
সম্প্রতি সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ইউনিয়ন রুম থেকে পোড়া টাকা উদ্ধার ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। এবার উত্তর ২৪ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার একটি বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও মদের বোতল উদ্ধার হল। এছাড়া স্কুলের মধ্যে একি ‘গেস্ট রুম’ পাওয়া গিয়েছে। শোবার ঘরের মতো দেখতে আংশিক আসবাবপত্রে সজ্জিত ওই ঘরে কন্ডোমের প্যাকেটও পাওয়া গিয়েছে। কলকাতার সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ‘বেডরুম’ বিতর্ক থিতু হতে না হতেই এবার এই ঘটনা ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
বুধবার রাতে কাঁচরাপাড়া হার্নেট ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বুধবার মধ্য রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত চলে টাকা গোনা। পুলিশ জানিয়েছে, ১ কোটি ৭৭ লক্ষ টাকা মিলেছে দশটি প্যাকেট থেকে। স্কুলের প্রিন্সিপাল জানিয়েছেন, স্কুলের ভেতরে থাকা নগদ অর্থ ও কন্ডোম সম্পর্কে তাঁর আগে কিছু জানা ছিল না। এই ঘটনাটি নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে এবং স্কুল চত্বরে সংঘটিত কার্যকলাপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিজপুর থানার পুলিশ কর্মীরা স্কুলে পৌঁছে লকার থেকে টাকা উদ্ধার করেছেন। স্কুলে টাকা গণনার মেশিনও আনা হয়েছে।
পুলিশ খতিয়ে দেখছে, এই অর্থ শুধুমাত্র স্কুলের নিজস্ব ফান্ডের জন্য ছিল নাকি বাইরে থেকে এসেছে। প্রিন্সিপাল বিকাশ চন্দ্র পাল বলেন, 'এপ্রিল মাস থেকে শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ায় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এই নগদ অর্থ নেওয়া হয়েছিল। হিসাবরক্ষকের উচিত ছিল প্রতি দুই-তিন দিন অন্তর এই টাকা ব্যাঙ্কে জমা দেওয়া। অধ্যক্ষ হিসেবে আমি মূলত অ্যাকাডেমিক বা শিক্ষাসংক্রান্ত বিভাগের দায়িত্ব পালন করি। টাকাটি যে ব্যাঙ্কে জমা দেওয়া হয়নি, সে বিষয়ে আমার কোনও জানা ছিল না। শিক্ষার্থীদের অসুস্থতার জন্য নির্ধারিত কক্ষ (সিক রুম) থেকে যেসব আপত্তিকর জিনিস উদ্ধার করা হয়েছে, তা আমার কল্পনারও বাইরে। এ বিষয়ে আমার কোনও ধারণা নেই। আপত্তিকর জিনিস উদ্ধার হওয়ার বিষয়টি সত্য, তবে আমি এর বিস্তারিত কিছু জানি না।'
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। বিজপুরের বিজেপি বিধায়ক সুদীপ্ত দাসও স্কুলটিতে আসেন। তিনি বলেন, 'আমি মানসিকভাবে বিধ্বস্ত। কল্পনাও করতে পারছি না যে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমন অবস্থায় নিয়ে যাওয়া যেতে পারে।' তিনি অভিযোগ করেন, 'পশ্চিমবঙ্গের জন্য টিএমসি (TMC) একটি অভিশাপ। কোটি কোটি টাকা উদ্ধার হচ্ছে, শোবার ঘরে টাকা পাওয়া যাচ্ছে—এতে আমি লজ্জিত। আমার মনে হয় না এই বিপুল পরিমাণ টাকা স্কুলের নিজস্ব, এই টাকা আসলে প্রাক্তন টিএমসি বিধায়ক সুবোধ অধিকারীর—যা সম্পূর্ণ কালো টাকা।'
বিধায়কের অভিযোগ, ‘স্কুলের পরিচালন সমিতির সভাপতি ছিলেন কাঁচরাপাড়ার পলাতক প্রাক্তন পুরপ্রধান কমল অধিকারী। তিনি ও তাঁর দাদা প্রাক্তন বিধায়ক সুবোধ অধিকারী মিলে এই স্কুলটাকে বাগানবাড়ি বানিয়েছিলেন। এত টাকা তো স্কুলে থাকতে পারে না। আর খাট-পালঙ্ক, আলমারি দিয়ে সাজানো বাতানুকূল গেস্ট রুম কোন স্কুলে থাকে?’ পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
অবস্থিত ‘হার্নেট’ (Harnett) নামের একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও মদের বোতল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া, রাতে স্কুলটিতে শোবার ঘরের মতো দেখতে আংশিক আসবাবপত্র-সজ্জিত একটি কক্ষও পাওয়া গেছে।