
মাঝরাতেই অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে আছড়ে পড়েছিল তীব্র ঘূর্ণিঝড় 'মুরাসু'। IMD-র বুলেটিন অনুযায়ী, সোমবার গভীর রাতে (আনুমানিক রাত ১টা নাগাদ) প্রকাশম জেলার ওঙ্গোলের কাছে এই ল্যান্ডফল বা উপকূলে আছড়ে পড়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। এর প্রভাবে উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে প্রবল বৃষ্টি ও ঘণ্টায় ১১০ থেকে ১২০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে থাকে। উপকূলে আছড়ে পড়ার পরে অন্ধ্রপ্রদেশে তাণ্ডব চালাল ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’। হাওয়া অফিসের লেটেস্ট আপডেট অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকালে ঘূর্ণিঝড়ের ল্যান্ডফল সম্পন্ন হয়েছে অন্ধ্র উপকূলে। তবে মুরাসুর প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশের দক্ষিণ উপকূলে এখনও ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। প্লাবিত হতে পারে উপকূল সংলগ্ন নিচু এলাকাগুলি।
এবার শক্তি হারাচ্ছে মুরাসু
সোমবার রাত থেকেই অন্ধ্র উপকূলীয় অঞ্চলে নাগাড়ে ঝড়বৃষ্টি চলছে। বিজয়ওয়াড়া, বাপটলা, গুন্টুর-সহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলে রাতভর চলেছে প্রবল বর্ষণ। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব পড়েছে তামিলনাড়ুর চেন্নাই এবং সংলগ্ন উপকূলীয় অঞ্চলেও। মঙ্গলবার সকাল থেকে সেখানেও উত্তাল সমুদ্র। ঝড়বৃষ্টি চলছে পুদুচেরিতেও। সমুদ্র থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প নিয়ে স্থলভাগে আছড়ে পড়া শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’ আরও বেশ কয়েক ঘণ্টা দাপট দেখাবে অন্ধ্রের উপকূলীয় অঞ্চলে। তার পর স্থলভাগের আরও ভিতরে প্রবেশ করার ফলে এটি ক্রমে শক্তি হারাবে। মধ্যরাতে নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলায় সরাসরি প্রভাব নেই
বাংলায় আপাতত মুরাসুর সরাসরি কোনও প্রভাব নেই। পরোক্ষ প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় মঙ্গলবার বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে, এমনটাই পূর্বাভাস আলিপুর আবহাওয়া দফতরের। হাওয়া অফিস বলছে, এদিন দিনভর আকাশ হালকা মেঘলা থাকবে। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়ায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। তাতে তাপমাত্রার পতনের বড় সম্ভাবনা নেই বরং হেমন্তের মরশুমে বাতাসে আর্দ্রতা জনিত অস্বস্তি কারণে গুমোট ভাব বজায় থাকবে। উত্তরবঙ্গেও এদিন বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। বিশেষ করে ভিজতে পারে দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারের কয়েকটি জায়গা। বুধবার থেকে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সর্বত্রই শুষ্ক আবহাওয়া বজায় থাকবে।
চলতি সপ্তাহেই কমবে তাপমাত্রা
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পরিসংখ্যান বলছে, কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বর্তমানে ২৬.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই পারদ স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৪.২ ডিগ্রি বেশি। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় ভোরের দিকে ভালোই কুয়াশার দাপট দেখা যাচ্ছে। তবে হাওয়া অফিস জানিয়েছে, কালীপুজোর মুখেই ভোরের দিকে হালকা শিরশিরানি ফেরার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই রাতের তাপমাত্রা ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমে যেতে পারে। হাওয়া অফিস বলছে, বুধবার থেকে শনিবার পর্যন্ত গোটা রাজ্যেই মূলত শুকনো আবহাওয়া বজায় থাকবে। বৃষ্টির সম্ভাবনা কমবে। আর আকাশ পরিষ্কার হলেই ধীরে ধীরে কমবে রাতের তাপমাত্রা। ফলে শীতের আমেজ টের পাওয়া যাবে। যদিও এখনই জাঁকিয়ে শীত পড়ার কোনও পূর্বাভাস নেই।