Advertisement

'রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ', 'মনিটরিং জরুরি', মাদ্রাসা বন্ধ নিয়ে কী বলছেন রাজ্যের বিজেপি নেতারা?

রাজ্যে ২৫২ টি মাদ্রাসা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। এছাড়াও, আরও ১০০-এরও বেশি মাদ্রাসাকে পাঠানো হয়েছে শোকজ নোটিশও। এই সমস্ত মাদ্রাসাগুলির বিরুদ্ধে তদন্তে একাধিক অসঙ্গতি মিলেছে বলে খবর।

দ্রাসা বন্ধ নিয়ে কী বলছেন রাজ্যের বিজেপি নেতারা?দ্রাসা বন্ধ নিয়ে কী বলছেন রাজ্যের বিজেপি নেতারা?
স্বপন কুমার মুখার্জি
  • কলকাতা,
  • 14 Sep 2026,
  • अपडेटेड 1:14 PM IST
  • রাজ্যের ২৫২ টি মাদ্রাসা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য।
  • মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, আলাদা করে কোনো মাদ্রাসা শিক্ষা প্রশাসন আর রাজ্যে রাখা হবে না।
  • এই প্রসঙ্গে মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের বক্তব্যও আরও কড়া।

রাজ্যের ২৫২ টি মাদ্রাসা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য। আরও একশোর বেশি মাদ্রাসাকে পাঠানো হয়েছে শোকজ নোটিশও। এই সমস্ত মাদ্রাসাগুলির বিরুদ্ধে তদন্তে একাধিক অসঙ্গতি মিলেছে বলে খবর। বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন রাজ্যের বিজেপি নেতা-মন্ত্রীরা।

খারিজি মাদ্রাসার যাচাইকরণ নিয়ে রাজ্য সরকারের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, শিক্ষার নামে কোথাও যদি রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ বা ‘অ্যান্টি-ইন্ডিয়া প্রোপাগান্ডা’ চালানো হয়, তাহলে তা বন্ধ করা যে কোনও সরকারের দায়িত্ব। পাশাপাশি তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গে মাদ্রাসা নিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যও একসময় মন্তব্য করেছিলেন। কিন্তু পরে দলের চাপে তিনি তাঁর বক্তব্য পরিবর্তন করেন। তাঁর দাবি, সেই সময় বামফ্রন্ট যদি বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের বক্তব্য মেনে নিত, তাহলে আজ সীমান্তবর্তী এলাকায় যে ধরনের পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে, তা হয়তো বাংলায় তৈরি হতো না। 

তিনি আরও বলেন, "শিক্ষার নামে কখনও অনাথ আশ্রম, আবার কখনও মাদ্রাসার মাধ্যমে যদি দেশবিরোধী প্রচার চালানো হয়, তাহলে তা বন্ধ করা সরকারের দায়িত্ব।" সরকার সেই দায়িত্বই পালন করেছে বলে দাবি করেন তিনি।

সম্প্রতি  মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী শিক্ষা প্রশাসনের আমূল সংস্কার বা মেগা রিস্ট্রাকচারিংয়ের একটা অত্যন্ত জোরালো প্রস্তাব পেশ করেছেন। তিনি সরাসরি ঘোষণা করেছেন, এতদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গে স্কুল শিক্ষা, উচ্চ শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা এবং সংখ্যালঘু শিক্ষা—এই যে আলাদা আলাদা চারটে পৃথক দপ্তর বা বিভাগ আলাদাভাবে পরিচালিত হয়ে আসছিল, সেগুলোর আর কোনো আলাদা অস্তিত্ব থাকবে না! এই সমস্ত আলাদা দপ্তরগুলোকে একসঙ্গে মার্চ বা মার্জ করে সোজা একটা একক বা সিঙ্গেল ডিপার্টমেন্টের আওতায় নিয়ে আসা হবে। আর এই একক কাঠামোর ধাক্কায় রাজ্য থেকে চিরতরে মুছে যাবে আলাদা মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা এবং আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বিশেষ স্বতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক পরিকাঠামো! মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, আলাদা করে কোনো মাদ্রাসা শিক্ষা প্রশাসন আর রাজ্যে রাখা হবে না।

Advertisement

একই সঙ্গে শিলিগুড়ির উত্তরকন্যায় রাজ্যের নারী ও শিশুকল্যাণমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালও জানিয়েছিলেন, "মাদ্রাসা, খারিজি মাদ্রাসা, বেআইনি মাদ্রাসা যদি ভারত-বিরোধী মনোভাব তৈরির জায়গা হয়ে ওঠে,  যেখানে ভারত-বিরোধী মনোভাবের সূচনা হয়, সেই খারিজি মাদ্রাসা রাখতে দেওয়া হবে না। বৈধ মাদ্রাসাতেও আধুনিক শিক্ষা প্রয়োজন। আমাদের ছেলেমেয়েরা ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আইএএস হোক। আমাদের প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নের পথে মুসলিম বাচ্চারা কেন বিচ্ছিন্ন থাকবে? আমরা উন্নয়নের পথে একসঙ্গেই চলব, কিন্তু কোন মাদ্রাসাটি বৈধ আর কোনটি অবৈধ, এবং বৈধ মাদ্রাসাগুলিতে কী ধরনের শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে, সেই বিষয়ে মনিটরিং জরুরি, এর উপর নজরদারি থাকা উচিত।"

এই প্রসঙ্গে  মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের বক্তব্যও আরও কড়া। তাঁর দাবি, "সরকারের অনুমোদন নিয়ে যে মাদ্রাসাগুলি চলছে, সেগুলি চলবে। কিন্তু যেখানে-সেখানে মাদ্রাসা খুলে দেওয়ার প্রবণতাকে সরকার মেনে নেবে না।"

- বৈদ্যনাথ ঝা


 

Read more!
Advertisement
Advertisement