
আজও নিম্নচাপের জেরে দক্ষিণবঙ্গে জুড়ে বৃষ্টির দাপট চলবে। আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপটি বর্তমানে অবস্থান করছে দিঘার কাছাকাছি। হাওয়া অফিস বলছে, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টির দাপট আরও বাড়বে। দক্ষিণবঙ্গের উপকূলবর্তী জেলাগুলির পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকাগুলিতেও আজ অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। আগামী কয়েকদিনের আবহাওয়া নিয়ে হাওয়া অফিস কী বলছে? চলুন জেনে নেওয়া যাক আপডেট।
হাওয়া অফিসের লেটেস্ট আপডেট
বঙ্গোপ সাগরে ঘনীভূত শক্তিশালী নিম্নচাপের জেরে রাজ্যজুড়ে মেঘলা আকাশ ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া। মঙ্গলবার সকাল থেকেই কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতে ঝিরঝিরে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। মৌসম ভবন জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ উপকূলের কাছাকাছি উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি গত ৬ ঘণ্টায় ৭ কিমি গতিতে পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়েছে। এটি আজ, ২৮ জুলাই ২০২৬, রাত ১২:৩০ থেকে ১:৩০-এর (IST) মধ্যে দিঘার কাছ পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর ওড়িশা উপকূল অতিক্রম করে। এরপর ভোর ৫:৩০-এ (IST) এটি উত্তর ওড়িশা উপকূল এবং সংলগ্ন গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এলাকায় অবস্থান করছিল। এই অবস্থানটি দিঘা (পশ্চিমবঙ্গ) থেকে ৩০ কিমি পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিমে, বালেশ্বর (ওড়িশা) থেকে ৩০ কিমি উত্তর-পূর্বে, বারিপদা (ওড়িশা) থেকে ৫০ কিমি পূর্ব-দক্ষিণ-পূর্বে, জামশেদপুর (ঝাড়খণ্ড) থেকে ১৬০ কিমি দক্ষিণ-পূর্বে এবং কেওনঝড়গড় (ওড়িশা) থেকে ১৭০ কিমি পূর্বে অবস্থিত। আগামী ২৪ ঘণ্টায় এর উত্তর ওড়িশা, দক্ষিণ ঝাড়খণ্ড এবং উত্তর ছত্তিশগড়ের ওপর দিয়ে পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে থাকার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এবং ক্রমশ দুর্বল হবে। আলিপুর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, এর প্রভাবে উপকূলবর্তী জেলা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে । উপকূলবর্তী এলাকায় ঝোড়ো হাওয়াও বইতে পারে । সেই কারণে সতর্কতা হিসেবে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে ।
দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টি কতদিন?
এই নিম্নচাপের জেরে কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় দিনভর বৃষ্টির সম্ভাবনা। আগামী ২৪ ঘণ্টায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে দুই ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, হাওড়া ও কলকাতায়। পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং ঝাড়গ্রাম জেলার কিছু অংশে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা। পূর্ব মেদিনীপুর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার উপকূলের অংশে এবং ঝাড়গ্রামে বৃষ্টির সঙ্গে ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার গতিবেগে দমকা বাতাস। অন্যান্য জেলাতে বৃষ্টির সঙ্গে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার গতিবেগে বাতাস বইবে। তবে দু'দিন পর থেকে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টিপাতের তীব্রতা কমে যাবে অনেকটাই । বুধবার থেকে রবিবার পর্যন্ত আপাতত ঝড় বৃষ্টির কোনও সতর্কবার্তা নেই দক্ষিণবঙ্গে।
উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি
আজ ভারী বৃষ্টি হবে উত্তরবঙ্গেও। দার্জিলিং, আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ি জেলাতে ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বুধবার থেকে রবিবার বৃষ্টি বাড়বে উত্তরবঙ্গে। উপরের দিকের পাঁচ জেলাতেই ভারী বৃষ্টির হলুদ সর্তকতা রয়েছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারে বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে।
কলকাতার আবহাওয়া যেমন থাকবে
কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে সাধারণত মেঘলা আকাশ থাকবে ৷ কয়েক পশলা হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে । এছাড়াও কিছু কিছু জায়গায় ভারী বৃষ্টিপাতেরও সম্ভাবনা থাকছে। কাল থেকে বৃষ্টির সম্ভাবনা কমবে। জলীয় বাষ্প থাকায় বাতাসে আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি থাকবে। আজ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৬.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩০.৪ ডিগ্রি। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ ৭৭ থেকে ৯৬ শতাংশ। বৃষ্টিপাত হয়েছে ৬.৮ মিলিমিটার।
মৎস্যজীবীদের জন্য সতর্কতা
নিম্নচাপের জেরে সমুদ্রপৃষ্ঠে ৫৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার গতি বেগে দমকা বাতাস বইতে পারে। মৎস্যজীবীদের আজ সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।