Advertisement

Highest Rainfall District: বর্ষায় উত্তরকে টেক্কা দক্ষিণবঙ্গের, কোন জেলায় বেশি বৃষ্টি?

চলতি বছর ৯ জুন উত্তরবঙ্গে এবং ১১ জুন দক্ষিণবঙ্গে বর্ষা প্রবেশ করেছিল। চার মাস পর বর্ষা বিদায়ের পথে কোন কোন জেলায় কেমন বৃষ্টি হল, জানুন।

বর্ষার পুরো আপডেট।বর্ষার পুরো আপডেট।
Aajtak Bangla
  • কলকাতা ,
  • 01 Oct 2026,
  • अपडेटेड 10:41 PM IST
  • ৪ মাসের বর্ষার মরসুম শেষের পথে।
  • এবার বর্ষার সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে পূর্ব মেদিনীপুরে।

চলতি বছর পশ্চিমবঙ্গে বর্ষার বৃষ্টি মোটের উপর স্বাভাবিকই ছিল। মৌসম ভবনেপ তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, বর্ষাকালে রাজ্যে গড়ে বৃষ্টি হয়েছে ১৩৫৯.৯ মিলিমিটার। যা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ১ শতাংশ বেশি। তবে জেলাভিত্তিক বৃষ্টির পরিমাণে যথেষ্ট ফারাক রয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জেলায় স্বাভাবিক বা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টি হয়েছে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেকটাই কম।

আবহবিদ রবীন্দ্র গোয়েঙ্কা জানালেন, চলতি বছর ৯ জুন উত্তরবঙ্গে এবং ১১ জুন দক্ষিণবঙ্গে বর্ষা প্রবেশ করেছিল। দক্ষিণবঙ্গে বর্ষার বৃষ্টি মূলত বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া বিভিন্ন নিম্নচাপের উপর নির্ভরশীল। সাধারণত দক্ষিণবঙ্গ থেকে বর্ষার বিদায়পর্ব শুরু হয় প্রায় ১০ অক্টোবর নাগাদ। জুনের মাঝামাঝি থেকে অক্টোবরের শুরুর মধ্যে বঙ্গোপসাগরে সাধারণত ১০ থেকে ১২টি নিম্নচাপ তৈরি হয়। এ বছর বঙ্গোপসাগরে প্রথম নিম্নচাপ তৈরি হয়েছিল জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে।

কোথায় বেশি বৃষ্টি?

মোট বৃষ্টির পরিমাণের নিরিখে অবশ্য রাজ্যে শীর্ষে আলিপুরদুয়ার। সেখানে বর্ষাকালে ২৬০৬.১ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে, সবচেয়ে কম বৃষ্টি হয়েছে নদিয়ায় ৭৫২.২ মিলিমিটার। যদিও আলিপুরদুয়ারে মোট বৃষ্টির পরিমাণ বেশি হলেও সেখানে বৃষ্টির পরিমাণ স্বাভাবিকই। দক্ষিণবঙ্গের হাওড়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, হুগলি এবং পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান-সহ একাধিক জেলায় বৃষ্টি হয়েছে স্বাভাবিক। উত্তরবঙ্গের কালিম্পং, কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ারেও বর্ষার বৃষ্টি ছিল স্বাভাবিক।

মৌসম ভবনের পরিসংখ্যান বলছে, স্বাভাবিকের তুলনায় সবচেয়ে বেশি অতিরিক্ত বৃষ্টি হয়েছে পূর্ব মেদিনীপুরে। ওই জেলায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১৯১৩.৫ মিলিমিটার। যা স্বাভাবিকের তুলনায় ৪৮ শতাংশ বেশি। কলকাতায় স্বাভাবিকের তুলনায় ২৮ শতাংশ এবং উত্তর ২৪ পরগনায় ২৯ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছে।11

উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির ঘাটতি

এর উল্টো দিকে উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির ঘাটতি। উত্তর দিনাজপুরে স্বাভাবিকের তুলনায় ৩৩ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে। রাজ্যের সব জেলার মধ্যে এটিই সবচেয়ে বেশি ঘাটতি। মালদা, দক্ষিণ দিনাজপুর, দার্জিলিং এবং জলপাইগুড়িতেও স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টি।

Advertisement

এক নজরে বৃষ্টির হিসাব

রাজ্যে গড় বৃষ্টি: ১৩৫৯.৯ মিলিমিটার, স্বাভাবিকের তুলনায় ১% বেশি
স্বাভাবিকের তুলনায় সবচেয়ে বেশি অতিরিক্ত বৃষ্টি: পূর্ব মেদিনীপুর ৪৮%
সবচেয়ে বেশি বৃষ্টির ঘাটতি: উত্তর দিনাজপুর ৩৩%
মোট বৃষ্টির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি: আলিপুরদুয়ার ২৬০৬.১ মিলিমিটার
মোট বৃষ্টির পরিমাণ সবচেয়ে কম: নদিয়া ৭৫২.২ মিলিমিটার
১১ জুন দক্ষিণবঙ্গে ঢুকেছিল বর্ষা

জুলাই-অগাস্টকে পিছনে ফেলেছে সেপ্টেম্বর

সেপ্টেম্বরে কলকাতায় দফায় দফায় ভারী বৃষ্টি হয়েছে। ১ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শহরে স্বাভাবিকের দ্বিগুণেরও বেশি বৃষ্টি হয়েছে। ওই সময়ে কলকাতায় ৫৪৭.৯ মিলিমিটার রেকর্ড বৃষ্টি হয়েছে। ১৯৯০ সাল থেকে পাওয়া ৩০ বছরের তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ের স্বাভাবিক বৃষ্টির পরিমাণ ২৬৫.২ মিলিমিটার। এ বছর সেপ্টেম্বরে ইতিমধ্যেই স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ১০৭ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছে। সাধারণত জুলাই এবং অগাস্ট কলকাতার সবচেয়ে বেশি বৃষ্টির মাস। সেপ্টেম্বরে এই দুই মাসের তুলনায় বৃষ্টি কিছুটা কম হয়। কিন্তু সেই চেনা ছবিও বদলে গিয়েছে এ বছর। জুলাই এবং অগাস্টকে পিছনে ফেলে দিয়েছে সেপ্টেম্বরের বৃষ্টি।

জুন থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কলকাতায় মোট ১৬৭৭.৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। যা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি। সেপ্টেম্বরের অতিরিক্ত বৃষ্টিই গোটা বর্ষার হিসাবকে উদ্বৃত্তের দিকে নিয়ে গিয়েছে।

একের পর এক নিম্নচাপ

বর্ষার শুরুতে বঙ্গোপসাগরে পর্যাপ্ত আবহাওয়া ব্যবস্থা তৈরি না হওয়ায় রাজ্যে বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কম ছিল। পরে পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়। বঙ্গোপসাগরে প্রায় ১০টি নিম্নচাপ তৈরি হয়। তার প্রভাব পড়ে দক্ষিণবঙ্গে। একাধিক জেলায় স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বৃষ্টি হয়েছে।
 


 

TAGS:
Read more!
Advertisement
Advertisement