Advertisement

শান্তিনিকেতনের সোনাঝুরি হাট বন্ধ হয়ে যাচ্ছে? বুলডোজার নামিয়ে পরিখা কাটার পর জল্পনা

গত কয়েকদিন হল শহর কলকাতার নানা প্রান্তে বেআইনি নির্মাণ ভাঙতে বুলডোজার নামান হয়েছে। এবার শান্তিনিকেতনেও চলল বুলডোজার। শান্তিনিকেতনের সোনাঝুরি হস্তশিল্পীদের হাট সংলগ্ন এলাকায় বুলডোজার নামান হয়েছে। চারচাকা রুখতেই বুলডোজার দিয়ে মাটি কেটে বন্ধ করা হয়েছে রাস্তা। জঙ্গল বাঁচাতে এই কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে বন দফতর। জঙ্গলে ঢেকেছিল রিসর্টের বিজ্ঞাপনে। উপড়ে ফেলা হয়েছে এই বেআইনি সাইনবোর্ডও।

শান্তিনিকেতনের সোনাঝুরিতে বুলডোজার নামিয়ে  কাটা হল পরিখাশান্তিনিকেতনের সোনাঝুরিতে বুলডোজার নামিয়ে কাটা হল পরিখা
Aajtak Bangla
  • শান্তিনিকেতন,
  • 26 May 2026,
  • अपडेटेड 6:27 PM IST

গত কয়েকদিন হল শহর কলকাতার নানা প্রান্তে বেআইনি নির্মাণ ভাঙতে বুলডোজার নামান হয়েছে। এবার শান্তিনিকেতনেও চলল বুলডোজার। শান্তিনিকেতনের সোনাঝুরি হস্তশিল্পীদের হাট সংলগ্ন এলাকায়  বুলডোজার নামান হয়েছে। চারচাকা রুখতেই বুলডোজার দিয়ে মাটি কেটে বন্ধ করা হয়েছে রাস্তা। জঙ্গল বাঁচাতে এই কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে বন দফতর। জঙ্গলে ঢেকেছিল রিসর্টের বিজ্ঞাপনে। উপড়ে ফেলা হয়েছে এই বেআইনি সাইনবোর্ডও। 

প্রসঙ্গত, 'ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ' শান্তিনিকেতনে আগত পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ সোনাঝুরি জঙ্গলের খোয়াই হাট ৷ সারা বছর হাজার হাজার পর্যটকের ঢল নামে এখানে । কিন্তু, বন দফতরের জায়গায় কোনও ব্যবসায়িক হাট বসার নিয়ম নেই । এই হাট আইনত 'বেআইনি'। এছাড়া, জঙ্গলের মধ্যে ঢুকে পড়ে চারচাকা গাড়ি,  যত্রতত্র পড়ে থাকে প্লাস্টিক । ফলে ধ্বংস হয় জঙ্গলের পরিবেশ, নষ্ট হয় গাছও ৷ এই মর্মে জাতীয় পরিবেশ আদালতে মামলা রুজু করেন পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্ত।

জানা গিয়েছে, বনদফতরের পক্ষ থেকে বুলডোজার দিয়ে কেটে সোনাঝুরি হাটের মধ্যে ঢোকা সমস্ত রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে৷ যদিও এই বিষয়ে বনদফতরের কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি৷ প্রসঙ্গত, সোনাঝুরি হাটের বহুদিন ধরেই উদ্বিগ্ন জাতীয় পরিবেশ আদালত৷ বহুদিন ধরেই অভিযোগ, এই হাটের কারণে নষ্ট হচ্ছে জঙ্গলের পরিবেশ৷ বাড়ছে রিসর্টের সংখ্যা, ঢুকছে বড় বড় গাড়ি৷ যার ফলে কমছে গাছের সংখ্যা৷ এই হাট ‘বেআইনি’ দাবি করেন পরিবেশ কর্মী সুভাষ দত্ত।

আনুমানিক ২০০০ সালে সোনাঝুরি জঙ্গলে গুটিকয়েক আদিবাসী শিল্পীদের তৈরি সামগ্রী ও বিশ্বভারতীর কলাভবনের পড়ুয়াদের তৈরি সামগ্রী নিয়ে হাট বসত ৷ এই হাট বসিয়েছিলেন প্রয়াত আশ্রমিক শ্যামলী খাস্তগীর । তবে সেই সময় সপ্তাহে মাত্র একদিন, শনিবার এই হাট বসত ৷ তাই এই হাটের আরেক নাম ছিল শনিবারের হাট ৷ রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার আসার পর হাটের পরিবেশ অন্য রূপ পায় ৷ বৃদ্ধি পেতে থাকে হাটের পরিসর । সপ্তাহে একদিনের বদলে সব দিনই বসতে শুরু করে হাট ৷ আর অধিকাংশ বহিরাগত ব্যবসায়ী হাটে স্থান পায় বলে অভিযোগ ৷ আরও অভিযোগ, হাট থেকে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে যে টাকা নেওয়া হত, সেই টাকা সরকারের কোন খাতে জমা পড়ত, কেউ জানে না ৷ সোনাঝুরির হাট দুর্নীতির আখড়া হয়ে দাঁড়িয়েছিল বলে দাবি স্থানীয়দের ৷ আর এতে যত দিন গিয়েছে জঙ্গলে গাছের সংখ্যা কমে গিয়েছে । রাজ্যে ডবল ইঞ্জিন অর্থাৎ বিজেপির সরকার আসার পরেই জঙ্গল বাঁচাতে পথে নেমেছে বন দফতর ৷

Advertisement

বন দফতরের  বুলডোজার নামানোর বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছেন পরিবেশ কর্মী সুভাষ দত্ত। এই হাট বন্ধ হওয়া উচিত। এতে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে বলে bangla.aajtak.in-কে জানান তিনি। পরিবেশ বাঁচাতে হাট বন্ধ হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি। তবে এবারই যে প্রথম এমনটা হল তা নয়। এর আগেও রাজ্যের বন দফতরের হাতে থাকা শান্তিনিকেতনের সোনাঝুরির গাছপালা বাঁচাতে, জঙ্গলে নির্বিচারে যানবাহনের প্রবেশ বন্ধ করতে, জঙ্গলের পাশ বরাবর পরিখা খনন করা হয়েছিল বন দফতরের তরফে। কিন্তু  অভিযোগ ওঠে যে বন দফতরের কর্মীদের একাংশের সঙ্গে যোগসাজশ  থাকায়, এখানকার সংরক্ষিত বনাঞ্চল ধ্বংস করে বড় বড় গাড়ি প্রবেশ করে। এর পাশেই রয়েছে বল্লভপুর অভয়ারণ্য  এবং ঝিল। এসবের কারণে এই ঝিলে পরিযায়ী  পাখিদের আনাগোনাও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। হামেশাই এখানে তীব্র আলো জ্বালিয়ে এবং উচ্চস্বরের শব্দযন্ত্র ব্যবহার করে বিভিন্ন ধারাবাহিকের শুটিংও হচ্ছে। এনিয়ে জাতীয় পরিবেশ আদালতে চলা একাধিক মামলায় রাজ্য সরকারকে ভর্ৎসনার মুখেও পড়তে হয়েছে। এবার রাজ্য সরকারের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনিক বিভিন্ন কাজেও পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া মনোভাবের পরে সোমবার  ২৫ মে  সকাল থেকেই বন দফতরের আধিকারিকরা শান্তিনিকেতনের সোনাঝুরি জঙ্গলে  যাতে কোনও যানবাহন প্রবেশ করতে না পারে সে জন্য বুলডোজার  নামিয়ে পরিখা খনন করে দেন।

এদিকে গত কয়েক বছরে ধরে সোনাঝুরি জঙ্গলের আশেপাশে কয়েকশো হোটেল-রিসর্ট গড়ে উঠেছে । অধিকাংশ নিয়ম বহিঃভূতভাবেই ৷ সেই হোটেল-রিসর্টের বিজ্ঞাপনী বোর্ডে মুখ ঢেকেছিল সোনাঝুরি জঙ্গলের ৷ জঙ্গল লাগোয়া রাস্তার দুই দিকে লোহার বিজ্ঞাপনী বোর্ড কংক্রিটের ঢালাই করে বসানো হয়েছিল ৷  সেই সমস্ত বোর্ডও উপড়ে ফেলে দেওয়া হয় ৷ এখানে যে সোনাঝুরির হাট বসে, সেখানে দেশ-বিদেশের বহু পর্যটক এসে কেনাকাটা করেন।   বড় বড় গাড়ি প্রবেশ করায় তারাও বিরক্ত হতেন।
 

Read more!
Advertisement
Advertisement