
হাবরা থানার পুলিশ অফিসারের রহস্যমৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য। থানার ব্যারাকেই মিলল সাব ইন্সস্পেক্টরের ঝুলন্ত দেহ। নাম বিশ্বনাথ সেন। বারাসত পুলিশের অধীনে থাকা হাবরা থানায় পোস্টিং ছিলেন বিশ্বনাথ।
সকাল থেকেই খোঁজ মিলছিল না বিশ্বনাথের
জানা গিয়েছে, আজ অর্থাত্ সোমবার তাঁর বারাসত আদালতে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সকাল থেকেই খোঁজ মিলছিল না বিশ্বনাথ সেনের। এরপর তাঁকে মোবাইলে বারবার ফোন করা হয়। কিন্তু দেখা যায়, মোবাইল ফোনেও সাড়া মিলছে না। বিশ্বনাথকে খুঁজতে তাঁর সহকর্মীরা এরপর পুলিশ ব্যারাকে পৌঁছন।বিশ্বনাথের রুমের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ ছিল। অনেকক্ষণ ধাক্কা দেওয়ার পরেও দরজা খোলা হচ্ছে না দেখে দরজা ভেঙে ভিতরে ঢোকার সিদ্ধান্ত নেন পুলিশকর্মীরা।
গলায় গামছার ফাঁস লাগানো ঝুলন্ত দেহ
দরজা ভাঙতেই দেখা যায়, ঘরের উঁচু জানলা থেকে ঝুলছে বিশ্বনাথ সেনের দেহ। গলায় গামছার ফাঁস। তবে ঠিক কী কারণে এই ঘটনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এই ঘটনায় হাবরা থানার পুলিশকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া। সহকর্মীরা জানিয়েছেন, ঘটনার আগে বিশ্বনাথের আচরণে অস্বাভাবিক কিছু নজরে এসেছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁর ব্যক্তিগত জীবন, কর্মক্ষেত্রের পরিস্থিতি এবং সাম্প্রতিক কোনও সমস্যা ছিল কি না, তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে।
দেহ পাঠানো হয়েছে ময়নাতদন্তের জন্য
তদন্ত শুরু করেছে হাবড়া থানার পুলিশ। কীভাবে এবং কোন পরিস্থিতিতে এই ঘটনা ঘটল, তা জানতে ব্যারাকের ঘরটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে কোনও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা সূত্র পাওয়া গিয়েছে কি না, তাও তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে বিশ্বনাথ সেনের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য বারাসত মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে তদন্তকারীদের অনুমান।
পুলিশ অফিসারের এ ভাবে মৃত্যুকে ঘিরে ইতিমধ্যেই একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। প্রাথমিক ভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে মনে হলেও, এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। মৃত্যুর আগে তিনি কারও সঙ্গে ফোনে বা অন্য কোনও মাধ্যমে যোগাযোগ করেছিলেন কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।