
ফলতা বিধানসভা উপনির্বাচনে বিরাট ব্যবধানে জয়ের পথে বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডা। 'পুস্পা' জাহাঙ্গির খান আগেই ভোটই সরে দাঁড়িয়েছেন। ফলে তৃণমূলের ভোটবাক্স কার্যত শূন্য। আজ, রবিবার ভোটগণনা শুরু হতেই প্রথম থেকেই বড় ব্যবধানে এগিয়ে যেতে শুরু করেন দেবাংশু। তাঁর জয় সময়ের অপেক্ষা মাত্র।
এই প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত মোট ২১ রাউন্ডের মধ্যে ১৪ রাউন্ড গণনা শেষ হয়েছে। ইতিমধ্যেই ৬২ হাজারেরও বেশি ভোটে এগিয়ে বিজেপি। দেবাংশু পণ্ডার প্রাপ্ত ভোট ৯৪৪৬০। সেখানে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন সিপিআইএম প্রার্থী শম্ভুনাথ কুর্মি। তাঁর প্রাপ্ত ভোট ৩২ হাজারের সামান্য বেশি।
অন্যদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের ঘনিষ্ঠ জাহাঙ্গির খান ষষ্ঠ রাউন্ডের পরেই চতুর্থ স্থানে নেমে যান। এখনও পর্যন্ত তিনি পেয়েছেন মাত্র সাড়ে চার হাজারের সামান্য বেশি ভোট।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এবারের ফলতার ভোটে লক্ষাধিক ভোটে লিড পেয়ে জিততে চলেছেন বিজেপি প্রার্থী।
কেন ফলতায় পুনর্নির্বাচন?
২০১১ সালে রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ফলতা তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে একাধিক বুথে ভোটে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। বিজেপির অভিযোগ করেছিল, শাসকদলের কর্মীরা ব্যাপক ভোট কারচুপি করেছে। ভোটারদের ভয় দেখানো, ইভিএমে অনিয়ম এবং ভোট প্রক্রিয়ায় একাধিক বিধিভঙ্গের অভিযোগ সামনে আসার পর নির্বাচন কমিশন আগের ভোটগ্রহণ বাতিল করে পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দেয়।
প্রচারে অনুপস্থিত মমতা-অভিষেক
তৃণমূলের পরাজয়ের পর জল্পনা ছিল, ফলতায় সংগঠন ফের মজবুত করতে সর্বশক্তি ঝাঁপাবে দল। কিন্তু ভোটের আগে প্রচারে দেখা যায়নি মমতা বা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে।
বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, ফলতা কেন্দ্রটি ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত, যার সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই। ফলে তাঁর অনুপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট চর্চার জন্ম দিয়েছে।
‘সিংহম’ বনাম ‘পুষ্পা’ বিতর্ক
ভোটের আগেই খবরের শিরোনামে উঠে এসেছিলেন জাহাঙ্গির খান। উত্তরপ্রদেশ থেকে আসা আইপিএস অফিসার অজয় পাল শর্মার সঙ্গে তাঁর প্রকাশ্য বাকযুদ্ধ রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন ফেলেছিল।
‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’ হিসেবে পরিচিত অজয় পাল শর্মাকে অনেকে ‘সিংহম’ বলেই ডাকেন। সেই প্রসঙ্গেই জাহাঙ্গির মন্তব্য করেছিলেন, “ও যদি সিংহম হয়, তাহলে আমি পুষ্পা।' জাহাঙ্গিরের দাবি ছিল, ভোটের আগে তাঁর বাড়িতে গিয়ে ভোটারদের ভয় না দেখানোর বার্তা দিয়েছিলেন অজয় পাল শর্মা।