
নদিয়ায় হাড়হিম হত্যাকাণ্ড! প্রথম শ্রেণির সাত বছরের একটি বাচ্চাকে খুনের অভিযোগ উঠল একই আবাসিক হস্টেলের দুই ছাত্রীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত দুই পড়ুয়া নবম শ্রেণির ছাত্রী। সাত বছরের এক রত্তিকে বালতির জলে ডুবিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। একইসঙ্গে মৃত্যু নিশ্চিত করতে ধারালো ব্লেড দিয়ে শিশুটির কব্জিও কেটে দেওয়া হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে। হাড়হিম এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রীতিমতো আতঙ্কিত স্থানীয়রা।
গত শনিবার কৃষ্ণনগরের একটি স্কুলের আবাসিক হোস্টেলের বাথরুম থেকে ৭ বছরের সঞ্জনা মণ্ডলের দেহ উদ্ধার হয়। স্কুল থেকেই ফোন করে তার বাবাকে এই খবর জানানো হয়। তড়িঘড়ি তিনি হস্টেলে গিয়ে দেখেন বাথরুমে পড়ে রয়েছে তাঁর একরত্তি মেয়ের দেহ। তিনি দ্রুত পুলিশকে খবর দিলে শিশুটির শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। এরপরেই তদন্তে নামে পুলিশ।
শিশুর পরিবারের দাবি, গত দেড় বছর ধরে ওই সঞ্জনা কৃষ্ণনগরের কুইন্স গার্লস স্কুলে পড়াশোনা করছে। এমনকি হস্টেল সূত্রে খবর, অভিযুক্ত দু'জন ওই শিশুর সঙ্গে রাতে এক বিছানায় ঘুমাতো। সেই ঘনিষ্ঠ দুই 'দিদি'র হাতেই খুন হতে হল নিস্পাপ শিশুটিকে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও, শিশুটির শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখে সন্দেহ হয় পুলিশের। এরপর সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়। তদন্তকারীরা দেখতে পান, ঘটনার সময়ে বাইরে থেকে কোনও ব্যক্তি হোস্টেলে প্রবেশ করেনি।
এরপর স্কুলের আবাসিক ছাত্রীদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। তদন্তে নবম শ্রেণির দুই ছাত্রীর বক্তব্যে অসঙ্গতি ধরা পড়ে। আলাদা করে জেরা করতেই তারা খুনের কথা স্বীকার করে নেয় বলে পুলিশের দাবি।
একটি সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, রীতিমতো পরিকল্পনা করেই এই খুন করা হয়েছে। পুলিশের অনুমান, হস্টেলের কড়া নিয়মে অতিষ্ঠ হয়ে তারা এমন একটি ঘটনা ঘটাতে চেয়েছিল যাতে হোস্টেল বন্ধ হয়ে যায়। সেই কারণেই অপেক্ষাকৃত ছোট এবং অসহায় এক শিশুকে ‘সফট টার্গেট’ হিসেবে বেছে নেওয়া হয়।
ঘটনায় নবম শ্রেণির দুই ছাত্রীকে পাকড়াও করে একটি সংশোধনাগারে রাখা হয়েছে। মৃত ছাত্রীর বাবা-মা অভিযুক্তদের পাশাপাশি স্কুল ও হস্টেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধেও লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। জেলা পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত চলছে। ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা নমুনা সংগ্রহ করেছেন এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে মৃত্যুর কারণ আরও স্পষ্ট হবে। তবে প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে যে ঘটনায় বাইরের কোনও ব্যক্তির যোগ নেই।