Advertisement

South Bengal Rain Latest Update : কলকাতায় শুরু বৃষ্টি, দক্ষিণবঙ্গেও দফায় দফায় ভারী বর্ষণ; কতদিন চলবে?

বর্ষা নিয়ে ফের বড় আপডেট। বিদায়ের প্রক্রিয়া শুরু করছে চলেছে বর্ষা। তবে বৃষ্টি হবে দক্ষিণবঙ্গ ও কলকাতায়। উত্তরবঙ্গেও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। পূর্বাভাস জারি করল আবহাওয়া দফতর।

ছবি : PTI ছবি : PTI
Aajtak Bangla
  • কলকাতা ,
  • 17 Sep 2026,
  • अपडेटेड 4:26 PM IST
  • বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে কলকাতায় বৃষ্টি শুরু হয়
  • কলকাতার আশপাশেও মুষলধারে বর্ষণ নামে

বর্ষার বিদায় প্রক্রিয়া শীঘ্রই শুরু হতে চলেছে। তবে তার আগেও এখনই বৃষ্টির হাত থেকে রেহাই নেই কলকাতা-সহ পশ্চিমবঙ্গের মানুষের। আগামী কয়েক দিন রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টি এবং বজ্রবিদ্যুতের সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি, আবার কোথাও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলায় বৃষ্টির তীব্রতা বেশি থাকতে পারে। দক্ষিণবঙ্গেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি এবং দমকা হাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে কলকাতায় বৃষ্টি শুরু হয়। কলকাতার আশপাশেও মুষলধারে বর্ষণ নামে। আর সেই বৃষ্টি চলতে থাকবে। আবহাওযা দফতরের পূর্বভাস, কলকাতার ক্ষেত্রেও আকাশ মূলত মেঘলা থাকার সম্ভাবনা। ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শহরে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি অথবা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হতে পারে। হাওড়াতেও ১৭ ও ১৮ সেপ্টেম্বর বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস জারি করা হয়েছে। 

কলকাতায় কেমন থাকবে আবহাওয়া?

১৮ সেপ্টেম্বর কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় আংশিক মেঘলা আকাশের সঙ্গে মাঝারি বৃষ্টি অথবা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ৩৫ ডিগ্রি এবং রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৪ ডিগ্রির আশপাশে থাকতে পারে।

বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সময় দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমার সম্ভাবনা থাকলেও আকাশ মেঘলা থাকতে পারে এবং হালকা বৃষ্টি চলতে পারে। কলকাতা-হাওড়ার জন্য ১৯ থেকে ২১ সেপ্টেম্বরও হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা দেখানো হয়েছে।

কলকাতার বাইরে দমদম, সল্টলেক এবং আলিপুরের পূর্বাভাসেও ১৭-১৮ সেপ্টেম্বর বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দমদমে ১৮ সেপ্টেম্বর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ৩৪ ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন ২৭ ডিগ্রি থাকতে পারে।

বর্ষা কি তবে বিদায় নিচ্ছে?

বর্ষা বিদায়ের প্রক্রিয়া নিয়ে ইতিমধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিয়েছে IMD। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১৯ সেপ্টেম্বর নাগাদ পশ্চিম রাজস্থানের কিছু অংশ থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রত্যাহারের জন্য পরিস্থিতি অনুকূল হয়ে উঠতে পারে।

Advertisement

তবে এর অর্থ এই নয় যে ১৯ সেপ্টেম্বর থেকেই গোটা দেশ বা পশ্চিমবঙ্গ থেকে বর্ষা বিদায় নিয়ে যাবে। IMD-র নিয়ম অনুযায়ী, বর্ষা প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট এলাকায় কয়েক দিন বৃষ্টির কার্যকলাপ কমে যাওয়া, নিম্নস্তরে উচ্চচাপ বলয় তৈরি হওয়া এবং বাতাসে আর্দ্রতা কমার মতো একাধিক বিষয় বিবেচনা করা হয়। ফলে পশ্চিম রাজস্থান থেকে বর্ষা বিদায়ের প্রক্রিয়া শুরু হলেও কলকাতা বা পশ্চিমবঙ্গে সঙ্গে সঙ্গে বর্ষা শেষ হয়ে যাবে—এমনটা ধরে নেওয়ার কারণ নেই। বরং আগামী কয়েক দিন বাংলার বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টি চলতে পারে।

কেন ফের বৃষ্টির সম্ভাবনা?

আবহাওয়ার বর্তমান পরিস্থিতিতে একাধিক সিস্টেম সক্রিয় রয়েছে। সৌরাষ্ট্র ও সংলগ্ন উত্তর-পূর্ব আরব সাগরের কাছে থাকা নিম্নচাপ এলাকার সঙ্গে যুক্ত অক্ষরেখা দেশের মধ্যভাগ পেরিয়ে পূর্ব দিকে বিস্তৃত। সেই অক্ষরেখা দিঘার দিক হয়ে উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।

অন্যদিকে উত্তর থাইল্যান্ডের উপর থাকা একটি ঘূর্ণাবর্ত ১৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার মধ্যে উত্তর আন্দামান সাগরের কাছে পৌঁছতে পারে। এর প্রভাবে ১৯ সেপ্টেম্বরের দিকে উত্তর আন্দামান সাগর ও সংলগ্ন এলাকায় একটি নিম্নচাপ ক্ষেত্র তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পরবর্তীতে সেটি উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে দক্ষিণ ওড়িশা এবং উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে যেতে পারে। এই আবহাওয়াগত পরিস্থিতির প্রভাব পূর্ব ভারতের বৃষ্টির পরিবেশের উপর পড়তে পারে।

উত্তরবঙ্গে বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা

উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলায় আগামী কয়েক দিনে তুলনামূলক বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

দার্জিলিং ও কালিম্পং: পাহাড়ি দুই জেলায় বৃষ্টির পাশাপাশি ভূমিধসের আশঙ্কাও রয়েছে। ভারী বৃষ্টির ক্ষেত্রে পাহাড়ি রাস্তায় সমস্যা তৈরি হতে পারে। ফলে পাহাড়ে যাতায়াতের ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন।

জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার: এই দুই জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টি হতে পারে। পরবর্তী দিনেও জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে বৃষ্টির প্রবণতা বজায় থাকতে পারে।

কোচবিহার: হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ এবং দমকা হাওয়া হতে পারে। স্থানীয়ভাবে বৃষ্টির তীব্রতা বাড়তে পারে।

উত্তর দিনাজপুর ও দক্ষিণ দিনাজপুর: দু’টি জেলাতেই বৃষ্টি ও বজ্রবিদ্যুতের সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।

মালদা: হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পাশাপাশি বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

উত্তরবঙ্গের ক্ষেত্রে বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকায় ভারী বৃষ্টির সময় ধস এবং নিচু এলাকায় জল জমার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

দক্ষিণবঙ্গেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি

দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই আগামী কয়েক দিনে কমবেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সব জায়গায় বৃষ্টির পরিমাণ এক হবে না। কোথাও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে, আবার কোথাও স্থানীয়ভাবে বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হয়ে অল্প সময়ের জন্য জোরালো বৃষ্টি হতে পারে।

পূর্ব মেদিনীপুর: উপকূলের কাছাকাছি এই জেলায় বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রবিদ্যুতের সম্ভাবনা রয়েছে। দমকা হাওয়াও বইতে পারে।

পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম: দুই জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া হতে পারে।

বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া: বৃষ্টি এবং বজ্রবিদ্যুতের সম্ভাবনা রয়েছে। স্থানীয়ভাবে দমকা হাওয়া পরিস্থিতিকে আরও অস্বস্তিকর করে তুলতে পারে।

উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: কলকাতা সংলগ্ন এবং উপকূলীয় এই দুই জেলাতেও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বজ্রপাতের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

হাওড়া ও হুগলি: এই দুই জেলায়ও বৃষ্টি ও বজ্রবিদ্যুতের সম্ভাবনা রয়েছে। কলকাতার মতোই দিনের আকাশ মেঘলা থাকতে পারে।

মুর্শিদাবাদ ও নদিয়া: বিচ্ছিন্নভাবে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হতে পারে। স্থানীয়ভাবে দমকা হাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

পূর্ব বর্ধমান ও পশ্চিম বর্ধমান: বৃষ্টি ও বজ্রবিদ্যুৎ হতে পারে। ইতিমধ্যেই পশ্চিম বর্ধমানের লুচিপুরে ৪ সেন্টিমিটার বৃষ্টির খবর রয়েছে।

বীরভূম: বৃষ্টির পাশাপাশি বজ্রবিদ্যুতের সম্ভাবনা রয়েছে। বীরভূমের ঘেরোপাড়ায় ৬ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে।

Advertisement

১৮ সেপ্টেম্বরের পর কি বৃষ্টি কমবে?

কলকাতার ক্ষেত্রে IMD-র পরবর্তী পূর্বাভাসে ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা দেখানো হয়েছে। ১৯, ২০ এবং ২১ সেপ্টেম্বর সাধারণত মেঘলা আকাশের সঙ্গে হালকা বৃষ্টি হতে পারে। ২২ সেপ্টেম্বর ফের বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ, বর্ষা বিদায়ের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার ইঙ্গিত থাকলেও বাংলায় বৃষ্টি একেবারে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে না।

আবহাওয়াবিদদের দাবি, বর্ষা প্রত্যাহার শুরু হওয়া এবং কোনও নির্দিষ্ট রাজ্য থেকে বৃষ্টি পুরোপুরি বিদায় নেওয়া এক বিষয় নয়। বর্ষা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে এগোয় এবং তার মাঝেও স্থানীয় নিম্নচাপ, ঘূর্ণাবর্ত, অক্ষরেখা বা বজ্রগর্ভ মেঘের কারণে বৃষ্টি হতে পারে।

সব মিলিয়ে, কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে আগামী কয়েক দিন বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সম্ভাবনা থাকছে। উত্তরবঙ্গে বিশেষ করে দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে বৃষ্টির দাপট বেশি হতে পারে। আর ১৯ সেপ্টেম্বরের দিকে পশ্চিম রাজস্থান থেকে বর্ষা বিদায়ের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলেও পশ্চিমবঙ্গে এখনই বর্ষা পুরোপুরি বিদায় নিচ্ছে না।

Read more!
Advertisement
Advertisement