
শনিবার শ্রীরামপুরের জনসভা থেকে বিজেপি-কে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়। এদিন তিনি একই সুরে নিশানা করলেন নির্বাচন কমিশন থেকে শুরু করে বিজেপিকে। পাশাপাশি, পুলিশের উদ্দেশেও তোপ দাগলেন মমতা। পুলিশ একাধিক জায়গায় অত্যাচার করছে বলে দাবি করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, "সব থেকে বেশি অত্যাচার করেছে পুলিশ"।
এদিন মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় জনসভা থেকে প্রশ্ন তোলেন, SIR কেন করা হয়েছিল? তাঁর বক্তব্য, "শুধু বাংলা দখল করবে বলেই SIR করা হয়েছিল। সেই কারণেই ৯২ লক্ষ লোকের নাম বাতিল করা হয়েছিল।" জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে হুঙ্কার দিয়ে মমতা বলেন, "ভ্যানিশ কুমারকে যেমন ধরেছি, তেমন অন্যায়কারীদের ধরব। ভ্যানিশ কুমার মাস্ট গো। যতদিন না যাবে, আমাদের আন্দোলন চলবে।"
জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সরব হওয়ার পাশাপাশি সীমা খান্নার নাম নিয়েও সরব হন মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়। তিনি বলেন, "সরতে হবে জ্ঞানেশ কুমারকে। সেই সঙ্গে সীমা খান্নাকেও সরতে হবে। সব দোষীদের গ্রেফতার করতে হবে। আমরা হারিনি, হারানো হয়েছে। পুরনো SIR তালিকা ধরে ভোট করতে হবে। আমরাই প্রথম সীমা খান্নার AI-র কথা বলেছিলাম।"
দলভাগের পর মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূলের প্রথম জনসভা থেকে SIR -এর পাশাপাশি আরও একাধিক তোপ দাগেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়। হকার উচ্ছেদ নিয়ে এদিন সরব হয়ে তিনি বলেন, "আমি হকারদের কেস নিয়ে কোর্টে লড়ব। এভাবে গরিব মানুষের রুটি-রোজগার কেড়ে নেওয়া যায় না। এদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। "
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নিয়ে তোপ
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নিয়ে রাজ্য সরকারকে তোপ দেগে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "অন্নপূর্ণা যোজনা কেউ পায় আর পায় না, ভোটের আগে তো বলেননি। তখন সবাই পাবে বলে ফর্ম ফিলাপ করান। তখন বলেননি কেন? লক্ষ্মীর ভাণ্ডার তো সকলে পেত। এখন বলছে সাইকেল থাকলে দেব না, এই থাকলে দেব না ওই থাকলে দেব না। কখন বলবে জামা কাপড় থাকলে দেব না।"
জোট প্রসঙ্গে কী বললেন মমতা?
এদিন মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় বলেন, "জোর করে চেয়ার দখল করা হয়েছে। আমরা কেয়ার করি না । আমরা মানুষের চেয়ারে বিশ্বাসী। আপনারা বাংলা নিয়েছেন আমরা দিল্লি নেব। চারিদিকে ঝড় উঠেছে। সবাই রাস্তায় নামবে। মুম্বইস,দিল্লিতে ঝড় তোমাদের ঘরেও ঝড় উঠেছে।" জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ প্রসঙ্গে মমতা বলেন, "যে পার্টি এই ইস্যুতে সমর্থন করবে। কে লাল কে নীল দেখব না। আমরা তাদের সমর্থন করব। আমি সকলকে বলব গ্রেফতারের জন্য তৈরি থাকুন। ভয় ভাঙুন। মুখ খুলুন, কথা বলুন, জোট বাঁধুন। "
মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়ের মুখে 'লাল' শব্দের ব্যবহারকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভাবেই দেখছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে শুক্রবার দুপুরে সিপিআইএম-এর সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে ফোনে কথা বলার পর, মমতার মুখে এই 'জোটবার্তা'কে নয়া গুরুত্ব দিচ্ছেন রাজনৈতিক জগতের বিশেষজ্ঞরা।