
মঙ্গলবার রেজিনগরে উপনির্বাচনের সকাল থেকেই একেবারে ফুল ফর্মে ছিলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীর। তিনি পুলিশকে হুমকিও দেন বলে অভিযোগ। পুলিশের উদ্দেশে দফায় দফায় ‘কুকথা’ বলার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। পুলিশের সঙ্গে তাঁর ধস্তাধস্তিও হয়। তাঁকে গ্রেফতারও করা হয়। আর উপনির্বাচন মিটতেই একেবারে ভেঙে পড়লেন হুমায়ুন। রাজনীতি থেকে স্বেচ্ছাবসরের ঘোষণাও করে দিলেন।
পুলিশের হাতে টানা ১২ ঘণ্টা আটক থাকার পর বুধবার একেবারে অন্যরূপে ধরা দিলেন নওদার বিধায়ক তথা আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর। সংবাদমাধ্যমের সামনে আর সেই দাবাং মেজাজ নয়, বরং জোড়হাতে কেঁদে ভাসাতে দেখা গেল তাঁকে। হুমায়ুনের এমন অভাবনীয় রূপ দেখে হতবাক হয়ে যান অনেকেই।
কী বলছেন হুমায়ুন
আগামী ৯ তারিখ রেজিনগর উপনির্বাচনের ফল ঘোষণা হবে। এরমধ্যেই চোখে জল নিয়ে বড় মন্তব্য করলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীরের। তাঁর দাবি, রেজিনগরে বড় জয় পাবে বিজেপি। এজন্য পুলিশ প্রশাসনকেও একহাত নেন হুমায়ুন। শুধু তাই নয়, একরাশ অভিমান নিয়ে নওদার বিধায়ক বলেন, 'যতদিন মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শুভেন্দু অধিকারী থাকবেন ততদিন বিধানসভায় যাব না। এজন্য নওদার মানুষের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেব।' প্রয়োজনে রাজনীতি থেকে স্বেচ্ছাঅবসর নেবেন বলেও জানান আম জনতা উন্নয়ন পার্টি প্রধান। মাইনরিটি অ্যাফেয়ার্স, হাউস কমিটি, বিজনেস অ্যাডভাইসরি কমিটি, সর্বদলীয় বৈঠক কিংবা স্পিকারের ডাকা কোনও বৈঠকেও যোগ দেবেন না বলে জানান তিনি। তাঁর জন্য নির্ধারিত আসনটি ফাঁকা রাখার কথাও বলেন।
কান্নায় ভেঙে পড়ে ক্ষমা প্রার্থনা
এ দিন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন হুমায়ুন কবীর। হাতজোড় করে রেজিনগরের সাধারণ মানুষের কাছে ক্ষমা চেয়ে তিনি বলেন, 'আমি রেজিনগরের মানুষের কাছে ক্ষমা চাইছি। গত পাঁচ মাস আগে তাঁরা আমাকে যে সম্মান দিয়ে বিধায়ক করেছিলেন, আমি তাঁদের সেই মর্যাদা রাখতে পারিনি। রেজিনগরের সর্বস্তরের মানুষের কাছে আমি ক্ষমা চাইছি। আগামী দিনে আমি রাজনীতি এবং সমস্ত কিছু থেকেই সরে দাঁড়াবো।'
মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করে বিস্ফোরক মন্তব্য
কান্নাজড়িত কন্ঠেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে তীব্র আক্রমণ করেন তিনি। হুমায়ুন কবীর সাফ বলেন, 'শুভেন্দু অধিকারী পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী যতদিন থাকবেন, ততদিন আমি আর বিধানসভায় যাব না।' হুমায়ুনের বক্তব্য, 'শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী ও পুলিশমন্ত্রী থাকাকালীন তাঁর অধীনস্থ পুলিশ যেভাবে গত দু’মাস ধরে রেজিনগরবাসীর ওপর অত্যাচার করে গেল, তার প্রতিবাদ জানাচ্ছি। শুভেন্দু অধিকারীর মতো পুলিশমন্ত্রীর দয়াতে হুমায়ুন কবীর রাজনীতি করবেন না।'
নির্বাচন প্রসঙ্গে ক্ষোভ
নির্বাচন প্রসঙ্গে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি আরও বলেন, 'রেজিনগর-নন্দীগ্রামে কোনও ভোটই হয়নি। পুলিশ দিয়ে ভোট লুট করানো হয়েছে। বাংলায় কোনও গণতন্ত্র নেই, এখন পুলিশরাজ চলছে। কাল ভোট দেওয়ার পর আমাকে পুলিশ তুলে নিয়ে গিয়ে টানা ১২ ঘণ্টা আটকে রাখে। আমাকে কোনও বুথেই যেতে দেওয়া হয়নি। এর আগে জ্যোতিবাবু, বুদ্ধবাবু কিংবা মমতার আমলেও পুলিশ এত খারাপ ছিল না।'
রাজনীতি থেকে সন্ন্যাসের কথা বললেও এখনই বিধায়ক পদ ছাড়ছেন না বলেই জানিয়েছেন হুমায়ুন। নওদার মানুষের সঙ্গে আলোচনা করেই পরবর্তী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানান তিনি। রেজিনগরে তাঁর ছেলে গোলাম নবী আজাদ প্রার্থী হয়েছেন। ভোটের ফল প্রকাশের আগেই হুমায়ুনের এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।