Advertisement

'সাঁইবাড়ি-নন্দীগ্রাম ভুলে গেলেন?' CPM-র কাছে আসতেই মমতাকে ইতিহাস মনে করালেন শুভেন্দু

ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ কর্মসূচি ‘SIR’-কে কেন্দ্র করে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি। শ্রীরামপুরের জনসভা থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছেন, 'হাম ডরেঙ্গে নেহি, বিজেপি কো ছোড়েঙ্গে নেহি।' SIR কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলাকে কব্জা করার চক্রান্ত করা হয়েছে অভিযোগ তুলেছেন মমতা। অন্যদিকে, রবিবার সকালে সাংবাদিক বৈঠকে এই ইস্যুতে রাজ্যের প্রাপ্তন মুখ্যমন্ত্রীকে একহাত নিলেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী।

CPM-এর বিরুদ্ধে লড়াই করে তাদের পাশেই মমতা?CPM-এর বিরুদ্ধে লড়াই করে তাদের পাশেই মমতা?
Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 27 Sep 2026,
  • अपडेटेड 11:40 AM IST

সূত্রের খবর, নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ এবং বিজেপি বিরোধী জোটকে আরও শক্তিশালী করতে সমস্ত বিরোধী দলের নেতাদের চিঠি দিয়েছিলেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক এম এ বেবি৷ এর পর পাল্টা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সেই চিঠির জবাব দিয়ে সিপিএম সাধারণ সম্পাদকের প্রস্তাবে সম্মতি জানান৷ ফোনও কথা হয় দু জনের৷ একসময় যে সিপিএম এবং বামেদের ক্ষমতা থেকে সরাতে তিনি বছরের পর বছর আন্দোলন করেছেন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরেও যাদের তীব্র রাজনৈতিক বিরোধিতা করেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই বামেদেরই হাত ধরতে চাওয়ায় রাজনৈতিক মহলে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে৷ তৃণমূলনেত্রী রাজনৈতিক মতাদর্শ বদল করলেন কি না, সেই প্রশ্নও উঠছে৷ আর সাংবাদিক সম্মেলেন এই নিয়েই কটাক্ষ করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। 

প্রসঙ্গত, ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ কর্মসূচি ‘SIR’-কে কেন্দ্র করে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি। শ্রীরামপুরের জনসভা থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছেন, 'হাম ডরেঙ্গে নেহি, বিজেপি কো ছোড়েঙ্গে নেহি।' SIR কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলাকে কব্জা করার চক্রান্ত করা হয়েছে অভিযোগ তুলেছেন মমতা। অন্যদিকে, রবিবার সকালে সাংবাদিক বৈঠকে এই ইস্যুতে রাজ্যের প্রাপ্তন মুখ্যমন্ত্রীকে  একহাত নিলেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। সেইসঙ্গে SIR ইস্যুতে তৃণমূল ও সিপিএমের যৌথ অবস্থানকে বেনজির আক্রমণ শানান তিনি।

কী বলছেন শুভেন্দু?
বিগত বিধানসভা নির্বাচনে চরম পরাজয়ের পর চরম হতাশা থেকেই বিরোধী দলগুলি নানা মিথ্যা অপপ্রচার শুরু করেছে বলে পাল্টা সুর চড়িয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সাংবাদিক সম্মেলনে শুভেন্দু জানান, সাম্প্রতিক একটি সংবাদপত্রের প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তি ও ইচ্ছে করে বিতর্ক তৈরি করতে চাইছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের  দল তৃণমূল কংগ্রেস ও বামফ্রন্ট। তাঁর মূল বক্তব্য, যে সিপিআইএম-এর ৩৪ বছরের নৃশংস শাসন থেকে রাজ্যবাসীকে মুক্ত করতে তৃণমূল প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, ক্ষমতার মোহে আজ সেই সিপিআইএম-এর সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে লড়াই করছে এআইটিসি (AITC)। সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন তৃণমূলের প্রতিষ্ঠার ইতিহাস। শুভেন্দু বলেন, 'একসময় কংগ্রেস থেকে ঘাড় ধাক্কা খাওয়ার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল গঠন করেছিলেন ৩৪ বছরের সিপিআইএম সরকারের অত্যাচার থেকে বাংলাকে মুক্তি দিতে। যে সিপিআইএম সাঁইবাড়ি ঘটিয়েছিল, নন্দীগ্রামের মহিলাদের সম্মানহানি করেছিল, ধানতলা কিংবা তিলজলায় আনন্দমার্গীদের পুড়িয়ে মেরেছিল এবং রাজ্যের ৫৪ হাজার কলকারখানা বন্ধ করে দিয়েছিল— আজ ক্ষমতার তাগিদে তাদের সঙ্গেই হাত মিলিয়েছেন মমতা।' মুখ্যমন্ত্রী আরও কটাক্ষ করে বলেন, 'যে সিপিআইএম-এর নাম ও নিশান কার্যত বাংলা থেকে মুছে গেছে, আজ মহাশূন্যে বিচরণ করা সেই দলের সঙ্গে তৃণমূলের এই আঁতাত তাদের রাজনৈতিক দেউলিয়াপনাকেই স্পষ্ট করে।'

Advertisement

প্রসঙ্গত, এ বছর ৪ মে ক্ষমতা থেকে সরতে হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তারপর শনিবার শ্রীরামপুরে কলকাতার বাইরে প্রথম কোনও প্রকাশ্য কর্মসূচি করলেন তৃণমূলের প্রতিষ্ঠাতা নেত্রী।  ক্ষমতা হারানোর পর  মমতা শনিবার শ্রীরামপুরের সভা থেকে স্পষ্ট করে দেন, বিজেপি বিরোধী আন্দোলনে তিনি সবার সঙ্গে চলতে চান। নামোচ্চারণ না-করে এ-ও স্পষ্ট করেন, সিপিএম নিয়েও তাঁর ছুতমার্গ নেই।
 

Read more!
Advertisement
Advertisement