
কয়েক বছর আগে পর্যন্ত ছিলেন সরকারি বাসের চালক। সেই সীমিত আয়ের ব্যক্তির বাড়ি থেকে উদ্ধার কোটি কোটি টাকা ও কাঁড়ি কাঁড়ি সোনা। যা দেখে চক্ষু চড়কগাছ পুলিশের। বুধবার ভোর থেকে তল্লাশি অভিযান শুরু হয়। এখনও চলছে।
ঘটনা বীরভূমের মহম্মদবাজারের। পেশায় ওই পাথর ব্যবসায়ীর একাধিক বাড়িতে তল্লাশি অভিযান শুরু করেন তদন্তকারীরা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই অভিযানের প্রশংসা করে জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত ৫.৫ কোটি টাকা নগদ উদ্ধার হয়েছে। এখনও নোট গণনা চলছে। পাশাপাশি ১৫ কেজি সোনাও মিলেছে। ফলে উদ্ধার হওয়া টাকার পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। পরে বিকেলে জানা যায়, উদ্ধার হওয়া নগদ টাকার পরিমাণ ইতিমধ্যেই ১০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। তবে গণনা এখনও চলছে।
পুলিশ সূত্রে খবর,অভিযুক্ত মিনার মণ্ডল কয়েক বছর আগেও সরকারি বাসের চালক ছিলেন। পরে চাকরি ছেড়ে আত্মীয় তথা পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন। বর্তমানে তিনি নিজেও পাথর ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত।
গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর বীরভূমের সিউড়িতে টুলু মণ্ডলের মেয়ের বিয়ে ঘিরে ব্যাপক চর্চা ও রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। মিনার মণ্ডল এই টুলুর হাত ধরেই পাথর ব্যবসাতে নামে। সেই বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন বলিউড অভিনেতা-পরিচালক আরবাজ খান, অভিনেত্রী জরিন খান, গায়িকা মোনালি ঠাকুর-সহ একাধিক তারকা। টলিউডের অঙ্কুশ হাজরা, সুমিত গঙ্গোপাধ্যায় এবং দর্শনা বণিক-ও অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। বিয়ের অনুষ্ঠানে গানও পরিবেশন করেছিলেন মোনালি ঠাকুর। অতিথিদের জন্য জেলা ও শহরের প্রায় সমস্ত হোটেল বুক করা হয়েছিল বলে জানা যায়।
বুধবার ভোটে ওই বাড়িটিতে হানা দেয় পুলিশ। রাত পেরিয়ে সকাল হলেও টাকা উদ্ধার থাকে। ওই বাসস্থান থেকে থরে থরে সাজানো নোটের বান্ডিল পাওয়া যায়। টাকা গোনার জন্য সেই বাড়িতে একাধিক মেশিন আনা হয়। বড় বড় ট্রাঙ্ক নিয়ে যেতে দেখা যায় তদন্তকারী দলকে। অভিযানে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরাও অংশ নিয়েছেন।
এই ঘটনা নিয়ে এক্স হ্যান্ডেলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির কথা মনে করিয়ে দিয়ে লেখেন, 'নির্ভুল সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে বীরভূম পুলিশ মহম্মদবাজার থানার অধীনে অবৈধ বালু মাফিয়ার আস্তানায় বড়সড় অভিযান চালায়। দুর্নীতির বিরুদ্ধে 'জিরো টলারেন্স' নীতিকে সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের চলমান অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। জনগণের সম্পদ জনগণেরই। যারা সেই সম্পদ লুট করেছে, তাদের আইনের পূর্ণ শক্তির মুখোমুখি হতে হবে। সতর্ক নজরদারি ও আপসহীন অভিযান চলবে। মাফিয়া চক্রের বিরুদ্ধে এই দমন অভিযানও অব্যাহত থাকবে।'