Advertisement

সায়নী পৌঁছতেই 'গো ব্যাক', ঋতব্রত শিবিরের কারা গেলেন? যা চলছে বারুইপুরে

ভয়াবহ নৃশংসতার শিকার হয়েছে বারুইপুরের বারো বছরের কিশোরী। এই নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। পথে নেমেছে বিরোধীরা। সোমবার বিকেলে নিজের বাড়ি থেকে মোমবাতি মিছিল করেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। সোমবার বারুইপুরে যায় কালীঘাট তৃণমূলের প্রতিনিধিরা। বামফ্রন্টের তরফে বারুইপুর থানায় স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়। স্মারকলিপি জমা দেয় এসইউসিআই–ও। এদিকে মঙ্গলবার সকাল থেকেই নির্যাতিতার বাড়িতে রাজনৈতিক নেতাদের যাতায়াত শুরু হয়। এদিন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল শিবির নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করে।

বারুইপুরে শুভেন্দুতেই আস্থা বিরোধীদের, কী বলছেন সায়নী-কাকলি-সিদ্দিকীরা?বারুইপুরে শুভেন্দুতেই আস্থা বিরোধীদের, কী বলছেন সায়নী-কাকলি-সিদ্দিকীরা?
Aajtak Bangla
  • বারুইপুর,
  • 07 Jul 2026,
  • अपडेटेड 3:51 PM IST

ভয়াবহ নৃশংসতার শিকার হয়েছে বারুইপুরের বারো বছরের কিশোরী। এই নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। পথে নেমেছে বিরোধীরা। সোমবার বিকেলে নিজের বাড়ি থেকে মোমবাতি মিছিল করেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। সোমবার বারুইপুরে যায় কালীঘাট তৃণমূলের প্রতিনিধিরা। বামফ্রন্টের তরফে বারুইপুর থানায় স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়। স্মারকলিপি জমা দেয় এসইউসিআই–ও। এদিকে মঙ্গলবার সকাল থেকেই নির্যাতিতার বাড়িতে রাজনৈতিক নেতাদের যাতায়াত শুরু হয়। এদিন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল শিবির  নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করে।

প্রায় ৭২ ঘণ্টা পর বারুইপুরে নাবালিকার যৌন নির্যাতন ও খুনের ঘটনায় সরব হল 'ঋতব্রত তৃণমূল'। মঙ্গলবার সকালেই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবির ৷ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিধায়ক শিউলি সাহা এবং প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যরা যান বারুইপুরের সূর্যপুরে। কিন্তু ঋতব্রত-শিউলিদের দেখে স্থানীয়দের একাংশ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। ঋতব্রতকে উদ্দেশ করে‘চোর-চোর’ স্লোগান দেওয়া হয়।

অন্য দিকে, এনডিএ জোটকে সমর্থনকারী তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ দুই সাংসদ সায়নী ঘোষ এবং কাকলি ঘোষ দস্তিদারও গিয়েছিলেন বারুইপুরে। যাদবপুরের সাংসদ সায়নীকে দেখেও স্লোগান দিতে শুরু করেন স্থানীয়েরা। পরিবারের সঙ্গে কথা বলার পর সায়নী ঘোষ জানান, সরকার যাতে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়, সেটাই তাঁরা চান। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রীও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন। সায়নী ঘোষ আরও জানান, এই ঘটনায় কঠোরতম শাস্তির দাবি করছেন। তাঁর বক্তব্য, অপরাধীদের বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা নেওয়া উচিত যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের অপরাধ করার সাহস না পায়। তিনি দোষীদের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিও জানান।

সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কাকলি ঘোষ দস্তিদার  বলেন, 'এমন নৃশংস অপরাধের ঘটনায় রাজ্য সরকার অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে ৷ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত এবং কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে প্রশাসন সক্রিয় রয়েছে।' তিনি আরও জানান, এই কঠিন সময়ে শোকাহত ও অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানোই তাঁদের মূল উদ্দেশ্য। পরিবার যাতে ন্যায়বিচার পায় এবং তদন্ত দ্রুত শেষ হয়, সেই বিষয়েও সরকার নজর রাখছে বলে জানান তিনি। কাকলির কথায়, 'এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা। আমরা এর তীব্র নিন্দা করছি ৷ যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ারও দাবি করছি ৷ এই পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে লড়াই করতে চাই আমরা।'

Advertisement

মঙ্গলবার বারুইপুরে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তার আগে সকালেই সেখানে পৌঁছে যান পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, লকেট চট্টোপাধ্যায়রা। অগ্নিমিত্রা জানান, মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিনিধি হিসেবেই গিয়েছেন তাঁরা। কাউকে ছাড়া হবে না। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে। বারুইপুর কাণ্ডে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এমনটাই আশ্বাস দেন তিনি 

এদিন বারুইপুরে গিয়েছিলেন ভাঙড়ের বিধায়ক তথা আইএসএফ নেতা নওশাদ সিদ্দিকীও। পুলিশ ও রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তিনিও পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন এবং ঘটনার বিষয়ে খোঁজ নেন। রাজনৈতিক দলগুলির একাধিক প্রতিনিধির উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে এদিন এলাকায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

প্রসঙ্গত, বারুইপুরে অশান্তির সূত্রপাত রবিবার সকাল থেকে। পুকুর থেকে নাবালিকার মৃতদেহ উদ্ধার ঘিরে অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে ধপধপি এলাকা। নাবালিকাকে ধর্ষণের পর খুনের অভিযোগে সরব স্থানীয় বাসিন্দারা মৃতদেহ রাস্তায় রেখে অবরোধ করেন, চলে রেল অবরোধও। ঘটনার খবর কানে পৌঁছতেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কথা বলেন নির্যাতিতার বাবার সঙ্গে। দ্রুত বিচারের আশ্বাস দেন। মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রীর নির্দেশে বিকেলের মধ্যেই ৬ সদস্যের সিট গঠন করে তদন্ত শুরু হয়। ঘটনার কয়েকঘণ্টার মধ্যেই মূল অভিযুক্ত আনন্দ সর্দার-সহ তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এদিনও মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, ঘটনায় অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হবে। শুধু তাই নয়, মৃত্যুদণ্ডের পক্ষেও কথা বলেন শুভেন্দু অধিকারী।

Read more!
Advertisement
Advertisement