
বিজেপির যুব মোর্চার এক মণ্ডল সভাপতিকে ঘিরে দলের অন্দরে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ্যে চলে এল। নবনিযুক্ত সভাপতির বিরুদ্ধে অতীতে সিপিআই(এম)-এর সঙ্গে যুক্ত থাকার পাশাপাশি একাধিক অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভে সামিল হলেন বিজেপিরই একাংশের যুব কর্মীরা। যদিও সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন অভিযুক্ত নেতা।
ঘটনার জেরে স্থানীয় বিজেপি সংগঠনের অন্দরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। হুগলির উত্তরপাড়ার তিন নম্বর মণ্ডলের ভদ্রকালী এলাকায় বিজেপির যুব মোর্চার মণ্ডল সভাপতি হিসেবে নান্টু দাসকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই নিয়োগের বিরোধিতা করে শনিবার মণ্ডল কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখান যুব মোর্চার একদল কর্মী। পরে সেখান থেকে মিছিল করে তাঁরা নান্টু দাসের বাড়ির সামনেও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, এই নিয়োগ কোনওভাবেই তাঁরা মেনে নেবেন না। কর্মীদের অভিযোগ, নান্টু দাস দীর্ঘদিন বিজেপির সংগঠনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন না। তাঁদের দাবি, 2026 সালের বিধানসভা নির্বাচনেও তিনি সিপিআই(এম)-এর পোলিং এজেন্ট হিসেবে বুথে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে তিনি সাট্টা-জুয়াসহ একাধিক অসামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও যুক্ত বলে অভিযোগ তোলেন বিক্ষোভকারীরা। তাঁদের বক্তব্য, এমন একজনকে যুব মোর্চার নেতৃত্বে বসানো হলে সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হবে। তাই অবিলম্বে তাঁকে মণ্ডল সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে অন্য কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।
যুব মোর্চার কর্মী অক্ষয় বণিক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা দলের হয়ে আন্দোলন ও সাংগঠনিক কাজ করে চলেছেন। কিন্তু নান্টু দাসকে কখনও বিজেপির পতাকা হাতে কোনও আন্দোলন বা কর্মসূচিতে দেখা যায়নি। তাঁর অভিযোগ, সরকার পরিবর্তনের পর বিধায়কের নেতৃত্বে এলাকায় অসামাজিক কাজের বিরুদ্ধে বিজেপি কর্মীরা ধারাবাহিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন। সেই পরিস্থিতিতে এমন একজনকে সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যাঁর বিরুদ্ধে অতীতে সিপিআই(এম)-এর হয়ে কাজ করার অভিযোগ রয়েছে। এর প্রতিবাদে আগামী দিনেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
অন্য এক যুব কর্মী বিবেক চৌহানও নান্টু দাসের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। তাঁর অভিযোগ, যাঁকে যুব মোর্চার সভাপতি করা হয়েছে, তিনি সুদখোর ও জুয়াখোর। ফলে তাঁকে কোনওভাবেই সভাপতি হিসেবে মেনে নিতে রাজি নন তাঁরা।
অভিযোগের জবাবে নবনিযুক্ত যুব মোর্চার মণ্ডল সভাপতি নান্টু দাস বলেন- কোনওদিনই তাঁর সঙ্গে সিপিআই(এম)-এর কোনও সম্পর্ক ছিল না। কেউ যদি প্রমাণ করতে পারেন যে তিনি সিপিআই(এম)-এর হয়ে কাজ করেছেন, তাহলে তিনি নিজেই সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দেবেন। তাঁর কথায়, দল তাঁর উপর আস্থা রেখে দায়িত্ব দিয়েছে এবং সেই দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করবেন। জুয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি।
- পার্থ রাহা