
কলকাতা-বারাণসী এক্সপ্রেসওয়ে নিয়ে বড় খবর। এবার এই এক্সপ্রেসওয়ের প্রজেক্টটিকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছে কেন্দ্র সরকার। যদিও বাংলার ক্ষেত্রে জটিলতা অব্যাহত। পরিবেশগত ছাড়পত্র, জমি অধিগ্রহণ ও রুট সংক্রান্ত জটিলতার কারণে ৩৫ হাজার কোটি টাকার এই রোডের কিছু অংশের অ্যালাইনমেন্টে পরিবর্তন আনা হতে পারে বলে সরকারি সূত্রে খবর।
কলকাতা-কাশী এক্সপ্রেসওয়ে সম্পর্কে জানুন
৬১০ কিলোমিটার লম্বা এই ছ’লেনের গ্রিনফিল্ড এক্সপ্রেসওয়ে উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড এবং পশ্চিমবঙ্গকে জুড়ে দিতে চলেছে। এক্সপ্রেসওয়েটি চালু হলে বারাণসী থেকে কলকাতার সফর সময় বর্তমান ১২–১৪ ঘণ্টা থেকে কমে প্রায় ৬ ঘণ্টায় নেমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি পণ্য পরিবহণ ও সংযোগ ব্যবস্থায় বড়সড় উন্নতি হবে।
সরকারি সূত্রের দাবি অনুযায়ী, বর্তমানে এই এক্সপ্রেসওয়ের কাজ দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে। ইতিমধ্যেই উত্তরপ্রদেশে প্রায় ৫০ শতাংশ কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে। পাশাপাশি, বিহারে নির্মাণকাজ চলছে এবং ঝাড়খণ্ডে বন দফতরের প্রয়োজনীয় ছাড়পত্রও মিলেছে। তবে পশ্চিমবঙ্গ অংশে এখনও রুট পরিবর্তন, জমি অধিগ্রহণ এবং পরিবেশগত অনুমোদনের কারণে কাজ ধীর গতিতে এগোচ্ছে।
কেন্দ্রীয় পরিবহন মন্ত্রী নিতিন গড়করি সংসদে জানান, মূল বারাণসী-রাঁচি-কলকাতা এক্সপ্রেসওয়ের নকশাটি কেন্দ্রের তরফে অনুমোদন পেয়েছিল। এরপর ২০২৩ সালের ৩ জানুয়ারি প্রথম পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সম্মতিও পেয়েছিল। তবে, রাজ্য সরকারের অনুরোধে সংশোধিত নকশাটি ২০২৪ সালের অক্টোবরে অনুমোদিত হয়, যার ফলে পরবর্তী বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে।
পাশাপাশি গড়করি জানান, বর্তমানে পুরুলিয়া, বাঁকুড়া এবং হুগলি জেলায় জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি সম্পূর্ণ হয়েছে। বাংলায় ডিটেইলড প্রজেক্ট রিপোর্ট (DPR) তৈরির কাজও চলছে। প্রস্তাবিত রুট পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, হুগলি এবং হাওড়া জেলার অংশ দিয়ে যাবে। এক্ষেত্রে রাজ্যের বিভিন্ন অংশে বন্যপ্রাণীর চলাচল এবং বন-সংক্রান্ত উদ্বেগগুলি মূল বিষয় হিসাবে উঠে এসেছে বলে সূত্র মারফত জানা গিয়েছে।
বন্যপ্রাণীর চলাচল ও বনভূমি সংক্রান্ত চিন্তা দূর করতে NHAI-এর তরফে একাধিক ওয়াইল্ডলাইফ আন্ডারপাস তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সূত্রের দাবি, এইসব বাধাবিঘ্ন অতিক্রম করে প্রজেক্টে গতি আনতে আগ্রহী রয়েছে কেন্দ্র।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই প্রকল্পের শিলান্যাস করেছিলেন। ২০২৮ সালের মার্চের মধ্যে কাজ শেষ করার টার্গেট রাখা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, বারাণসী, গয়া, রাঁচি এবং কলকাতার মতো গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রকে সংযুক্ত করে পূর্ব ভারতের বাণিজ্য, লজিস্টিকস এবং আঞ্চলিক অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে এই করিডর।