষণাবেক্ষণে কোনও গাফিলতি ছিল কি না, সে বিষয়েও রেলের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।