Advertisement

১ টাকার পাঠশালা, স্কুলছুট পড়ুয়াদের জন্য, পুরুলিয়া, হাবরায় অভিনব উদ্যোগ

গুরুদক্ষিণা হিসেবে নেওয়া হয় ১ টাকা। কারণ অনেকেরই ফ্রি পরিষেবা নিতে সন্মানে লাগতে পারে তাই এক টাকা নেওয়া হয় গুরুদক্ষিণা হিসাবে। এক টাকার বিনিময়ে দেওয়া হয় ভালোবাসা। গানের শিক্ষা, নাটক, অঙ্কন ইত্যাদি শেখানো হয়। দেওয়া হয় সাধ্যমতো টিফিন, নতুন পোশাক, শিক্ষা সামগ্রী,পিকনিক ইত্যাদি। এখন হাতে গোনা দুই-চার জন বাদে এক টাকার পাঠশালায় আসে ৪০-এর উপরে ছাত্রছাত্রী।

শিক্ষক দিবসের এক অন্য গল্পশিক্ষক দিবসের এক অন্য গল্প
সুমনা সরকার
  • হাবরা,
  • 03 Sep 2026,
  • अपडेटेड 4:30 PM IST

শ্রী শ্রী গুরুচাঁদ ঠাকুরের বাণী, খাও বা না খাও তাতে কোন দুঃখ নাই।  ছেলে মেয়েকে শিক্ষা দাও এই আমি চাই , ছেলে মেয়ে দিতে শিক্ষা প্রয়োজনে করবে ভিক্ষা।  এই বাণী মাথায় রেখেই২০১৯ সালে হাবরা  টুনিঘাটার পাড়ুইপাড়ার হতদরিদ্র শিশুদের নিয়ে এক টাকার পাঠশালা তৈরী হয়।  যেখানে অধিকাংশ শিশুরা ছিল স্কুল ছুট, স্কুলে যেত না। তারা অনেকেই মাছ ধরতে যেত ,খেলাধূলা করতো।  তার কারণ , বাবা মায়েরা অনেকেই পড়াশোনা জানেন না এবং বাবারা মাছ ধরা পেশাকে বেছে নেওয়ায় শিশুরাও ভেসে পড়তে ভিঙি নৌকা নিয়ে মাছ ধরতে।  অনেক মায়েরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিচারিকার কাজ করতো। ফলে কিছু শিশুর স্কুলে নাম থাকলেও স্কুলে যেত না। স্কুল ছুট ছিল। তাদের খেয়াল রাখার কেউ ছিল না। এদেরকেই  নানা কৌশলে, বাড়ি বাড়ি গিয়ে দিনের পর দিন বুঝিয়ে সুজিয়ে নানা কৌশলে এক টাকার পাঠশালায় আনা হয়। ওদের মন বুঝতে নেচে নেচে, মজা করে, নাটকের মত করে পড়ানো হয়। 
 
গুরুদক্ষিণা হিসেবে নেওয়া হয় ১ টাকা। কারণ অনেকেরই ফ্রি পরিষেবা নিতে  সন্মানে লাগতে পারে তাই এক টাকা নেওয়া হয় গুরুদক্ষিণা হিসাবে। এক টাকার বিনিময়ে দেওয়া হয় ভালোবাসা। গানের শিক্ষা, নাটক, অঙ্কন ইত্যাদি শেখানো হয়।  দেওয়া হয় সাধ্যমতো টিফিন, নতুন পোশাক, শিক্ষা সামগ্রী,পিকনিক ইত্যাদি। এখন হাতে গোনা দুই-চার জন বাদে এক টাকার পাঠশালায় আসে ৪০-এর উপরে ছাত্রছাত্রী। প্রায় প্রতিদিন সকালে স্কুল টাইমে বাড়ি বাড়ি চলে টহল। কে কে স্কুলে যাচ্ছে আর কে যাচ্ছে না তা প্রতিদিনই দেখতে হয়। শুধু কি তাই, যদি কেউ মাছ ধরতে যায় সেখানে গিয়েও তাকে তুলে নিয়ে এসে স্কুলে পাঠানো হয় এমনই জানালেন এক টাকার পাঠশালার কর্ণধার সঞ্জিব কাঞ্জিলাল।

 

বলাবাহুল্য, সঞ্জীব একজন নাবিক। জীবনের ঝুকি নিয়ে গভীর সমুদ্রে পাড়ি দেওয়া তার কাজ। ঝড়, তুফান, সমস্ত কিছু উপেক্ষা করে আট মাস থাকতে হয় সমুদ্রে। উপার্জনের টাকার একটি বড় অংশ দিয়েই চলে হাবরা ও পুরুলিয়া দুটি এক টাকার পাঠশালা। 

Advertisement

উল্লেখ্য, এভাবেই রাতের পর রাত দিনে টহল দিয়ে বাচ্চাদেরকে স্কুলমুখী করে তোলা হয়েছে। তেমনি রাতের অন্ধকারেও চলে টহল। কে পড়ছে, কে ঘুমিয়ে পড়েছে, তা দেখার। প্রসঙ্গত,  পিছিয়ে পড়া পারুই সম্প্রদায়ের ছেলেমেয়েদের নিয়ে গড়ে উঠেছিল এক টাকার পাঠশালা। যা এখনও সুনামের সঙ্গে হাবরা টুনিঘাটা এলাকায় চালিয়ে যাচ্ছেন সঞ্জীব কাঞ্জিলাল। যে সমস্ত ছেলে-মেয়ে আর্থিক সামর্থের অভাবে, একসময় পড়াশোনার গণ্ডি থেকে অনেক দূরে ছিল। তারাই আজ এই পাঠশালায় পড়াশোনার মধ্যে দিয়ে উঠে আসছে উপরের সারিতে। জীবনে চলার পথে যাতে সব রকমের শিক্ষা তাদের থাকে সেই উদ্দেশ্যেই এই এক টাকার পাঠশালা।

এইসব শিশুদের মূলস্রোতে ফেরানোর জন্যেই লড়াই শুরু করেছিলেন সঞ্জীব কাঞ্জিলাল। প্রত্যন্ত গ্রামের মেহগনি গাছতলায়। এখানেই রয়েছে তাঁর পাঠশালা। যেখানে পাখির ডাক কানে ভেসে আসে। যতদূর চোখ যায়, সবুজ আর সবুজ। ডিঙ্গি নৌকোয় মাছ ধরে জেলে। এর মাঝে কিছু ছেলেমেয়েরা আওড়ে যায়, 'পাখি সব করে রব…'। এখন অনেকেরই প্রশ্ন হতে পারে বাগানে কেন পড়ানো হয়, এই প্রসঙ্গে সঞ্জীব বলেন,  আমাদের মনে হয়েছে শান্তিনিকেতন হয়তো এটা নয়, কিন্তু শান্তিনিকেতনের ভাবধারা,চিন্তা ভাবনা যদি মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া এবং বাচ্চারা যেহেতু আগে মাঠে ঘাটে খেলাধুলা করতো, ঘুরে বেড়াতো তাই ওদের আটকে রাখার জন্য ফাঁকা জায়গা বা বাগান সব থেকে বেশি ভাল হবে।  একাজে প্রথম থেকে সাহায্য করে আসছে সমীরণ কাঞ্জিলাল,সত্যজিৎ বালা, রাহুল মহন্ত, ছন্দা মজুমদার ,অমৃত বিশ্বাস, সুদীপ মন্ডল,লাবলী সরকার প্রমুখ।

জায়গা না থাকার কারণে  বৃষ্টিতে ছোট্ট ঘরের মধ্যে চলে পড়াশোনা। প্রায় রোজই বাড়ছে ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা। কিন্তু আর্থিক অভাবের কারনে আপাতত নেওয়া বন্ধ করা হয়েছে।  সঞ্জিব কাঞ্জিলাল বলেন, এটা আমাদের সোনার সংসার। এদের শিক্ষার আলোয় আনতে কয়েকটি বছর চলে গেছে। মাঝে মাঝে মায়েরদেরও নীরক্ষরতা দূরকরণ  চলছে। এদের পড়াশোনা করাতে প্রয়োজনে ভিক্ষা করবো।

Read more!
Advertisement
Advertisement