
বনগাঁর গাইঘাটায় ধর্ষণ করে কিশোরীকে খুনের অভিযোগে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল রাজ্যে। ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্ত প্রহ্লাদ দাসকে অ্যারেস্ট করেছিল পুলিশ। গ্রেফতারির ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্তকে এনকাউন্টার করল পুলিশ। জানা গিয়েছে, ঘটনার পুনর্নিমাণের সময় অভিযুক্ত পুলিশের বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালায় অভিযুক্ত। এরপরেই পুলিশের পাল্টা গুলিতে খতম হয় অভিযুক্ত।
অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ঠিক কী অভিযোগ ছিল?
ঘটনার সূত্রপাত শনিবার রাতে। ওই দিন গাইঘাটায় এলাকারই একটি বিজয়া সম্মিলনীর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিল মৃত একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, রাত রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ তার কাছে ফোন আসে। তার পরেই জলসার জায়গা ছেড়ে বেরিয়ে যায় সে। কিন্তু আর বাড়ি ফেরেনি। পরিবারের লোকজন রাতভর খোঁজ করেন। রবিবার সকালে বিবস্ত্র অবস্থায় এক প্রতিবেশীর বাড়ির সামনে থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক ভাবে জানা যায়, তাঁকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে।
অভিযুক্তকে চিনে নিন
ঘটনায় অভিযুক্ত প্রহ্লাদ দাসকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ২৩ বছরের ওই যুবক কিশোরীর আত্মীয় বলে জানা গিয়েছে। রবিবার সকালেই তাকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর সোমবার গোটা দিন তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। মঙ্গলবার ভোররাতে ঘটনার পুনর্নিমাণের জন্য অভিযুক্তকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশ সূত্রে দাবি, এই সময়ই পুলিশের হাতের রিভলভার ছিনিয়ে গুলি চালায় অভিযুক্ত। সেই ঘটনায় এক পুলিশকর্মী আহত হন। এমন পরিস্থিতিতে আত্মরক্ষায় পুলিশ পাল্টা গুলি চালায়। তাতেই গুলিবিদ্ধ হয় প্রহ্লাদ। দ্রুত গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে চাঁদপাড়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
উল্লেখ্য, মাত্র তিন মাস প্রায় এমনই একটি এনকাউন্টারের ঘটনা ঘটেছিল বারুইপুরে। সেখানেও এক নাবালিকাকে গণধর্ষণ করে খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলেরও মৃত্যু হয়েছিল পুলিশের গুলিতে। পুলিশের দাবি ছিল, সেক্ষেত্রেও অভিযুক্ত ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময়, পুলিশের আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেছিল অভিযুক্ত। পুলিশের পাল্টা গুলিতে মৃত্যু হয়েছিল অভিযুক্তের।