
রেজিনগর আর নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনের ফলপ্রকাশ। দুই কেন্দ্রেই জয় বিজেপির। নন্দীগ্রামে গত বিধানসভা ভোটে জিতেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। রেজিনগর হেরেছিল তারা। সেই রেজিনগরও এবার বিজেপির দখলে। উপনির্বাচনে ফলের বিশ্লেষণ করলে এটা বড় খবর নয়। বড় খবরটা হল, তৃণমূলের দুই গোষ্ঠী কত ভোট পেল? আর গত ৬ মাসে বিরোধী পরিসরে কী বদলের ইঙ্গিত দিল?
পাঠকদের নিশ্চয়ই মনে আছে, উপনির্বাচনের আগে 'তৃণমূল' নাম আর 'নিশান' নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে চলেছিল দড়ি টানাটানি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি নির্বাচন কমিশন। আপাতত তাই তৃণমূল নাম ও প্রতীক ব্যবহারের অনুমতি মেলেনি। ফলে উপনির্বাচনে মমতাপন্থী তৃণমূল পায় মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস। আর ফুটবল খেলোয়াড় প্রতীক। অন্যদিকে, ঋতব্রতগোষ্ঠী পায় গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস নাম। প্রতীক খাম। নন্দীগ্রামে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন মমতা তৃণমূলের প্রার্থী। কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থন দেন মমতা। রেজিনগরেও মমতা তৃণমূলের প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী প্রথমে বেঁকে বসেও পরে ভোটে লড়েন। তো এই হল উপনির্বাচনের আগের ঘটনাক্রম।
উপনির্বাচনে দেখা গেল, তৃণমূলের দুই গোষ্ঠী ন্যূনতম লড়াই দিতেও ব্যর্থ। রেজিনগরে প্রথম তিনেই নেই তারা। সেখানে ৩৩৩৩৬ ভোট পেয়ে বিজেপি প্রার্থীর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আম জনতা উন্নয়ন পার্টির গোলাম নবি আজাদ। তৃতীয় কংগ্রেসের আবদুল্লাহিল কাফি। ৩৭৮৫ ভোট পেয়েছেন। আর চতুর্থ মমতা তৃণমূলের রবিউল। পেয়েছেন ৩১২৩টি ভোট। পঞ্চমস্থানে সিপিএম প্রার্থী। আর ১৩৯০ ভোট পেয়ে ষষ্ঠ ঋতব্রত গোষ্ঠীর সাফিউজ্জামান শেখ।
এবার আসা যাক, ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের পরিসংখ্যানে। হুমায়ুন কবীর ১,২৩,৫৩৬ ভোট পেয়ে জমিতেছিলেন রেজিনগরে। তারপর বিজেপির বাপন ঘোষ পান ৬৪,৬৬০ ভোট। আর তৃণমূলের আতাউর রহমান ৪৭,৭১৮ ভোট। ভোটের ফারাকটা দেখলেই বুঝতে পারবেন, ঠিক কী হাল হয়েছে ৬ মাস আগেও রাজ্যের ক্ষমতায় থাকা তৃণমূলের।
চোখ রাখা যাক নন্দীগ্রামে। শুভেন্দু অধিকারীর গড়। উপনির্বাচনের আগেই অ্যাডভান্টেজ ছিল বিজেপির। সেখানে মমতা তৃণমূল নেই। ঋতব্রত গোষ্ঠী পেয়েছে ৭৯৯ ভোট। পঞ্চম স্থানে। নন্দীগ্রামে বিধানসভা ভোটের ফল কী ছিল? শুভেন্দু অধিকারী পেয়েছিলেন ১২৭৩০১ ভোট। আর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পবিত্র কর ১১৭৬৩৬ ভোট পেয়েছিলেন। তৃণমূল ছিল দ্বিতীয়স্থানে। ৬ মাস পর সেখানে তৃণমূল নেই। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেসের মিলন প্রধান। একটা ছোট্ট পরিসংখ্যান দিলে বিষয়টা পাঠকদের কাছে আরও স্পষ্ট হবে। বিধানসভা ভোটে কংগ্রেস পেয়েছিল মাত্র ৭৯৪ ভোট।
নন্দীগ্রামে দ্বিতীয়স্থানে কংগ্রেস। আর রেজিনগরে তৃতীয়। তাহলে কি বিরোধী পরিসর চলে যাচ্ছে কংগ্রেসের হাতে? রাজনৈতির বিশ্লেষকরা বলছেন, এমন সরল সমীকরণে এখনই আসার মতো সময় হয়নি। কারণ নন্দীগ্রামে কংগ্রেসকে সমর্থন দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর রেজিনগরে কংগ্রেসের ভোট বাড়লেও তা সামান্যই।
কংগ্রেস নেতা সুমন রায়চৌধুরী ফোনে বলেন,'বাংলার মানুষ বুঝে গিয়েছেন, বিজেপির বিনাশকারী অর্থনীতি এবং সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিরুদ্ধে লড়াই করতে গেলে রাহুল গান্ধীর পাশে থাকতে হবে। আর কোনও বিকল্প নেই বাংলায়। শুভঙ্কর সরকারের নেতৃত্বেই আগামী দিনে লড়াই হবে। নন্দীগ্রাম, রেজিনগরে ভোটলুঠের পরেও যেভাবে কংগ্রেস উঠে এল, তাতে প্রমাণ হল ভবিষ্যতে আমরাই বিকল্প'।
ঋতব্রত গোষ্ঠীর একাধিক নেতাকে ফোন করেছিল বাংলা ডট আজতক ডট ইন। ফোন বেজে গিয়েছে। এক যুব নেতা প্রতিক্রিয়া দিতে চাননি। ফোনে বিষয়বস্তু শুনেই বললেন,'এ ব্যাপারে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ই প্রতিক্রিয়া দেবেন'।