
হলদিয়া শিল্পাঞ্চলে আগামী একবছরে ঘটতে চলেছে বিপুল বিনিয়োগ। হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের নয়া ফেনল ও অ্যাসিটোন প্রকল্পরে সূচনায় এসে সেই তালিকা দিয়ে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই প্রকল্পের জন্য ৬০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হচ্ছে। আগামী দিনে আরও ১০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ আসবে, সেই কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী।
হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসে বিপুল বিনিয়োগ
প্রসঙ্গত, পালাবদলের পর বঙ্গে শিল্প খরা কাটাতে উদ্যোগী হয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। একের পর বিনিয়োগ আসছে রাজ্যে। শিল্প কারখানার সম্প্রসারণের পাশাপাশি দেশ-বিদেশের বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করছেন রাজ্যের মন্ত্রীরা। বঙ্গে শিল্পের এই নতুন জোয়ারে এবার সামিল হল হলদিয়াও। বুধবার পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়ায় ৬ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে ফেনল ও অ্যাসিটোন উৎপাদন কেন্দ্র গড়তে চলেছে হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালস লিমিটেডের সম্পূর্ণ সহযোগী সংস্থা অ্যাডপার্মা প্রাইভেট লিমিটেড। আজই এই কারখানার উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
এই প্রকল্পের উৎপাদন ক্ষমতা হবে বছরে ৩.৫ লক্ষ টন। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ভারতের পেট্রোকেমিক্যাল শিল্পে দেশীয় উৎপাদনের পরিমাণ বাড়বে এবং বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাঁচামালের জোগান আরও মজবুত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রায় ২ দশক পর হলদিয়ায় বড় মাপের শিল্পের বিনিয়োগে শিল্পশহরের শ্রমিকদের মধ্যেও ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা গিয়েছে। বর্তমানে ভারতের মোট ফেনলের চাহিদার প্রায় ৫০ শতাংশ এবং অ্যাসিটোনের চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশ আমদানির মাধ্যমে মেটানো হয়। হলদিয়ার এই উৎপাদন কেন্দ্র চালু হলে দেশীয় বাজারে এই দুই গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিকের জোগান বাড়তে পারে। ফলে আমদানির উপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থাও আরও স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কর্মসংস্থান বাড়বে
৬,০০০ কোটি টাকার এই প্রকল্প শুধু উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধিতেই সীমাবদ্ধ নয়। এর মাধ্যমে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষ কর্মী ও পেশাদারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। রাসায়নিক ইঞ্জিনিয়ারিং, উৎপাদন প্রক্রিয়া পরিচালনা, শিল্পক্ষেত্রে নিরাপত্তা, গুণমান নিয়ন্ত্রণ, পরিবহণ ও সরবরাহ ব্যবস্থা এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার মতো ক্ষেত্রে কর্মীর চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, স্থানীয়দের মধ্যে থেকেই দক্ষ কর্মী নিয়োগে জোড় দেওয়া হবে। সেজন্য ক্যাম্পাসিংয়েরও ব্যবস্থা করা হবে। সেইসঙ্গে রাজ্যে দক্ষ কর্মী তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন শুভেন্দু অধিকারী। আইটিআইয়ের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বৃদ্ধির উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, এত দিন রাজ্যে এই ক্ষেত্রটি যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি। শিল্পের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা গেলে তরুণ-তরুণীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে বলেও ইঙ্গিত দেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি হলদিয়া শিল্পাঞ্চলের জন্য ট্রমা সেন্টার তৈরির ঘোষণাও করেন শুভেন্দু অধিকারী।
হলদিয়াকে ঘিরে নতুন সম্ভাবনা
পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিনিয়োগ টানা এবং শিল্পের পরিকাঠামো শক্তিশালী করার উদ্যোগের মধ্যেই হলদিয়ার এই প্রকল্পকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পেট্রোকেমিক্যাল উৎপাদন বাড়লে রাজ্যের শিল্পভিত্তি আরও মজবুত হতে পারে। পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট ছোট-বড় ব্যবসা এবং পরিষেবা ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী এদিন জানিয়ে দেন, ঠাণ্ডা পানীয়র সংস্থা পেপসিকোকে হলদিয়ায় ফ্রুট জুস প্রসেসিং কারখানা গড়ার জন্য ৯৮ একর জমি দিচ্ছে হলদিয়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা এইচডিএ। ৫০ একর জমি দেওয়া হচ্ছে বায়োটেকনোলজি এবং বায়োপ্রসেসিং-এ বিশেষজ্ঞ সংস্থা প্রোভিসকে। এছাড়াও হলদিয়ায় আইওসির রিফাইনারিতে নতুন বিনিয়োগ আসছে। সঞ্জীব গোয়েঙ্গার হলদিয়া এনার্জিও নতুন প্ল্যান্ট সেট আপ করতে চলেছে ব্যারাকপুর ও হলদিয়ায়। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন, পুজো শেষ হলেই ক্যাম্পা কোলার কারখানার ভূমিপুজো হবে। এক বছরের মধ্যে দেখবেন পশ্চিমবঙ্গ বিনিয়োগকারীদের ঠিকানা হতে পারে।