
ক্যানিং পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ক পরেশরাম দাস ভবানী ভবেন সোমবার হাজিরা দিলেন। তার আগে অবশ্য ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্টে সকলের নজর কাড়লেন ক্যানিং পশ্চিমের বিধায়ক। সোমবার সকালে তিনি পোস্ট করেন, ‘আলবিদা ক্যানিং, ফিরে দেখা হবে, কথা হবে।’ আর সেই পোস্টের কিছুক্ষণের মধ্যেই ভবানী ভবনে CID দফতরে হাজিরা দেন পরেশ। ফলে বিধায়কের এই বিদায়ী বার্তার নেপথ্যে কী কারণ, তা নিয়েই এখন রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। বিশেষ করে CID-এর জিজ্ঞাসাবাদের মুখে দাঁড়িয়ে এমন পোস্ট কেন, সেই প্রশ্নও উঠছে। গ্রেফতারির আশঙ্কা থেকেই তৃণমূল বিধায়ক ফেসবুকে এমন মন্তব্য করলেন কি না, তা নিয়েই ক্যানিং জুড়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে৷
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচন ঘিরে অশান্তির অভিযোগ উঠেছিল। সেই সময় গুলি চালানোর ঘটনাও ঘটে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে খুনের চেষ্টার ধারায় মামলা রুজু হয়। পরবর্তীতে তদন্তভার হাতে নেয় CID। সেই মামলাতেই ক্যানিং পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ক পরেশরাম দাসকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করে CID। এর আগে এই মালায় বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
এরআগে তিন তিনবার সিআইডির ডাকে হাজিরা দেননি পরেশরাম দাস৷ শেষ পর্যন্ত আজ, সোমবার ভবানী ভবনে আসেন ক্যানিং পশ্চিমের বিধায়ক পরেশ রাম দাস। জানা যাচ্ছে, ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে বিরোধীদের মনোনয়নে বাধা দিতে মারধর, হামলার অভিযোগে ক্যানিং থানায় দায়ের হওয়া মামলাতেই পরেশরামকে তলব করে সিআইডি। কিন্তু অতি বর্ষার কারণে এলাকার মানুষের পাশে থাকা, বিধানসভার অধিবেশন চলা এবং চিকিৎসার জন্য চেন্নাই যাওয়ার মতো কারণ দেখিয়ে তিন তিনবার সেই হাজিরা এড়ান পরেশ। তবে এবার সিআইডি-র তদন্তে সহযোগিতা করতে চেয়েই তাঁদেরকে চিঠি দেন পরেশ। গত ১৭ সেপ্টেম্বর সিআইডি-কে চিঠি দিয়ে পরেশরাম দাস জানান, তিনি চেন্নাই থেকে ফিরেছেন এবং হাজিরা দিতে তৈরি। আইন মেনে যখনই প্রয়োজন হবে, তদন্তকারী অফিসারের সামনে হাজির হতে তিনি ইচ্ছুক। তাঁর আগের অনুপস্থিতি অনিচ্ছাকৃত এবং কোনওভাবেই তদন্তে বাধা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ছিল না বলেও সিআইডি-কে জানান পরেশরাম। প্রসঙ্গত, তৃণমূলে ভাঙনের পরেও মমতা শিবিরেই রয়েছেন পরেশরাম দাস৷
সোমবার ভবানী ভবনে তাঁর হাজিরার সময় নির্ধারিত ছিল দুপুর ১২টা। কিন্তু বেলা ১১.৩০ নাগাদই পৌঁছে যান বিধায়ক। সকালে মন্দিরে পুজো দিয়েই CID দফতরে যান পরেশরাম দাস। সিআইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, ক্যানিংয়ে অশান্তির ঘটনায় পরেশরামের বিরুদ্ধে বেশ কিছু তথ্যপ্রমাণ তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। সেই সূত্রেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একাধিকবার তলব করা হয়েছিল। এদিন হাজিরা দেওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বেরোনোর আগে পরেশ জানান, অসুস্থতার কারণে চিকিৎসার জন্য চেন্নাই ও বেঙ্গালুরু যেতে হয়েছিল তাঁকে। এরপর গত ৮ সেপ্টেম্বর বিধানসভা অধিবেশন থাকায় তিনি হাজিরা দিতে পারেননি। হাজিরার জন্য নির্ধারিত অন্য একটি দিনে এলাকায় বৃষ্টির কারণে বেরোতে পারেননি বাড়ি থেকে। সাধারণ মানুষকে ত্রিপল বিলির কাজেও ব্যস্ত ছিলেন বলেও জানান পরেশরাম।