Advertisement

১২ বছর ধরে বাড়িতে পাননি ইলেকট্রিক, শুভেন্দুর 'জনতার দরবার'-এ ১২ দিনেই সমাধান পেল পরিবার

একযুগ ধরে আবেদন জানিয়েও কাজ হয়নি মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের সরকারের আমলে। আর সরকার বদলাতেই বিদ্যুৎ পেল পুরুলিয়ার পরিবার। মাত্র ১২ দিনে বিদ্যুৎ পেল পরিবারটি।

 শুভেন্দুর 'জনতার দরবার'-এ ১২ দিনেই সমাধান পেল পরিবার শুভেন্দুর 'জনতার দরবার'-এ ১২ দিনেই সমাধান পেল পরিবার
Aajtak Bangla
  • পুরুলিয়া,
  • 27 Jul 2026,
  • अपडेटेड 10:07 AM IST
  • একযুগ পরে অন্ধকার পেরিয়ে আলো জ্বলল পুরুলিয়ার কৃষ্ণ বাউরির পরিবারে।
  • ১২ বছর ধরে টানা বিদ্যুতের আবেদন করে গেলেও ইলেকট্রিক কানেকশন পাচ্ছিল না এই পরিবার।
  • সরকারের বদল হতেই আশার আলো দেখে এই পরিবার।

একযুগ পরে অন্ধকার পেরিয়ে আলো জ্বলল পুরুলিয়ার কৃষ্ণ বাউরির পরিবারে। গত ১২ বছর ধরে টানা বিদ্যুতের আবেদন করে গেলেও ইলেকট্রিক কানেকশন পাচ্ছিল না এই পরিবার। অবশেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জনতা দরবার-এ অভিযোগ জানানোর পরে মাত্র বারো দিনের মধ্যে  দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটল বাউরি পরিবারে।

পুরুলিয়া জেলার পুঞ্চা থানার অন্তর্গত লাউলাদা গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটেছে। জানা গিয়েছে, এই গ্রামেরই বাসিন্দা কৃষ্ণ বাউরির সঙ্গে জমি নিয়ে ঝামেলা রয়েছে প্রতিবেশী বাসিন্দাদের। আর সেই কারণেই কৃষ্ণের বাড়িতে গত প্রায় ১২ বছর ধরে জ্বলছে না বিদ্যুতের আলো। কৃষ্ণর দাবি, কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা তাঁর বাড়িতে বিদ্যুৎ কানেকশন নিতে বিদ্যুৎ বিভাগকে বাধা দিয়েছে।

কৃষ্ণর দাবি, তিনি বিগত ১২ বছরে একাধিকবার ইলেকট্রিক আবেদন জমা দিয়েছেন। এছাড়াও মমতার সরকারের আমলেও বারবার কর্তৃপক্ষের কাছেও গিয়েছিলেন। কিন্তু এত চেষ্টা সত্ত্বেও বিষয়টি নিয়ে কোনও পদক্ষেপ হয়নি। এক দশকের বেশি সময় বিদ্যুৎবিহীন অবস্থাতেই থেকে যায় এই পরিবার।

তবে সরকারের বদল হতেই আশার আলো দেখে এই পরিবার। একেবারে বদ্ধপরিকর হয়ে মেয়েকে নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর 'জনতার দরবার'-এ  চলে যান কৃষ্ণ বাউরির স্ত্রী কল্পনা বাউরি। গত ১৩ জুলাই ৩৪ নং ক্রমিক নম্বরে নিজেদের অভিযোগ জানান তাঁরা। যদিও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে মুখোমুখি দেখা হয়নি এই পরিবারটির। কিন্তু সেখানে উপস্থিতি সরকারি আধিকারিকরা  বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করা হবে বলে আশ্বাস দেন।

যেমন কথা কাজও হয় তেমনই। অভিযোগের পর জনতা দরবারের কর্তারা দ্রুত পুঞ্চা থানায় যোগাযোগ করেন এবং স্থানীয় প্রশাসনকে দেরি না করে দ্রুততার সঙ্গে বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশ অনুযায়ী, পুঞ্চা পুলিশ, পুঞ্চা ব্লক প্রশাসন এবং বিদ্যুৎ বিভাগের আধিকারিকরা যৌথভাবে দীর্ঘদিনের এই সমস্যার সমাধানের প্রক্রিয়া শুরু করে।

প্রশাসনিক সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার জমি বিবাদে জড়িত উভয় পক্ষকে সংশ্লিষ্ট সরকারি আধিকারিকদের উপস্থিতিতে শুনানির জন্য ডাকা হয়। এরপর উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর এবং মামলার সমস্ত প্রাসঙ্গিক দিক খতিয়ে দেখে প্রশাসন বাউরি পরিবারকে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপরেই দেরি না করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অর্থাৎ শুক্রবারই কৃষ্ণ বাউরির বাড়িতে পৌঁছে যায় বিদ্যুৎ বিভাগ। তাঁর বাড়িতে ইলেকট্রিক কানেকশন করা হলে, ১২ বছরের অন্ধকার ঘুচে প্রথমবারের মতো আলো জ্বলে কৃষ্ণ-কল্পনার বাড়িতে।

Advertisement

বাড়িতে প্রথমবারের মতো বৈদ্যুতিক আলো জ্বলায় চোখের জল বাধ মানেনি পরিবারের অনেকের। কৃষ্ণ বলেন, "আমরা অনেক কষ্টের মধ্যে ছিলাম। আমার দুটি সন্তান আছে, এক ছেলে ও এক মেয়ে। আমার মেয়ে নার্স হিসেবে কাজ করে, কিন্তু আমার ছেলের পড়াশোনার ক্ষতি হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার পর সে আর পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেনি, কারণ আমাদের বাড়িতে বিদ্যুতের ব্যবস্থা ছিল না।" কিন্তু এখন বাড়িতে জ্বলেছে আলো। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্য়বাদ জানাচ্ছে পরিবার।

 

Read more!
Advertisement
Advertisement