
আত্মহত্যা করবেন, এমন হুঁশিয়ারি দিলেন বিজেপি বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী। বিজেপির রাজ্য দফতরের সামনে কেরোসিন ঢেলে আত্মহত্যা করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। কিন্তু কেন এই হুমকি দিলেন বিধায়ক?
প্রসঙ্গত, টিটাগড়ের বিজেপি নেতা মণীশ শুক্লা খুনে অভিযুক্তদের বিজেপির মঞ্চে দেখা গিয়েছে। তা নিয়ে বিজেপির অন্দরেই জোর চাপানউতোর শুরু হয়েছে। ওই দুই অভিযুক্ত বিজেপিতে নাম লেখালে আত্মহত্যার হুঁশিয়ারি দেন কৌস্তভ বাগচী। সাংবাদিক বৈঠক করে একথা সাফ জানিয়েছেন তিনি।
কৌস্তভ কী বলছেন?
বিজেপি বিধায়ক বলছেন, ' উত্তম দাস ও প্রশান্ত চৌধুরীকে আমাদের দলের লোকের সঙ্গে দেখে ব্যারাকপুরের মানুষ প্রতিক্রিয়া দিচ্ছেন। এটা ভালো ছবি হচ্ছে না। জনমানসে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। আমি দলের কাছে হাতজোড় করে নিবেদন করব এই মানুষগুলোকে যেন না ভাবে যোগদান করানোর ক্ষেত্রে। এই মানুষগুলো এখানে এলে আমাদের দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে। এর জন্য আমায় যদি আমাদের রাজ্য দফতরের সামনে গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে দিতে হয় তাই করব। আমার রাজনৈতিক দৃঢ়তা নিয়ে জানি বাংলার মানুষের কোনও প্রশ্ন নেই। কারণ আমি সাড়ে তিন বছর মাথা কামিয়ে থেকেছি।'
উল্লেখ্য, গোটা রাজ্যেই দেখা গিয়েছে পালাবদলের পর থেকে জায়গায়-জায়গায় তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগদান হয়েছে। বাদ যায়নি ব্যারাকপুরও। এবার সেই যোগদান নিয়েই মুখ খুলেছেন এলাকার বিধায়ক কৌস্তভ।
প্রসঙ্গত, ২০২০ সালে টিটাগড়ের বিজেপি কার্যালয়ের সামনে খুন করা হয় মণীশ শুক্লাকে। পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করা হয় তাঁকে। এই ঘটনা রাজনৈতিক মহলে সাড়া ফেলে দেয়। তদন্তে উঠে আসে মণীশকে সুপারি কিলার দিয়ে খুন করানো হয়েছে। এই ঘটনায় নাম জড়ায় ব্যারাকপুরের তৎকালীন পুরপ্রধান উত্তম দাস এবং টিটাগড়ের প্রাক্তন পুরপ্রধান প্রশান্ত চৌধুরীর। কৌস্তভ বাগচীর দাবি, সেই সময় শাসক শিবিরে থাকার ফলে উত্তম কিংবা প্রশান্তর কোনও শাস্তি হয়নি। বর্তমানে সরকারের পালাবদল হয়েছে। ব্যারাকপুরের বিধায়কের দাবি, এবার মণীশ হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত উত্তম এবং প্রশান্ত রং বদলের চেষ্টা করছেন। বিজেপি নেতাদের আশেপাশে দেখা যাচ্ছে তাঁদের। কৌস্তভ বাগচীর কথায়, 'আমাদের কিছু লোকের সঙ্গে মণীশ শুক্লার হত্যাকারীদের দেখা যাচ্ছে।' তাঁর দাবি, 'উত্তম ও প্রশান্তকে বিজেপিতে ঢুকতে দেব না। দরকারে বিজেপির রাজ্য অফিসের সামনে কেরোসিন তেল ঢেলে নিজের গায়ে আগুন লাগিয়ে দেব।'