
তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্রের উপর ডিম হামলার অভিযোগ। বুধবার নদিয়ার কৃষ্ণনগরে দলীয় কর্মিসভায় যোগ দিতে যাচ্ছিলেন তিনি। সেখানে বিক্ষোভের মুখে পড়েন। সাংসদের অভিযোগ, তিনি সভাস্থলে পৌঁছতেই বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা কালো পতাকা দেখিয়ে 'গো ব্যাক' স্লোগান দিতে শুরু করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তৃণমূল ও বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ধস্তাধস্তির মধ্যেই মহুয়ার গাড়ি লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়।
কী ঘটেছিল কৃষ্ণনগরে?
বুধবার নিজের কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্রের একটি দলীয় বৈঠকে যোগ দিতে গিয়েছিলেন মহুয়া মৈত্র। তাঁর অভিযোগ, সভায় যাওয়ার আগে পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। কিন্তু সভা শেষে বেরনোর সময়ই তাঁর দিকে ডিম ছোড়া হয়। অন্যদিকে, ঘটনাস্থলে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের বিক্ষোভের অভিযোগ সামনে এসেছে।
বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তকে কী বললেন মহুয়া?
ঘটনার পরই সমাজমাধ্যমে সরব হন কৃষ্ণনগরের সাংসদ। সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তকে উল্লেখ করে আগের একটি শুনানির মন্তব্যের প্রসঙ্গ টানেন তিনি। মহুয়া লেখেন, তিনি তাঁর লোকসভা কেন্দ্রে বৈঠকে যাওয়ার আগে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশকে জানিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, পুলিশের উপস্থিতিতেই বিজেপি কর্মীরা তাঁর দিকে ডিম ছুড়েছেন। এরপরই বিচারপতির আগের মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি লেখেন,'আপনার (বিচারপতি দত্ত) পরামর্শ মতোই আমি তাঁদের মোকাবিলা করেছি। ঠিক যেমন স্বাধীনতা সংগ্রামী গুলির মোকাবিলা করেন।'
একটি ভিডিয়ো বার্তাতেও একই প্রসঙ্গ তোলেন তৃণমূল সাংসদ। তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল, পুলিশকে আগে থেকে জানানো সত্ত্বেও ফের তাঁর উপর ডিম ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে।
কী বলেছিলেন বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত?
মহুয়ার এই প্রতিক্রিয়ার পিছনে রয়েছে কয়েক সপ্তাহ আগের একটি সুপ্রিম কোর্টের শুনানি। একটি মামলায় তদন্তকারী আধিকারিকের সামনে মহুয়ার সশরীরে হাজিরা নিয়ে শুনানি চলছিল। তখন তাঁর আইনজীবী ডিম ছোড়ার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে ভার্চুয়াল মাধ্যমে হাজিরার আবেদন করেছিলেন।
সেই সময় বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি শীল নাগুরের বেঞ্চ জানতে চায়, রাজনৈতিক জীবনে থাকা একজন সাংসদ ডিম ছোড়ার আশঙ্কায় কেন ভয় পাবেন। শুনানিতে বিচারপতি দত্ত মন্তব্য করেন, দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামীরা গুলি বুক পেতে নিয়েছিলেন। এরপর মহুয়ার ভার্চুয়াল হাজিরার আবেদন প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
এর আগেও ডিম ছোড়ার অভিযোগ
মহুয়া মৈত্রকে ঘিরে এই ধরনের ঘটনা এই প্রথম নয়। চলতি বছরের জুলাইয়েও নদিয়ার পালাশিতে একটি দলীয় কর্মসূচিতে যাওয়ার সময় তাঁর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন অনেকে। সেবারও ডিম ছোড়ার অভিযোগ উঠেছিল। সেই ঘটনার পরও মহুয়া পুলিশি নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।
পরবর্তীতে কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্রে নিজের সফরের সময় নিরাপত্তা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদ। সেপ্টেম্বরের শুরুতে আদালত নির্দেশ দেয়, কৃষ্ণনগর কেন্দ্রে সফরের সময় মহুয়ার সঙ্গে দু’জন পুলিশকর্মী মোতায়েন রাখতে হবে।
এদিকে এই ঘটনায় তৃণমূল ও বিজেপি শিবিরের তরফে পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ শুরু হয়েছে। এবারও ডিম ছোড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের রাজনৈতিক চাপানউতোর তৈরি হয়েছে। মহুয়া মৈত্র সরাসরি বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন।