
হালিশহরে রবিবার দুপুরে নিহত তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে যাওয়ার পথে চরম হেনস্থার শিকার হতে হয় রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে জল ও কাদা ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। জুতোও ছোড়া হয়েছে বলেই খবর। ওঠে ‘চোর ও ডাকাতরানি’ স্লোগানও। এই বিক্ষোভের ঘটনার প্রবল সমালোচনা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেন,'বিজেপি ইট মেরেছে। গাড়ির কী অবস্থা করেছে দেখুন। বাংলা গুন্ডাদের হাতে চলে গিয়েছে।' এই ঘটনার পরের দিনই হালিশহরে সেই তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে গেলেন শুভেন্দু অধিকারী। কাঁচড়াপাড়ায় পুলিশি হেফাজতে থাকার সময় মৃত্যু হওয়া তৃণমূলকর্মীর পরিবারের সঙ্গেও দেখা করেন তিনি। আর সেখানেই সাংবাদিক সম্মেলন করে শুভেন্দু বলেন, 'পরিবার যা যা চেয়েছে তাই দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর দলের নয় রাজ্যের , আপনাকে (মমতা বন্দ্যোপপাধ্যায়) শিখিয়ে দিয়ে গেলাম।'
এদিন হালিশহরে মৃত তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখান থেকে বেরিয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে শুভেন্দু বলেন, পরিবারকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছি। তারা এই মৃত্যুকে নিয়ে রাজনৈতিক স্লোগান কাউকে দেয়নি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আসার পর বাড়ির লোক দেখা করেননি। মৃতের দাদা বলছিলেন, আমি বিচার চাই আর বিচার দিতে পারবে রাজ্য পুলিশ ও প্রশাসন। অর্থাৎ পরিবার পুলিশ ও রাজ্য পুলিশের উপর আস্থা রেখেছেন। এটা পাওনা। রাজ্যের বিভিন্ন ঘটনা কোথাও পুলিশের ঘটনার অনেক উদাহরণ রয়েছে এই পশ্চিমবঙ্গে। প্রয়াত বুদ্ধবাবু ও মমতার সময়ে একটা উদাহরণ দেখাতে পারবেন না যে রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক প্রধান মুখ্যমন্ত্রী, ডিজিপিকে সঙ্গে নিয়ে রাজনৈতিক ভিন্ন মত পোষণ করা লোকের বাড়িতে এসেছেন।
এই ঘটনায় হালিশহর থানার আইসিকে ক্লোজ এবং আইও বা তদন্তকারী আধিকারিককে সাসপেন্ডের সিদ্ধান্ত জানান শুভেন্দু। এছাড়া মৃতের স্ত্রীকে মুখ্যমন্ত্রী অ্যাটেনডেন্ট হিসাবে চাকরি এবং ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্যের কথা ঘোষণা করেন। পাশাপাশি, মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ১০ লক্ষ টাকা অর্থসাহায্যও দেওয়া হচ্ছে। হালিশহরে পুলিশের হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় শুভেন্দু বলেন, ‘পুলিশের হেফাজতে মারা দিয়েছে, এটা দিনের আলোর মতো সত্যি’, তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশের গাফিলতি প্রমাণিত। কী অত্যাচার করেছে সেটা ময়নাতদন্ত রিপোর্টে পাওয়া যাবে।’ এরপরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হেনস্থার প্রসঙ্গও টেনে আনেন শুভেন্দু অধিকারী।
রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, 'রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ডেজ প্লাস ক্যাটাগরি পান, আমরা উইথড্র করি নি। কালকে উনি না জানিয়েই গিয়েছিলেন। আপনি জানিয়ে আসেননি। কার রেসপনসিবিলিট ডিজিপ বা পুলিশমন্ত্রীর নয়। উনি যেখানে খুশি যেতে পারেন, উনাকে পরামর্শ দিতে পারি না, বয়সে বড়,অনুরোধ করব, আপনি মেইল করে শিডিউল জানালে সেই প্রোটেকশন পাবেন।' শুভেন্দু আরও বলেন, 'পুলিশকে আপনি কোনও সুযোগ দেননি আর আপনার পাথড়ের গল্পও লোকে জানে।' এরসঙ্গেই অতীতের উদাহরণ টেনে শুভেন্দু বলেন, 'মুখ্যমন্ত্রীর দলের নয় রাজ্যের , এটাই শুভেন্দু অধিকারী আপনাকে শিখিয়ে দিয়ে গেল।'