
নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে পুরনো মামলায় গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সেই গ্রেফতারির জন্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে দায়ী করলেন কংগ্রেস প্রার্থী স্ত্রী অর্পিতা প্রধান। নন্দীগ্রামে উপনির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থীকে জেলে পাঠানোর জন্য শুভেন্দু 'ক্ষমতার অপব্যবহার' করেছেন বলে অভিযোগ করেন অর্পিতা। সাংবাদিক বৈঠক চলাকালীন বেশ কয়েক বার কেঁদেও ফেলেন তিনি। বৃহস্পতিবার বিধান ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করেন মিলন প্রধানের স্ত্রী অর্পিতা।
নন্দীগ্রামে কংগ্রেসের উপনির্বাচন প্রার্থী মিলন প্রধান বর্তমানে কারাবন্দি। তাঁর স্ত্রী অর্পিতা প্রধান বৃহস্পতিবার অভিযোগ করেন, শুভেন্দু অধিকারী 'ক্ষমতার অপব্যবহার' করে তাঁর স্বামীকে জেলে পাঠিয়েছেন। সেইসঙ্গে অর্পিতা দাবি করেন যে ওই নেতাকে 'মিথ্যা মামলায়' ফাঁসানো হয়েছে।
প্রদেশ কংগ্রেসের সদর দফতর বিধান ভবনে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে অর্পিতা কারাবন্দি প্রার্থীর পাশে দাঁড়ানোর জন্য রাহুল গান্ধী ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়—উভয়কেই ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি, ৬ অক্টোবরের উপনির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের লক্ষ্যে তিনি সমস্ত বিরোধী দলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। এই প্রসঙ্গে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও পাশে চাইলেন অর্পিতা প্রধান।
কারাবন্দি কংগ্রেস নেতা মিলন প্রধান নিজে নির্বাচনী প্রচার চালাতে পারছেন না। এই পরিস্থিতিতে অর্পিতা ঘোষণা করেছেন , তিনি তাঁর মেয়েকে নিয়ে নন্দীগ্রামের রাস্তায় নেমে মিলন প্রধানের হয়ে প্রচার চালাবেন। উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে নন্দীগ্রামে জমি অধিগ্রহণ-বিরোধী আন্দোলনের সময়কার একাধিক পুরনো মামলার (যার মধ্যে একটি খুনের মামলাও রয়েছে) জেরে মিলন প্রধানকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর তাঁকে ৫ অক্টোবর—অর্থাৎ নন্দীগ্রামে ভোটগ্রহণের ঠিক আগের দিন—পর্যন্ত বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
নিজের দলের প্রার্থী প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর, উপনির্বাচনে মিলন প্রধানকে সমর্থন করার কথা ঘোষণা করেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঠিক তার পরপরই মিলন প্রধানকে গ্রেফতার করা হয়। এদিকে আজ কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের প্রচারে সমস্ত বিরোধীদের পাশে চেয়েছেন মিলন প্রধানের স্ত্রী অর্পিতা প্রধান।