
ভয়াবহ বিস্ফোরণে কার্যত ধ্বংস হয়ে গেল বারুইপুরের তৃণমূল নেতা দ্বিজেন মণ্ডলের বাড়ি। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে এই ভয়াবহ বিস্ফোরণকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আজ অর্থাত্ শুক্রবার বারুইপুরে লালপোল এলাকায় তৃণমূল নেতা দ্বিজেন মণ্ডলের বাড়িতে আচমকা বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল, বাড়িটির একতলা কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আশপাশের বেশ কয়েকটি বাড়িও। ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়ালেও এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ভয়াবহ বিস্ফোরণে ধ্বংস তৃণমূল নেতার বাড়ি
বিস্ফোরণের খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। প্রাথমিক ভাবে পুলিশের তরফে অনুমান করা হচ্ছে, গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের কারণেই এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, বাড়িটির ভিতরে বিপুল পরিমাণ বোমা বা বিস্ফোরক মজুত করা হয়েছিল। সেই বিস্ফোরক থেকেই বিস্ফোরণ ঘটেছে। স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূল নেতা দ্বিজেন মণ্ডলের বাড়িতে বেআইনি কার্যকলাপ চলছিল। তাঁদের দাবি, এলাকায় বিজেপি কর্মীদের উপর হামলা চালানোর উদ্দেশ্যেই ওই বাড়িতে বিস্ফোরক মজুত করা হয়েছিল।
বিস্ফোরণের পরই এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়। তৃণমূল নেতার বাড়িতে বোমা তৈরি ও মজুতের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ দেখান বিজেপি কর্মীরা। তাঁদের দাবি, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে বাড়িতে কী ধরনের বিস্ফোরক ছিল এবং সেগুলি কোথা থেকে এল, তা খতিয়ে দেখতে হবে।
দীর্ঘদিন ধরেই বাড়ি থেকে উধাও ছিলেন ওই তৃণমূল নেতা
পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল ঘিরে দিয়েছে। বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ জানতে ফরেন্সিক দলকে ঘটনাস্থলে ডাকা হয়েছে। বাড়ির ধ্বংসস্তূপ এবং বিস্ফোরণের ধরন পরীক্ষা করে দেখবেন ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা। বাড়ির ভিতরে সত্যিই কোনও বোমা বা বিস্ফোরক মজুত ছিল কি না, থাকলে কী ধরনের বিস্ফোরক ছিল, সেই বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আরও একটি তথ্য সামনে এসেছে যে, রাজ্যে পালাবদলের পরে বেশ কিছুদিন ধরে এই তৃণমূল নেতা বাড়িতে থাকছিলেন না। কাজেই ফাঁকা বাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে উঠে এসেছে। কারণ, তৃণমূল নেতা-সহ তাঁর বাড়ির লোকজন বেশ কিছুদিন ধরে এই বাড়িতে থাকছিলেন না।
পুলিশের তদন্তের পাশাপাশি রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। বিস্ফোরণের ঘটনায় এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। পুরো ঘটনার নেপথ্যে কী রয়েছে, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্পষ্ট হবে না। আপাতত বিস্ফোরণের সঠিক কারণ এবং বাড়িতে বিস্ফোরক মজুত থাকার অভিযোগ, দুই দিকই খতিয়ে দেখছে পুলিশ।