
'এটা কর্মের ফল', সোনারপুরে অভিষেকের উপর হামলা প্রসঙ্গে মুখ খুলে এমনটাই বললেন আরজি কর নির্যাতিতার মা তথা বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথ।
আসলে পালা বদলের পর বাংলায় ভোট পরবর্তী হিংসায় প্রচুর তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীর উপর হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ। টিএমসি ব্রিগেডের দাবি, হামলায় কিছু জনের প্রাণ গিয়েছে। কিছু কর্মী আহত। অনেকেই বাড়ি ছাড়া। এমনই এক তৃণমূল কর্মীর পরিবারে সঙ্গে দেখা করতে সোনারপুর গিয়েছিলেন অভিষেক। আর সেখানেই ঝামেলা। তাঁকে ঘিরে প্রথমে বিক্ষোভ। তারপর 'চোর চোর' স্লোগান। এরপর তাঁর দিকে ইট-পাটকেল, ডিম উড়ে আসতে শুরু করে। এমনকী টেনে তাঁর জামা ছিঁড়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এই ঘটনার পরই বিজেপির দিকে আঙুল তুলতে ব্যস্ত তৃণমূল। তাঁদের দাবি, ক্ষমতায় আসার পর ইচ্ছে করে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের নিরাপত্তা তুলে নিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি। এমনকী ঝামেলা হবে জেনেও বিজেপি সোনারপুরে ব্যবস্থা নেয়নি। যদিও এই সব দাবি প্রথমেই উড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি। তাদের মতে, এটা স্বতস্ফূর্ত জনরোষ। এলাকার সাধারণ মানুষই 'রাগে, ক্ষোভে' অভিষেকের উপর বিক্ষোভ দেখিয়েছি।
আর বর্তমানে এই ঘটনা নিয়েই মুখ খুললেন রত্না। তিনি তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ডেকে আক্রমণ করেন। পাশাপাশি এই ঘটনায় তিনি বিক্ষোভকারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, 'অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ত্বক ও চুলের যত্ন নেওয়ার জন্য সোনারপুরের মানুষকে ধন্যবাদ। (ডিম মেখে) ওঁকে আরও সিল্কি করে দিয়েছে।'
মমতার উপরও ক্ষোভ প্রকাশ করেন
শুধু অভিষেক নন, তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপরও ক্ষোভ উগড়ে দেন রত্না। তিনি দাবি করেন, এই পিসি, ভাইপো মিলে তাঁর কাছ থেকে সব কেড়ে নিয়েছে।
নিজের মেয়ের স্মৃতিতে বিধায়ক বলেন, 'আমি জানি না আমার মেয়ের আত্মা শান্তি পাবে কি না। কারণ, ওর কোনও স্বপ্নই পূরণ হয়নি। অন্তত এতটুকু স্বস্তি পাচ্ছি যে আমি ডায়মন্ড কুইনকে নবান্ন থেকে নামাতে পেরেছি। আমি বলেছিলাম, ওর চুল টেনে নামাব। আর ধীরে ধীরে সেই দিকেই এগোচ্ছি।'
মমতার নির্দেশের ভিতরেই লুকিয়ে সত্য
আরজি করের নৃশংস হত্যা ও ধর্ষণ কাণ্ডের জন্য তিনি ফের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতাকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন। তাঁর মতে, তখন মমতা স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছিলেন। তিনিই নির্দেশ দিয়েছিলেন ঘটনা ধামাচাপা দিয়ে দেওয়ার জন্য।
তিনি বলেন,'মমতা নিজেই বলেছেন তিনি রাত দুটো পর্যন্ত তৎকালীন পুলিশ কমিশনার বিনিত গোয়েলের সঙ্গে কথা বলেছেন। এমনকী পানিহাটির তৎকালীন তৃণমূলের এমএলএ নিমল ঘোষ, কাউন্সিলর সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়, বর্তমান চেয়ারম্যান সোমনাথ দে আমার মেয়ের মৃতদেহ রাখতে দেয়নি। এগুলো সব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশের জন্য হয়েছে।'
পরিশেষে তিনি দাবি করেন, সবাইকে পাপের শাস্তি পেতে হয়। তাঁর পরিবার কারও কোনও ক্ষতি করেনি। তাই তিনি এখন সব দুর্নীতি এবং অপকর্মের পর্দা ফাঁস করবেন।