
২০২৬ বিধানসভা ভোটের আগে সিপিআইএম থেকে তৃণমূল কংগ্রেসে গিয়েছিলেন প্রতীক উর রহমান। তারপর থেকে নয়া দল যা যা কাজ দিয়েছিল, সবটাই করে এসেছিলেন তিনি। কিন্তু বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের ভরাডুবির পর থেকে প্রতীক উরকে আর সেভাবে 'খুঁজে পাওয়া' যায়নি। সোশ্যাল মিডিয়া থেকেও নিজেকে গুটিয়ে রেখেছিলেন। তবে অবশেষে সংবাদ মাধ্যমের সামনে মুখ খুললেন তিনি। উত্তর দিলেন একাধিক প্রশ্নের।
এতদিন ঠিক কোথায় ছিলেন প্রতীক উর? তিনি কি এখনও তৃণমূল কংগ্রেসে রয়েছেন? জবাবে তিনি বলেন, 'যাঁরা ছবিতে নেই, তাঁরা কি তৃণমূল করছে না? তৃণমূলের অসংখ্য কর্মী রয়েছে যাঁরা খবরে নেই, তাহলে কি তাঁরা তৃণমূল করছে না? আসলে ন্যারেটিভ সেট হয় যে, খবর থাকলে, টিভিতে থাকলেই তৃণমূল করা হচ্ছে। আমার যেখানে যা কাজ ছিল, সেখানে তা করছি। যথা সময়, যথা জায়গায় প্রমাণ হবে।'
২১ জুলাইয়ের মঞ্চেও দেখা যায়নি প্রতীক উরকে। আর সেই বিষয়টা নিয়েও ইঙ্গিতপূর্ণ কথা বললেন তিনি। তাঁর কথায়, 'কিছু তো লোগ কহেঙ্গে, লোগো কা কাম হে কহনা। এর আগেও অনেক কিছু বলেছিল। ২৫ কোটি টাকা থেকে শুরু করে মগরাহাট পশ্চিমের বিধায়ক করে দিয়েছিল। রাজ্যসভাতেও পাঠিয়ে দিয়েছিল। লোকে অনেক কিছু বলবে।'
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যাচ্ছেন কি? এই প্রশ্ন করা হলে প্রতীক উর বলেন, 'কারা এই প্রশ্ন করছে? সাধারণ মানুষ এই সব প্রশ্ন করে না। যাঁরা রাজনৈতিক অভিমুখ থাকে, তাঁরাই করে।' এরপরই তাঁর ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য, 'প্রশ্ন করাটা তাঁরা গণতান্ত্রিক অধিকার। উত্তর না দেওয়াটা আমার গণতান্ত্রিক অধিকার।'
মাথায় রাখতে হবে, ২০২৬ বিধানসভা ভোটের ঠিক আগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূলে যান প্রতীক উর। তখনই তাঁকে ঘিরে একাধিক জল্পনা শুরু হয়ে যায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ বলতে শুরু করেন তৃণমূলের টিকিটে এবার লড়তে পারেন প্রতীক উর। তবে প্রার্থী তালিকায় নাম ছিল না তাঁর। সেটা দেখে অনেকেই অবাক হয়েছিলেন।
অবশ্য এরপরও ভোটপ্রচারে অ্যাক্টিভ ভূমিকায় দেখা যায় তাঁকে। তিনি একাধিক জায়গায় গিয়ে প্রচারে অংশগ্রহণ করেন।
যদিও ভোটে খারাপ ফলাফলের পর থেকেই অন্তরালে চলে গিয়েছিলেন প্রতীক উর। তাঁকে দলের কোনও কর্মসূচিতে দেখা যায়নি। এমনকী সোশ্যাল মিডিয়াতেও নিষ্ক্রিয় ছিলেন তিনি। কিন্তু অবশেষে মুখ খুললেন প্রতীক উর। কালীঘাটের সামনেই ধরা দিলেন সাংবাদিকদের। জানালেন এখনও কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেসেই রয়েছেন তিনি।