Advertisement

Gaighata Encounter: এনকাউন্টারে ছেলের মৃত্যু, এখন সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণ চাইছেন প্রহ্লাদের মা

গাইঘাটায় এনকাউন্টারের ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে প্রহ্লাদ দাসের। তাঁর বিরুদ্ধে নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের দাবি, ঘটনার পুনর্নির্মাণের পর তাঁদের বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে এলোপাথাড়ি গুলি চালায় ওই অভিযুক্ত। মঙ্গলবারের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতি তোলপাড়। এনকাউন্টার নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা। এদিকে, প্রহ্লাদের ভাই বলছে দাদা এরকম কাজ করবে ভাবতে পারছেন না তিনি। ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার রাতে ঠিক কী ঘটেছিল সেই বিষয়েও জানিয়েছেন অভিযুক্তের ভাই। এবার এই ঘটনায় প্রশ্ন তুললেন প্রহ্লাদ দাসের মা রেখা দাসও।

গাইঘাটায় এনকাউন্টার নিয়ে বিস্ফোরক অভিযুক্ত প্রহ্লাদের মাগাইঘাটায় এনকাউন্টার নিয়ে বিস্ফোরক অভিযুক্ত প্রহ্লাদের মা
Aajtak Bangla
  • গাইঘাটা,
  • 28 Oct 2026,
  • अपडेटेड 4:53 PM IST

গাইঘাটায় এনকাউন্টারের  ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে প্রহ্লাদ দাসের। তাঁর বিরুদ্ধে নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের দাবি, ঘটনার পুনর্নির্মাণের পর তাঁদের বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে এলোপাথাড়ি গুলি চালায় ওই অভিযুক্ত। মঙ্গলবারের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে  রাজ্য রাজনীতি তোলপাড়। এনকাউন্টার নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা।  এদিকে, প্রহ্লাদের ভাই বলছে দাদা এরকম কাজ করবে ভাবতে পারছেন না তিনি। ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার রাতে ঠিক কী ঘটেছিল সেই বিষয়েও জানিয়েছেন অভিযুক্তের ভাই। এবার এই ঘটনায় প্রশ্ন তুললেন  প্রহ্লাদ দাসের মা রেখা দাসও। রেখাদেবীর দাবি, ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য সোমবার রাতে যখন প্রহ্লাদকে বাড়িতে আনা হয়েছিল, তখন তাঁর হাত বাঁধা ছিল। ওই অবস্থায় ছেলে কী ভাবে পুলিশের বন্দুক ছিনিয়ে গুলি চালাল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রহ্লাদের মা। ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় ন্যায়বিচারের পাশাপাশি ক্ষতিপূরণও দাবি করেছেন তিনি।

প্রসঙ্গত, উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটার প্রহ্লাদ দাসকে এক  কিশোরীকে ধর্ষণ ও খুনের মামলায় গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য সোমবার রাতে তাকে নিয়ে যাওয়া হলে পালানোর চেষ্টা করে বলে অভিযোগ। এক পুলিশ কর্মীর বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষায় পাল্টা গুলি চালায় পুলিশ। নিহত হয় প্রহ্লাদ। বারাসত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের মর্গে প্রহ্লাদের দেহের ময়নাতদন্ত হয়। সেই হাসপাতালেই সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রহ্লাদের মা বলেছিলেন, ‘আমার ছেলেকে আমি পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছিলাম। বলেছিলাম, ও অন্যায় করেছে, ওর কঠোর শাস্তি হোক। কিন্তু আমি এটা বলিনি যে ওকে এনকাউন্টার করে দিক। রাত ২টোর সময়ে স্যররা বাড়িতে নিয়ে গিয়ে আমাদের সঙ্গে কথা বলাল। কী সব লিখল। তার পরে ছেলেকে নিয়ে চলে গেল। ভোর সাড়ে ৫টা নাগাদ স্যার বাড়িতে গেল। বলল ঠাকুরনগর হাসপাতালে যেতে হবে। আপনার ছেলেকে এনকাউন্টার করা হয়েছে। আমি জানতে চাইলাম কেন? বলল, ও পালাতে যাচ্ছিল। কী করে পালায় ছেলে এত গার্ড থাকতে? যাক গে ভালো করেছে! ও অন্যায় করেছে সাজা পেয়েছে।’

Advertisement

প্রহ্লাদের মায়ের আরও বক্তব্য, মা হিসেবে তিনি এই ঘটনায় খুশি না হলে একজন নাগরিক হিসেবে খুশি। তিনি বলেন, ‘আমার মেয়ে থাকলেও আমি তাই করতাম। ভবিষ্যতে কোনও পুরুষ এরকম করার আগে যেন ভাবে।’ চোয়াল শক্ত, তবে চোখের জল আটকাতে পারেননি। হাজার হোক তিনি তো মা। একই কথা প্রহ্লাদের বাবারও। ছেলে অন্যায় করেছে। শাস্তি পেয়েছে। কিছুই বলার নেই তাঁর।

দাস পরিবারের দাবি, প্রহ্লাদ অপরাধ করে থাকলে আইন অনুযায়ী তাঁর শাস্তি হত। এমনটা চেয়েছিলেন তাঁরাও। সেই কারণে বার বার থানায় গিয়ে পুলিশের কাছে আবেদনও জানিয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশের গুলিতে প্রহ্লাদের  মৃত্যুর ঘটনা এখনও মেনে নিতে পারছেন না পরিবারের সদস্যেরা। বুধবার প্রহ্লাদের মা বলেন, 'ওই মেয়েও খুন হয়েছে। আমার ছেলেও খুন হয়েছে। আমরা ক্ষতিপূরণ চাই।'প্রহ্লাদের মা বলছেন, 'রাত ২টোর সময় যখন ছেলেকে বাড়িতে আনল, তখন ওর হাত বাঁধা ছিল। সঙ্গে পাঁচ জন পুলিশ অফিসার ছিল। কী করে পিস্তল বার করে গুলি করবে? আপনারা একটু ভেবে দেখুন তো!' প্রহ্লাদের মা জানান, তাঁর ছেলের সম্পর্কে এলাকার মানুষের কাছে খোঁজখবর নিলেই সবটা জানা যাবে। দাস পরিবারের দাবি, শান্ত স্বভাবের প্রহ্লাদ পুলিশের কাছ থেকে বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালাবে, তা এখনও বিশ্বাস করতে পারছে না তারা। ছেলের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন প্রহ্লাদের মা। তাঁর প্রশ্ন, ছেলের ডাকে কেন ওই মেয়েটি চলে এসেছিল? দু’জনের মধ্যে প্রণয়ের সম্পর্ক ছিল কি না, তা নিয়েও সংশয়প্রকাশ করেছেন তিনি।  পরিবারের দাবি, প্রহ্লাদ কোনও দিনই আগ্নেয়াস্ত্র বা বন্দুক চালাতে পারত না। 

Read more!
Advertisement
Advertisement