Advertisement

Indranil Sen: মাঝরাতে ঘুঙুরের শব্দ, অল্পবয়সি মেয়েদের হাসি, ইন্দ্রনীলের ওই বাগানবাড়ি নিয়ে যা যা শোনা গেল...

রাত ১২টার পর ইন্দ্রনীল সেনের বাগানবাড়িতে একের পর এক গাড়ি ঢুকত। সেই গাড়িতে করে অল্প বয়সী মহিলাদের নিয়ে আসা হত। সারারাত ধরে মেয়েদের নিয়ে ফুর্তি করা হত।

ইন্দ্রনীল সেন ও সিঙ্গুরে প্রাসাদপম বাগানবাড়িইন্দ্রনীল সেন ও সিঙ্গুরে প্রাসাদপম বাগানবাড়ি
Aajtak Bangla
  • সিঙ্গুর,
  • 03 Nov 2026,
  • अपडेटेड 1:07 PM IST
  • রাত ১২টার পরে ঘুঙুরের শব্দ
  • জমি জবর দখল করে বাড়িটি তৈরি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ
  • ঠিক কী অভিযোগ ইন্দ্রনীলের বিরুদ্ধে

জমিদারি প্রথার বিলুপ্ত হলে কী হবে, ইন্দ্রনীল সেনের জীবনযাপন ছিল আগেকার জমিদারদের মতোই। সিঙ্গুর থেকে সাড়ে ৯ কিমি মতো গেলেই ছুটিপুর গ্রাম। সেই গ্রামে স্থানীয় বাসিন্দারা 'দ্বিতীয় শাহজাহান' বলতেন ইন্দ্রনীলকে। 'দূরের বলাকা'র গায়কের কীর্তির বিস্তারও অনেক দূর! পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সেই শান্তিকেতনের 'অপা' বাড়িকে ১০ গোল দেয় ইন্দ্রনীলের 'মোহর'।  সুবিশাল বাগানবাড়ি। ঠিক যেমন অতীতে জমিদারদের বাগানবাড়ি থাকত। এমনকী জমিদারি কায়দায় সেখানে নাকি মুজরোও বসত!

UNESCO-র নাম ও লোগো ব্যবহার করে দুর্গাপুজোর পাস বিক্রির নামে কোটি কোটি টাকার জালিয়াতির অভিযোগে আপাতত লকআপে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। এই সব দুর্নীতির তদন্ত করতে গিয়েই সামনে এসেছে সিঙ্গুরে ইন্দ্রনীলের সেই বাগানবাড়ি। যার নাম মোহর। জানা যায়, বছর দশেক আগে, অর্থাত্‍ ২০১৬ সাল নাগাদ ওই বিরাট বাগানবাড়ি তৈরি করা হয়। বাগডাঙা ছিনামোর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। 

রাত ১২টার পরে ঘুঙুরের শব্দ

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে একাধিক চাঞ্চল্যকর দাবি শোনা গেল। গ্রামের এক বাসিন্দার কথায়, 'আমরা তো ওকে দ্বিতীয় শাহজাহান বলতাম। মাসে অন্তত দু-তিনবার এই বাড়িতে আসতেন ইন্দ্রনীল সেন। রাতভর ফূর্তি চলত। মদের ফোয়ারা।' নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক বাসিন্দার দাবি,  রাত ১২টার পর ইন্দ্রনীল সেনের বাগানবাড়িতে একের পর এক গাড়ি ঢুকত। সেই গাড়িতে করে অল্প বয়সী মহিলাদের নিয়ে আসা হত। সারারাত ধরে মেয়েদের নিয়ে ফুর্তি করা হত। চলত আমোদ প্রমোদ। ঘুঙুরের শব্দ আসত। আগেকার দিনে জমিদারদের বাগানবাড়িতে যেমন মুজরোর আসর বসত। ঠিক তেমন।

ইন্দ্রনীল সেনের সেই বাগানবাড়ি 'মোহর'

জমি জবর দখল করে বাড়িটি তৈরি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ

স্থানীয় কয়েকজন আরও দাবি করলেন, এই বাগানবাড়ি তৈরির ক্ষেত্রে নিকাশি বন্ধ করে পঞ্চায়েতে টাকায় নিয়ম বহির্ভূত ভাবে রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। বাগানবাড়ির জায়গা দখলে সিঙ্গুরের প্রাক্তন বিধায়ক বেচারাম মান্নার ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা সাহায্য করেছিলেন। 

Advertisement

ঠিক কী অভিযোগ ইন্দ্রনীলের বিরুদ্ধে

প্রাক্তন পর্যটনমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেতা ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ, দুর্গাপুজোয় ইউনেস্কোর স্বীকৃতির নাম ও লোগো ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ টাকা সংগ্রহ এবং আর্থিক অনিয়ম। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেনের সঙ্গে যুক্ত সংস্থা ‘মহানির্বাণ রোড মাস আর্ট সোসাইটি’ (MassArt)।

অভিযোগ, ২০২২ সালে কলকাতার দুর্গাপুজো ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়ার পর ওই সংস্থা নিজেদের ইউনেস্কোর সহযোগী হিসেবে প্রচার করে। এরপর ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত কলকাতার ২৪টি বড় পুজো দেখানোর জন্য বিশেষ প্রবেশাধিকার বা প্রিভিউ শোয়ের টিকিট বিক্রি করা হয়। টিকিটের দাম ছিল প্রায় ৪,০০০ থেকে ৫,৫০০ টাকা। তদন্তকারীদের সন্দেহ, এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ৫০-৬০ কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়েছিল। ইউনেস্কোর অনুমোদন ছাড়াই তাদের নাম ও লোগো ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। সরকারি কাজের বরাত পাইয়ে দেওয়া এবং সেই সূত্রে আর্থিক লেনদেনে অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে ইডি। অভিযোগ, ঘনিষ্ঠদের সংস্থাকে ৮৫ কোটি টাকারও বেশি সরকারি কাজের বরাত পাইয়ে দেওয়া হয়েছিল।

Read more!
Advertisement
Advertisement