Advertisement

Falta Repoll Result: ৫৮ বুথে BJP-কে হারিয়ে ফার্স্ট CPIM, ফলতার রেজাল্টে নতুন দিশা দেখছে বামেরা

ফলতার উপনির্বাচনে আগামী ব্যকরণ দেখছে বামেরা। একাধিক বুথে BJP-কে হারিয়ে এগিয়ে রয়েছে CPIM। মহম্মদ সেলিম বলছেন, 'ইয়ে দিল মাঙ্গে মোর...'।

ফলতার পুনর্নির্বাচনের ফলাফল ফলতার পুনর্নির্বাচনের ফলাফল
Aajtak Bangla
  • ফলতা ,
  • 25 May 2026,
  • अपडेटेड 10:16 AM IST
  • ৫৮ বুথে BJP-কে হারিয়ে ফার্স্ট বামেরা
  • আগামী ব্যকরণ দেখছে CPIM
  • সেলিম বলছেন, 'ইয়ে দিল মাঙ্গে মোর'

দীর্ঘদিন বাদে বাংলার রাজনীতিতে কোনও নির্বাচনে 'সেকেন্ড বয়' CPIM। ফলতা পুনর্নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর তাই বামেদের দাবি, তৃণমূল এখন অতীত, তারাই BJP-র মূল প্রতিপক্ষ। উল্লেখ্য, ফলতায় তৃণমূলের চতুর্থ স্থানে চলে যাওয়া এবং বামেদের দ্বিতীয় হিসেবে উঠে আসার নেপথ্যে রয়েছে বেশ কিছু হিসেব-নিকেশ। 

ফলতায় প্রায় ৩০ শতাংশ মুসলিম ভোট। বাকিটা হিন্দু ভোটার। এই ধরনের আসনগুলিতে এত দিন এগিয়ে থাকত তৃণমূল। তবে ফলতার ফল দেখিয়ে দিল, মুসলিম ভোট আর প্রাক্তন শাসকদলের কুক্ষিগত নয়।

২০০-র বেশি আসন নিয়ে ক্ষমতায় আসা BJP-ই যে ফলতার উইনার হতে চলেছে, সে বিষয়ে কোনও সংশয় ছিলই না। তবে সকলেরই সেকেন্ড কে হয়, সেদিকে নজর ছিল। ৭০ শতাংশ হিন্দু ভোটারের এই আসনে BJP-কে ওয়াকওভার দিয়ে দেওয়া তৃণমূলের পক্ষে আদৌ কত ভোট পড়ে, তা নিয়ে কৌতুহল ছিল। 

উল্লেখ্য, ঠিক ২ বছর আগে, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রের মধ্যে এই ফলতাই সবচেয়ে বেশি লিড দিয়েছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। নেপথ্য কারিগর ছিলেন 'পুষ্পা' জাহাঙ্গির। যিনি এবার 'ঝুঁকে পড়েন' ভোটের ঠিক আগেই। ফলে সেক্ষেত্রে সংখ্যালঘু ভোটাররা তৃণমূলের বিকল্প হিসেবে কাকে বেছে নেন, সেটাই ছিল দেখার। ফলপ্রকাশের পর দেখা গেল, বাজিমাত করেছে বামেরা। 

গণনা শেষে স্পষ্ট হয় ফলতার ভোটের হারের হিসেব। 

দল প্রাপ্ত ভোট ভোটের হার
BJP ১, ৪৯, ৬৬৬ ৭১.২
CPIM ৪০, ৬৪৫ ১৯.৩
কংগ্রেস ১০, ০৮৪ ৪.৮
TMC ৭,৭৮৩ ৩.৭
অন্যান্য ১,২৩০ ০.৬
NOTA ৭৮৪ ০.৪

 

পুনর্নির্বাচনেও ৮৮ শতাংশের বেশি মানুষ ফলতায় ভোট দিতে গিয়েছিলেন। ফলে তৃণমূল লড়াইয়ে না থাকলেও এই ফলাফল মোটেও গুরুত্বহীন নয়। হিন্দু ভোটের ৩ ভাগের এক ভাগ পেলেই ফলতায় জয় অবধারিত, তা জানত সব দলই। কিন্তু ৩০ শতাংশ মুসলিম ভোট কার দিকে যায়, তা নিয়ে কাটাছেঁড়া চলছিল প্রথম থেকেই। 

 

 গায়ের জোরে ভোট করানোর অভিযোগ অতীতে তৃণমূলের বিরুদ্ধে উঠেছে। বিশেষত ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে। ফলে এবার হিংসাবিহীন ফলতা নির্বাচনে বামেদের দ্বিতীয় হয়ে ওঠা তাৎপর্যপূর্ণ বটেই। 

Advertisement

সংখ্যালঘু ভোট তাদের দিকে আসবে, তা আশা করেছিল আলিমুদ্দিন। তবে তা যে এত দ্রুত হবে, সেটা ভাবেননি অনেক রাজনৈতিক কারবারিই। এমনকী, অনেক বুথে বাম প্রার্থী শম্ভুনাথ কুর্মী BJP-র থেকেও বেশি ভোট পেয়েছেন। যার কিছুটা নিদর্শন সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলেও ধরেছে বামেরা। 

CPIM নেতা ময়ূখ বিশ্বাসের পোস্ট অনুযায়ী, ফলতা পুনর্নির্বাচনে ২৮৫টা বুথে ভোটগ্রহণ হয়েছে। তার মধ্যে ৫৮টি এমন বুথ রয়েছে যেখানে BJP-র থেকে এগিয়ে CPIM। এছাড়াও একটি এমন বুথ রয়েছে, যেখানে BJP এবং CPIM প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট সমান। 

অনগ্রসর শ্রেণির প্রার্থী শম্ভুথান দলের হোলটাইমার। তিনি যা ভোট পেয়েছেন, তার বেশিরভাগই মুসলিম ভোট। ফলে ফলাফল থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট, মুসলিমরা BJP-র বিকল্প হিসেবে বামেদেরকেই বেছে নিয়েছেন। 

আগামীদিনে বাংলার রাজনীতিতে নয়া ব্যকরণ তৈরি হয়েছে। CPIM রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, 'ইয়ে দিল মাঙ্গে মোর। ফলতার ভোটারদের নতমস্তকে লাল সেলাম জানাচ্ছি। আরও সময় পেলে হয়তো আরও ভাল ফলাফল হতো। তৃণমূল বরফের মতো গলে যাচ্ছে আর লালঝাণ্ডার শক্তি বাড়ছে, ফলতার নির্বাচন সেটার প্রমাণ। তৃণমূল RSS-এর সাজানো বাহিনী সেখানে মস্তানি, গুণ্ডামি করেছে। মানুষ এতদিন মতপ্রকাশের স্বাধীনতা পেত না। যদি পায়, কী হতে পারে, তা ফলতা দেখিয়ে দিল। বামপন্থার পুনরুদ্ধার হবে।'

 

Read more!
Advertisement
Advertisement