Advertisement

Cyclone Murasu Landfall Impact: ১২০ কিমি বেগে অন্ধ্র উপকূলে আছড়ে পড়ল ঘূর্ণিঝড় মুরাসু, বাংলার ১৫ জেলায় বৃষ্টি, নামবে তাপমাত্রাও

অন্ধ্র উপকূলে আছড়ে পড়ল ঘূর্ণিঝড় মুরাসু। ভারতীয় মৌসম বিভাগ (IMD) অনুসারে, তীব্র ঘূর্ণিঝড় মুরাসু রাত ১টার দিকে অন্ধ্রপ্রদেশের প্রকাশম জেলার ওঙ্গোলের কাছে স্থলভাগে আঘাত হানতে শুরু করেছে। পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে কেন্দ্র করে থাকা ঝড়টি দক্ষিণ অন্ধ্র উপকূলের খুব কাছে চলে আসে। স্থলভাগে আঘাত হানার সময় ঝড়ের মেঘপুঞ্জের সম্মুখভাগ স্থলে নামতে শুরু করে এবং এর কেন্দ্রস্থল উপকূল স্পর্শ করে। এই পরিস্থিতি ওঙ্গোলের প্রায় ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে, কাভালির ৬০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে এবং বাপাতলার ৭০ কিলোমিটার দক্ষিণে রেকর্ড করা হয়েছে।

 মধ্যরাতেই ‘ল্যান্ডফল’ ঘূর্ণিঝড় মুরাসুর মধ্যরাতেই ‘ল্যান্ডফল’ ঘূর্ণিঝড় মুরাসুর
Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 03 Nov 2026,
  • अपडेटेड 6:44 AM IST

অন্ধ্র উপকূলে আছড়ে পড়ল ঘূর্ণিঝড় মুরাসু।  ভারতীয় মৌসম বিভাগ (IMD) অনুসারে, তীব্র ঘূর্ণিঝড় মুরাসু রাত ১টার দিকে অন্ধ্রপ্রদেশের প্রকাশম জেলার ওঙ্গোলের কাছে স্থলভাগে আঘাত হানতে শুরু করেছে। পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে কেন্দ্র করে থাকা ঝড়টি দক্ষিণ অন্ধ্র উপকূলের খুব কাছে চলে আসে। স্থলভাগে আঘাত হানার সময় ঝড়ের মেঘপুঞ্জের সম্মুখভাগ স্থলে নামতে শুরু করে এবং এর কেন্দ্রস্থল উপকূল স্পর্শ করে। এই পরিস্থিতি ওঙ্গোলের প্রায় ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে, কাভালির ৬০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে এবং বাপাতলার ৭০ কিলোমিটার দক্ষিণে রেকর্ড করা হয়েছে।

ঝড়টি ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার পর্যন্ত শক্তিশালী বাতাস বয়ে এনেছিল, যা কখনও কখনও ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছেছিল। এই বাতাস উপকূলীয় এলাকায় সকাল পর্যন্ত থাকবে। দক্ষিণ উপকূলীয় অন্ধ্র প্রদেশে পরবর্তী ১২ ঘণ্টার জন্য ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। অনেক এলাকায় ইতোমধ্যেই ভারী বৃষ্টি শুরু হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। IMD সতর্ক করেছে যে, ঝড়টির প্রধান স্থলভাগে আঘাত হানার স্থান হবে নিলোর ও নরসাপুরের মধ্যবর্তী ওঙ্গোলের আশেপাশে।

 জলোচ্ছ্বাসের হুমকি
ঘূর্ণিঝড়ের কারণে উপকূলীয় এলাকায় ১ থেকে ১.৫ মিটার উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই ঢেউগুলো স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়েও উপরে উঠে বাপাতলা, কৃষ্ণা ও প্রকাশম জেলার নিচু এলাকাগুলোতে বন্যার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এই পরিস্থিতি মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রবল বাতাস ও বৃষ্টির কারণে গাছপালা উপড়ে পড়া, বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যাওয়া এবং রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

এই ঘূর্ণিঝড়টি বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট সিস্টেমের ফল। স্থলভাগে আঘাত হানার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকায় উপকূলীয় এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি বেড়েছে। কৃষক, জেলে এবং সাধারণ জনগণকে সতর্ক থাকতে বলেছে প্রশাসন। আবহাওয়া বিভাগ নিয়মিতভাবে সর্বশেষ তথ্য জানাচ্ছে। সময়োচিত প্রস্তুতি এবং সরকারি পদক্ষেপ ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সাহায্য করতে পারে। ক্ষতিগ্রস্তদের তাৎক্ষণিক সহায়তা নিশ্চিত করতে অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলীয় জেলাগুলিতে ত্রাণ কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

Advertisement

এখন কী পরিস্থিতি
 ঘূর্ণিঝড় মুরাসুর আছড়ে পড়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে মঙ্গলবার সকাল হয়ে যেতে পারে। মৌসম ভবন সূত্রে খবর, মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টে নাগাদ ওই ঘূর্ণিঝড়ের ‘চোখ’ ঢুকে পড়ে স্থলভাগে।

বাংলায় প্রভাব
ঘূর্ণিঝড়ের তেমন কোনও প্রভাব পশ্চিমবঙ্গের উপকূলে পড়বে না। এ রাজ্যে আবহাওয়া এ বার ধীরে ধীরে শুকনো হবে। হাওয়া অফিস জানিয়েছে, মঙ্গলবার পর্যন্ত উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্ত ভাবে দু’এক পশলা বৃষ্টি হলেও হতে পারে। বুধবার থেকে সর্বত্র শুকনো আবহাওয়া থাকবে। তাপমাত্রাও বেশ খানিকটা কমতে পারে।

কোথায় কোথায় বৃষ্টি?
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় 'মুরাসু'র প্রভাবে মঙ্গলবার উত্তর এবং দক্ষিণবঙ্গের কিছু জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে মঙ্গলবার কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের ৯ জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি। কোথাও কোথাও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হতে পারে। তবে এই ঘূর্ণিঝড়ের জন্য পশ্চিমবঙ্গে আপাতত কোনও বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়নি। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে আবহাওয়া দফতর। মঙ্গলবার উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়ায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে।  দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতে আবহাওয়া মূলত শুকনো থাকবে।  রাজ্যের উপকূলেও তেমন দুর্যোগের আশঙ্কা নেই। 

উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি
উত্তরবঙ্গেও মঙ্গলবার বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারের এক-দু’টি জায়গায় হালকা বৃষ্টি হতে পারে। উত্তরবঙ্গের সব জেলাতেই আকাশ আংশিক মেঘলা, কোথাও কোথাও মেঘলা থাকতে পারে। তবে নীচের দিকের তিন জেলায় মূলত শুকনো আবহাওয়া থাকবে।

তাপমাত্রা কমার পূর্বাভাস
বুধবার থেকে শনিবার পর্যন্ত উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই আবহাওয়া শুকনো থাকার সম্ভাবনা। আগামী তিন দিন তাপমাত্রায় বড়সড় কোনও পরিবর্তন হবে না। তার পর রাতের তাপমাত্রা দুই থেকে তিন ডিগ্রি কমতে পারে। অর্থাৎ, বৃষ্টির পর রাতের দিকে হালকা শীতের আমেজ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও এখনই জাঁকিয়ে শীত পড়ার কোনও পূর্বাভাস নেই।

Read more!
Advertisement
Advertisement