
পশ্চিমবঙ্গে বৃষ্টি কমলেও পুরোপুরি বিদায় নিচ্ছে না বর্ষা! ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি জেলাগুলিতে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকছে। দক্ষিণবঙ্গেও বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টি হতে পারে। তবে আগের দিনের তুলনায় বৃষ্টির দাপট কমার ইঙ্গিত মিলছে। একই সময়ে দেশের উত্তর-পশ্চিম ও মধ্যভাগ থেকে ধীরে ধীরে বর্ষা সরে যাওয়ার প্রক্রিয়া এগোচ্ছে।
২৮ সেপ্টেম্বর থেকে কেমন থাকবে বাংলার আবহাওয়া?
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২৮ সেপ্টেম্বর উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, কালিম্পং-সহ পাহাড়ি এলাকায় আকাশ মূলত মেঘলা থাকতে পারে। দার্জিলিংয়ে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কালিম্পংয়েও হালকা বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। তবে এই সময়ে কোনও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি নেই।
২৯ সেপ্টেম্বরও উত্তরবঙ্গের পাহাড়ে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দার্জিলিংয়ে হালকা বৃষ্টি চলতে পারে। কালিম্পংয়ে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকার পাশাপাশি বজ্রপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। ৩০ সেপ্টেম্বর দার্জিলিংয়ে ফের হালকা বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
দক্ষিণবঙ্গে কী হবে?
দক্ষিণবঙ্গে ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে বৃষ্টির তীব্রতা অনেকটাই কমার সম্ভাবনা। কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় মেঘলা বা আংশিক মেঘলা আকাশ থাকতে পারে। কলকাতার জন্য ২৮ সেপ্টেম্বর হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রাখা হয়েছে, যদিও কোনও সতর্কতা নেই। ২৯ ও ৩০ সেপ্টেম্বরও বজ্রপাতের সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
তবে দক্ষিণবঙ্গের সব জায়গায় একই রকম আবহাওয়া থাকবে না। কিছু জেলায় স্থানীয় মেঘ সঞ্চয়ের কারণে আচমকা বৃষ্টি হতে পারে। ফলে পুজোর আগে বৃষ্টির হাত থেকে পুরোপুরি রেহাই মিলছে, এমনটা এখনই বলা যাচ্ছে না।
কেন এখনও বৃষ্টির সম্ভাবনা?
পশ্চিমবঙ্গে গত কয়েক দিনে যে বৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তার পিছনে সক্রিয় মৌসুমি বায়ু এবং মধ্য ভারতের আবহাওয়া ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। উত্তর-পূর্ব মধ্যপ্রদেশ ও সংলগ্ন উত্তর ছত্তিশগড়ের গভীর নিম্নচাপের প্রভাবেও বৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছিল।
তবে এখন সেই পরিস্থিতি ধীরে ধীরে দুর্বল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণও কমার সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তর ভারতের দিকে পশ্চিমী ঝঞ্জার প্রভাবেও মেঘের বিন্যাস বদলেছে। INSAT-3DS উপগ্রহের ২৩ ও ২৭ সেপ্টেম্বরের ছবিতেও দেশের উত্তর-পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলে মেঘের পরিমাণ কমতে দেখা গিয়েছে।
বর্ষা কি বিদায়ের পথে?
হ্যাঁ, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু এখন ধীরে ধীরে ভারত থেকে সরে যাওয়ার শেষ পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। উত্তর-পশ্চিম ভারতে বর্ষা বিদায়ের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে এবং তা ধীরে ধীরে মধ্য ও পূর্ব ভারতের দিকে এগোচ্ছে।
তবে ২৯ সেপ্টেম্বরকে দেশের বিভিন্ন অংশে তুলনামূলক শুষ্ক আবহাওয়ার দিকে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে দেখা হচ্ছে। কিন্তু বর্ষা পুরোপুরি বিদায় নেওয়ার কোনও নির্দিষ্ট দিন নেই। বৃষ্টি কমা, বাতাসের গতিপথ বদল এবং বাতাসে আর্দ্রতা কমার মতো একাধিক বিষয় দেখে মৌসুমি বায়ুর প্রত্যাহার ঘোষণা করে IMD।
আর বর্ষা বিদায় নিলেও পশ্চিমবঙ্গের মতো পূর্ব ভারতের রাজ্যে স্থানীয় আবহাওয়া ব্যবস্থার প্রভাবে বৃষ্টি হতে পারে। ফলে আগামী কয়েক দিন বাংলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হচ্ছে না। তবে পুজোর সময় পর্যন্ত বর্ষা থাকবে কি না তা এখনই বলা সম্ভব নয়।